শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:৪৪ অপরাহ্ন

শিশুর নৈতিক ভিত্তি তৈরি হয় মক্তবে

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিতঃ শুক্রবার, ১১ জুন, ২০২১
  • ৫৫ জন নিউজটি পড়েছেন
ইসলাম

মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত বা সৃষ্টির সেরা জীব। মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের মূলে রয়েছে শিক্ষা। মানুষ শিক্ষার মাধ্যমে নিজেকে মানুষ হিসাবে উপযুক্ত করে তোলে।

আর এ শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে মক্তবের অবদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ‘মাকতাব’ আরবি শব্দ। এর অর্থ- লেখা-পড়ার স্থান, শিক্ষাকেন্দ্র, বিদ্যালয় ইত্যাদি। সাধারণত মক্তব বলতে আমরা কুরআন শিক্ষার স্থানকে বুঝি। যেখানে ইসলামের প্রাথমিক, মৌলিক ও অতীব প্রয়োজনীয় শিক্ষা দেওয়া হয়।

মুসলিম সমাজে মক্তব শিক্ষা হাজার হাজার বছরের ঐতিহ্য। ইসলামের ইতিহাসের প্রথম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মক্তব যার সূচনা হয় হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর হাত ধরে। আর প্রথম শিক্ষক হলেন প্রিয়নবী (সা.)।

ইসলামের মূল গ্রন্থ কুরআন ও হাদিসের প্রাথমিক পাঠদান করা হয় এ মক্তবে। এ মক্তবে ইবাদত বন্দেগি, অজু-গোসল, সালাত-সাওম পালনের শিক্ষা দেওয়া হয়। মক্তব ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক জীবনেও খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

যেমন-আদব-কায়দা, শিষ্টাচার, সভ্যতা, ভদ্রতা, সৌজন্যতা, নম্রতা, বড়দের শ্রদ্ধা, ছোটদের স্নেহ করার শিক্ষা দেওয়া হয়। এ ছাড়া হালাল হারাম, পাক-পবিত্রতা ইত্যাদি প্রয়োজনীয় বিষয়াদি খুব সহজে শিক্ষা দেওয়া হয়। ইসলামের প্রথম দিকে শিশু-কিশোর, যুবক বৃদ্ধ সব বয়সের সবাই জ্ঞান আহরণ করতেন। ফলে মুসলিম বিশ্বের সর্বত্রই মসজিদের সঙ্গে মক্তব, পাঠাগার এবং গবেষণাগার গড়ে উঠেছিল। সময়ের প্ররিক্রমায় আজ এটা শুধু শিশুদের শিক্ষাদান পর্যন্ত এসে ঠেকেছে।

মুসলিম শিশু শিক্ষার প্রাথমিক ভিত্তি হলো মক্তব শিক্ষা। শৈশবে পিতা-মাতার পর মক্তব থেকে শিক্ষা লাভ করার মাধ্যমে শিশুর প্রাথমিক শিক্ষার ধার উন্মোচিত হয়। মক্তব মসজিদকেন্দ্রিক হওয়াতে নির্ভয়ে ও নিঃসংকোচে ধনী-গরিব সবাই সেখানে লেখাপড়ার সুযোগ পায়।

মক্তব শিক্ষা শিশুর নৈতিক ভিত্তি তৈরি করে দেয়। আমাদের জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় আদর্শ ও নৈতিকতার দিকটি দুর্বল হওয়ায় আমরা প্রতিনিয়ত এর মারাত্মক পরিণতি দেখছি। মক্তবে পড়ুয়া শিশু বড় হয়ে অন্যায়-অপরাধ ও দেশ-সমাজবিরোধী কাজে লিপ্ত হয় না। কারণ মক্তব থেকেই তার ভেতরে স্রষ্টার ভয় সৃষ্টি করে দেওয়া হয়। নৈতিক বোধ জাগ্রত করে দেওয়া হয়।

কুরআন ও হাদিসের জ্ঞনার্জন করা প্রত্যেকের ওপরই ফরজ। আর মক্তব বিশুদ্ধ কুরআন ও হাদিসের শিক্ষাই দেওয়া হয়। নবী করিম (সা.) বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই উত্তম যে নিজে কুরআন শিখে এবং অপরকে শিক্ষা দেয়’

মক্তব গণশিক্ষার শক্তিশালী একটি মাধ্যম হলেও বর্তমানে মসজিদকেন্দ্রিক এ শিক্ষা বিলুপ্তির পথে। মফস্বলে এ শিক্ষাধারা কোনো রকম ঠিকে থাকলেও শহর অঞ্চলে এর প্রচলন ক্রমেই উঠে যাচ্ছে। অতি আধুনিক মনোভাবের কারণে অনেকে তার সন্তানকে এখন আর মক্তবে দিতে চান না।

ফলে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতা শিক্ষা থেকে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বঞ্চিত থেকে যাচ্ছে। সমাজে কিশোর গ্যাং-এর মতো অপরাধী চক্র তৈরি হচ্ছে। মাদক, টিকটক, পাবজী ইত্যাদির মতো জীবন বিনাশী খেলায় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে আমাদের সব আশা ও স্বপ্ন। সময়ের প্রয়োজনে ব্যক্তি, সামাজ ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে মক্তব শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

লেখক : শিক্ষার্থী, ইংরেজি বিভাগ, ঢাকা কলেজ, ঢাকা

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English