মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১৩ অপরাহ্ন

রিফাত হত্যার এক বছর: ন্যায় বিচার নিয়ে আশাবাদী পরিবার

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২০
  • ১০৪ জন নিউজটি পড়েছেন

বহুল আলোচিত বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যাকান্ডের এক বছর পূর্ণ হলো শুক্রবার। গত বছরের এই দিনে সকালে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্যে রিফাতকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে কিশোর গ্যাং বন্ড বাহিনী। এরপর বিকেলেই বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রিফাত।

রিফাতের মৃত্যুর একদিন পর ২৭ জুন তার বাবা মো. আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ছেলে হত্যার অভিযোগে ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১২-১৩ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দ্রুত গতিতে এ মামলার বিচার কাজ চলমান থাকলেও দেশে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে আদালত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় থেমে আছে বিচার কাজ। এ ছাড়াও রিফাত হত্যাকান্ডের পর থেকেই এখনও পলাতক রয়েছে এ মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ৬ নম্বর আসামি মো. মুসা বন্ড।

এদিকে রিফাতের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে তার বন্ধুরা। নিহত রিফাতের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে পারিবারিকভাবেও। এছাড়াও স্বল্প পরিসরে দোয়ার আয়োজন করেছেন রিফাতের শ্বশুর মো. মোজাম্মেল হোসেন কিশোরও।

আরও পড়ুন: উখিয়ায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৪ ডাকাত নিহত

এদিকে প্রায় শেষ পর্যায়ে মামলার বিচারকাজ থেমে থাকা নিয়ে নিহত রিফাতের বাবা ও মামলার বাদি মো. আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বলেন, বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার কারণে আমার ছেলে হত্যার বিচারকাজ থেমে আছে। আমি আশা করি খুব দ্রুত আবার আদালতের কার্যক্রম শুরু হবে।

ছেলে হত্যার ন্যায় বিচার চেয়ে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সরকার এ হত্যাকান্ডে জড়িতদের গ্রেফতার এবং দ্রুত বিচারকাজ স¤পন্ন করার জন্য যথেষ্ট আন্তরিক ছিল বলে রিফাত হত্যা মামলার বিচারকাজ দ্রুত স¤পন্ন হওয়ার পথে।

রিফাতের মা ডেইজি বেগম বলেন, রিফাতের জন্মের পর আমি ওকে ছাড়া কোথাও গিয়ে থাকিনি। আজ এক বছর হলো রিফাত নেই। রিফাত মারা যাওয়ার পর আমরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার কারণে আমাদের উপার্জনে চরম ব্যাঘাত ঘটেছে। যার কারণে আমাদের চিকিৎসাও হচ্ছে না। এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আমাদের মেয়েটাকে যদি তিনি (প্রধানমন্ত্রী) একটি চাকরি দিতেন, তাহলে আমাদের ভালো চলতো। অন্তত আমাদের চিকিৎসাটা চলতো।

এ বিষয়ে নিহত রিফাতের একমাত্র বোন ইসরাত জাহান মৌ বলেন, জীবনে এই প্রথম আমার ভাইয়াকে ছাড়া একটি বছর কেটেছে আমার। আমার একটাই আবেদন- আমরা যেন ন্যায় বিচার পাই।

এ বিষয়ে রিফাতের শ্বশুর মো. মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, আমি রিফাতের রুহের মাগফেরাত কামনা করি এবং সকলের কাছে রিফাতের জন্য দোয়া চাই। এ মামলায় তিনি ন্যায় বিচার পাবেন। মিন্নি এ মামলায় নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে খালাস পাবেই।

এ মামলার এখনও পলাতক এক আসামিকে গ্রেফতার প্রসঙ্গে বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শাহজাহান হোসেন বলেন, এ মামলার পলাতক আসামি মুসা বন্ডকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে জেলা নারী ও শিশু আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল বলেন, জেলা নারী ও শিশু আদালতে বিচারাধীন এ মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির মধ্যে সাতজন জামিনে আছে। এছাড়াও এই মামলার ৭৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ৭৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ স¤পন্ন হয়েছে। এখন শুধু মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ বাকি আছে। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে আদালতের কার্যক্রম সীমিত আকারে পরিচালিত হওয়ার কারণে মামলার বিচার কার্যক্রম এখন বন্ধ আছে।

এ বিষয়ে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ভূবন চন্দ্র হাওলাদার বলেন, জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ স¤পন্ন হয়েছে। আর মাত্র তিন-চারটি কার্যদিবস পেলেই প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির মামলার রায় ঘোষণা হবে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English