বিষয়টা অবিশ্বাস্য ঠেকছে সাউদাম্পটন বস র্যালফ হ্যাসেনহুটেলের কাছে। এভাবে তার দল প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে যাওয়ায় কিছুটা ভড়কেই গেছেন তিনি। সচরাচর তো এমন অভিজ্ঞতা হয় না তাদের। সেই ১৯৮৮ সালে সর্বশেষ পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠেছিল সাউদাম্পটন। ৩২ বছর পর শুক্রবার রাতে তাদের আবার সেই অভিজ্ঞতা হয়েছে নিউক্যাসেলকে ২-০ গোলে হারানোর পর।
আট ম্যাচে তাদের পয়েন্ট লিভারপুলের সমান ১৬ হলেও গোল পার্থক্যে শীর্ষে উঠে গেছে তারা। অবশ্য আজকের মহারণে লিভারপুল জিততে পারলে শীর্ষস্থান হারাবে তারা। তবে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে জেতাটা এত সহজ হবে না লিভারপুলের জন্য। বরং নিজেদের মাঠে সিটির সম্ভাবনাই বেশি। আজ ইত্তেহাদে চ্যাম্পিয়নরা জিততে না পারলে সাউদাম্পটনের শীর্ষে অবস্থানের মেয়াদটা আরও লম্বা হবে।
সাম্প্রতিক সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সিটি বস পেপ গার্দিওলা ম্যানসিটি-লিভারপুল লড়াইকে আমেরিকার নির্বাচনের সঙ্গে তুলনা করেছেন। রোববার সন্ধ্যায় হতে যাওয়া এই মাচের প্রভাব ট্রাম্প-বাইডেনের নির্বাচনের মতো লম্বা সময়জুড়ে থাকবে বলেই এমন তুলনা করেছেন গার্দিওলা। এমনকি ডেমোক্র্যাট প্রার্থী বাইডেনের সুরে সুর মিলিয়ে তিনি বলেছেন, প্রতিটি ভোট অবশ্যই গণনা করতে হবে!
গত তিন বছর ধরে প্রিমিয়ার লিগে এই দুই ক্লাবেরই দাপট চলছে। গত মৌসুমে লিভারপুল শিরোপা জিতেছে, আগের দুই আসরে তাদের হটিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ম্যানসিটি। তাই এই দুই দলের লড়াই এখন প্রিমিয়ার লিগের সবচেয়ে বড় ম্যাচ। সে যাই হোক, এবার সিটির শুরুটা ভালো হয়নি। এখন পর্যন্ত লিগে ছয় ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে দশম স্থানে আছে তারা। তবে গার্দিওলার বিশ্বাস, শিগগিরই ঘুরে দাঁড়াবেন তারা।
লম্বা সময় ধরে লড়াইয়ের প্রসঙ্গেই শুক্রবার এই ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ম্যাচ। কিন্তু আমেরিকার নির্বাচনে যেমন সব ভোট গণনার দাবি উঠেছে, এখানেও অনেক পয়েন্টের জন্য লড়াই করতে হবে।’ আজকের এই লড়াইয়ে লিভারপুলের সবচেয়ে বড় চিন্তা রক্ষণভাগ নিয়ে। ভার্জিল ফন ডাইক চোটের কারণে লম্বা সময়ের জন্য ছিটকে যাওয়ার পর অলরেডদের রক্ষণ বেশ নড়েবড়ে হয়ে গেছে। জোয়েল মাতিপও পুরোপুরি ফিট নন। জো গোমেজের সঙ্গে তরুণ ন্যাট ফিলিপসকে দিয়ে কাজ চালাচ্ছেন লিভারপুল বস ইয়ুর্গেন ক্লপ।