শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:৫৫ পূর্বাহ্ন

রোজা ফরজ করতে গিয়ে বান্দার যে বিষয়টি খেয়াল রেখেছেন আল্লাহ

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল, ২০২১
  • ৫৪ জন নিউজটি পড়েছেন
গণআজাবের কারণ-২

আল্লাহতায়ালা বলেন, হে ইমানদারগণ! এই সম্বোধনে বড় প্রজ্ঞা ও সজ্জা রয়েছে। রোজা এমন একটি কাজ যা মানুষের সত্তার ওপর কষ্টদায়ক ও কঠিন।

যে কাজ পালন করতে বড় হিম্মতের প্রয়োজন। এর ভিত্তি বানানো হয়েছে ইমানকে। প্রথমে ইমানের আলোচনা করা হয়েছে।

বলা হয়েছে, হে মানবমণ্ডলী! তোমরা যারা ইমান আনয়ন করেছ। আল্লাহর সব বিধানাবলি অকপটে মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছ এবং ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করে নিজের সব কিছু আল্লাহর কাছে সপে দিয়েছ।

ঘোষণা দিয়েছ তিনিই আমাদের মালিক, আমাদের হুকুমদাতা, যে কোনো হুকুম দেওয়ামাত্রই আমরা তা পালনে সচেষ্ট। পার্থিব কোনো লাভ হোক বা লস, স্বাদ লাগুক বা বিষাদ, কঠিন মনে হোক বা সহজ, আদেশ একটি হোক বা দশটি, একবার হোক বা দশবার, বিশবার হোক বা হাজারবার এতে কোনো আপত্তি নেই।

আমরা আল্লাহর দাসত্ব গ্রহণ করে নিয়েছি। তার প্রতি আনুগত্যের মালা গলায় পরে নিয়েছি। এ কথার ঘোষণাও দিয়েছি যে কোনো হুকুমই আসুক না কেন, তা পালনে শির সদা অবনত থাকবে।
তাই আল্লাহতায়ালার প্রজ্ঞাময় সত্তাই পারেন এভাবে হুকুম জারি করতে। আল্লাহতায়ালা যেহেতু সর্ববিষয়ে হুকুমদাতা, নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের সৃষ্টিকর্তা, জীবনদাতা মৃত্যুদাতা, সব কিছুর নিয়ন্ত্রণ তার হাতে।

তিনি যেভাবে চাইতেন সেভাবেই বলতে পারতেন, যে কোনোভাবে হুকুম দেওয়ার অধিকার তার ছিলো। কিন্তু তিনি তা না করে বললেন, হে ইমানদারগণ! তোমরা যারা ইমান এনেছ। প্রকারান্তরে আল্লাহতায়ালা আমাদের ইমানি শক্তিকে ডাক দিয়েছেন।

ইমানি শক্তিকে জাগ্রত করেছেন। ইমানকে মূলভিত্তি বানিয়েছেন। বলছেন, হে মানব! তোমরা যারা ইমান এনেছ, (একথার প্রতিজ্ঞা যে, হুকুমই আসুক আমরা তা মেনে নিতে প্রস্তুত। ) ‘তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে। যেমনভাবে তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতের ওপর ফরজ করা হয়েছিলো। ’

আল্লাহতায়ালা মানুষের সেই স্বভাবের প্রতি পূর্ণ লক্ষ্য রাখেন, যা তাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন। কোনো প্রকার চাপ সৃষ্টি করে নয়; বরং যখনই কোনো কিছুর হুকুম দেন, তখন প্রথমে স্বীয় প্রজ্ঞা ও রহমত দিয়ে পরিবেশ তৈরি করেন। যেন মানুষ সেটিকে খুব সহজেই মেনে নিতে পারে।

কেননা মানুষের স্বভাবজাত অভ্যাস হলো— যে বস্তু তার কাছে অপরিচিত মনে হয় সে বস্তুতে ঘাবড়িয়ে যায়। আঁতকে ওঠে। কিন্তু যখন তার জানা থাকে যে, এমনটি মানুষ যুগ যুগ ধরে পালন করে আসছে। তখন স্বাচ্ছন্দ্যে মেনে নিয়ে তা পালন করে।

খুব সহজেই আনুগত্য স্বীকার করে নেয়। ‘তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে। যেমনভাবে তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতের ওপর ফরজ করা হয়েছিলো। ’

সুতরাং পৃথিবীর বিভিন্ন ধর্মতত্ত্ব ও নৈতিকতার ইতিহাস থেকে, বিভিন্ন গোত্র ও দেশের সভ্যতা সংস্কৃতির ইতিহাসের মাধ্যমে এ কথা প্রমাণিত হয় যে কোনোরূপেই হোক না কেন প্রত্যেক ধর্মে রোজার বিধান ছিল।

তার কি রূপ ও সংখ্যা ছিল তা ধর্মীয় গ্রন্থসমূহে বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে। সময় কী ছিল? সূচনা কখন হয়েছিল? কী কী অনুশাসন ছিল? এটি সম্পূর্ণ ইতিহাসগত জ্ঞানগর্ব বিষয়। যার আলোচনার অবকাশ এখানে নেই।

রমজান আওর উস্ কে তাকাযে অবলম্বনে- আশরাফ আলম কাসেমী নদভী

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English