শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৫ অপরাহ্ন

লিজ নেওয়া দুই মিসরীয় বিমানে ক্ষতি ১১০০ কোটি টাকা

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২০
  • ৪৪ জন নিউজটি পড়েছেন

পাঁচ বছর আগে দুই মিসরীয় বিমান (ইজিপ্ট এয়ার থেকে লিজ নেওয়া বোয়িং ৭৭৭-২০০) উড়োজাহাজের পেছনে বাংলাদেশ বিমানের ক্ষতি হয়েছে ১১০০ কোটি টাকা। রোববার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকের কার্যপত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

কমিটির সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, তানভীর ইমাম, আশেক উল্লাহ রফিক এবং সৈয়দা রুবিনা আক্তার বৈঠকে অংশ নেন।

বৈঠক সূত্র জানায়, গত মাসে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনার পর রোববারের বৈঠকে কার্যবিবরণী পাস হয়। ওই কার্যবিবরণীতে বলা হয়, ওই দুটি উড়োজাহাজে প্রতি মাসে বিমান ১১ কোটি টাকা করে ভর্তুকি দিয়ে আসছিল। দায়দেনা পরিশোধ করে লিজ বাতিলের মধ্য দিয়ে গত মার্চ মাস থেকে বিমান মুক্তি পায়। এই বিমান দুটি চালিয়ে রাজস্ব আদায় হয়েছিল দুই হাজার ২০০ কোটি টাকা। আর ওই দুটি বিমানের পেছনে খরচ হয় তিন হাজার ৩০০ কোটি টাকা।

বিমান সূত্র জানায়, পাঁচ বছরের চুক্তিতে ইজিপ্ট এয়ার থেকে দুটি উড়োজাহাজ বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর লিজ নেয় বিমান। এর একটি বিমানের বহরে যুক্ত হয় ২০১৪ সালের মার্চে এবং অন্যটি ওই বছরের মে মাসে। পরের বছর ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফ্লাইট পরিচালনার পর একটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। উড়োজাহাজটি সচল রাখতে ইজিপ্ট এয়ার থেকেই আরেকটি ইঞ্জিন ভাড়ায় আনা হয়। এর দেড় বছরের মাথায় নষ্ট হয় বাকি ইঞ্জিনটিও। ইঞ্জিন মেরামত করতে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়। তবে কোনো সময় নির্দিষ্ট করে না দেওয়ার ফলে লিজ নেওয়া প্রতিষ্ঠান ও মেরামতকারী প্রতিষ্ঠান উভয়কেই অর্থ দিতে হয় বিমানকে। লিজ এনে বিমান ফেলে রাখার কারণে বড় অঙ্কের ক্ষতির মুখোমুখি হতে হয় বিমানকে। বিষয়টি নিয়ে দশম সংসদের সংসদীয় কমিটি বারবার লিজ বাতিলের সুপারিশ করলেও তা কার্যকর হয়নি তখন। সর্বশেষ দায়দেনা প্রতিশোধের মাধ্যমে গত মার্চে লিজ বাতিল করা হয়।

গত ৩ সেপ্টেম্বর সংসদীয় কমিটির ওই বৈঠকে বিমান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মহিবুল হক বলেন, বিমান এই লিজ সংস্কৃতি থেকে একেবারে বেরিয়ে আসতে চাইছে। এ বছরে নতুন তিনটি ড্যাশ-৮ বিমান আসার কথা ছিল। এর মধ্যে দুটি এ বছরের মধ্যে বিমান বহরে যুক্ত হবে আর একটি আগামী জানুয়ারিতে বিমান বহরে যুক্ত হবে বলে আশা করা যায়। এ বিমানগুলো ২৪ মিলিয়ন ডলার দিয়ে কেনা হয়েছে।

ওই বৈঠকে কমিটির সদস্য সৈয়দা রুবিনা আক্তার বলেন, বিমানের লিজ প্রক্রিয়াটি তার কাছে স্পষ্ট নয়। এই প্রক্রিয়ার সময় বিষয়টি নিয়ে সংসদীয় কমিটিতে আলোচনা করার প্রয়োজন ছিল।

বৈঠকে জানানো হয়, জুলাই মাসে বিমান ১৮৫ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করেছে। তার আগের মাসে আয় ছিল ১৬৯ কোটি টাকার মতো। কভিড-১৯ মহামারিতে বিমান কোনো কর্মাচারী ছাঁটাই করেনি। তবে বেতন কিছুটা কাটছাঁট করে সবাইকে ধরে রাখা হয়েছে। কয়েক বছর আগে কয়েকটি নতুন এয়ারক্রাফট ক্রয় করা হয়েছিল। এত কিছুর পরও বিমান এ সময়ে সবগুলো কিস্তি পরিশোধ করেছে।

এ ছাড়া বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য বিমান সরকারের কাছ থেকে এক হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল, যার মধ্যে মাত্র ৩০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে, বাকি টাকা খরচ হবে না।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English