রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:১৫ পূর্বাহ্ন

স্বজনপ্রীতি ও ইসলাম

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২০
  • ৫১ জন নিউজটি পড়েছেন

স্বজনপ্রীতি আমাদের সমাজে একটি মরণব্যাধির রূপ ধারণ করেছে। চাকরি, ব্যবসা, রাজনীতি, প্রশাসন, সর্বত্রই ছড়িয়ে পড়েছে এ স্বজনপ্রীতি। এটি ধ্বংস করে দিয়েছে ন্যায়বিচার, ন্যায়নীতি ও নিরপেক্ষতার আদর্শকে।
আমরা যে যেই দায়িত্বে থাকি চেষ্টা করি, নিজেদের আত্মীয়-স্বজন বা পরিচিতদের একটু প্রাধান্য দিতে, একটু সুযোগ-সুবিধা দিতে। যা মোটেও কাম্য নয়। দুর্নীতির অন্যতম কারণও এই স্বজনপ্রীতি। ইসলাম সর্বক্ষেত্রেই স্বজনপ্রীতি থেকে দূরে থেকে ন্যায়নীতি গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছে। মহান আল্লøাহ তায়ালা বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা ন্যায়বিচারে দৃঢ় প্রতিষ্ঠিত থাকবে আল্লাহর সাক্ষী স্বরূপ; যদিও তা তোমাদের নিজেদের অথবা মা-বাবা এবং আত্মীয়-স্বজনদের বিরুদ্ধে হয়।’ (সূরা নিসা : ১৩৫)
প্রিয় নবী সা: ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি স্বজনপ্রীতির প্রতি লোকদের ডাকে, নিজেও স্বজনপ্রীতি করতে গিয়ে যুদ্ধ করে এবং স্বজনপ্রীতির সমর্থনে মারা যায়, সে ব্যক্তি আমাদের দলভুক্ত নয়।’ (সুনানে আবু দাউদ-৫১২১) এই আয়াত ও হাদিস থেকে পরিষ্কার বোঝা যায়, মুসলমান স্বজনপ্রীতি করতে পারে না। নিজের দলীয় লোকজন, পরিচিতজন বা আপনজনকে অন্যের ওপর প্রাধান্য দিতে পারে না। মানুষের অভ্যাস হলো, নিজের লোকজন কোনো বড় অন্যায় করলেও তা চোখে পড়ে না। ধরা পড়লেও তেমন অপরাধ মনে হয় না। তাই এর বিচারও হয় না।
কিন্তু অন্য কেউ ছোটখাটো অন্যায় করলেও তা অনেক বড় মনে হয়। তার বিচার করার জন্য উঠে পড়ে লেগে যায়। করতে চায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা। এ জন্যই রাসূল সা: বলেন, ‘বস্তুর প্রতি ভালোবাসা তোমাকে বিবেচনাহীন করে দিতে পারে।’ অর্থাৎ যে যাকে ভালোবাসে, সে তার দোষ দেখতে পায় না। (সুনানে আবু দাউদ-৫১৩০)
একবার প্রিয় নবী সা:-এর যুগে এক উচ্চবংশীয় মহিলা চুরির দায়ে অভিযুক্ত হলো। সাহাবায়ে কেরামের কেউ কেউ চাইলেন, উচ্চবংশীয় হওয়ার কারণে তার বিচার মওকুফ করা যায় কি না। শাস্তি থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া যায় কি না। তাই প্রিয় নবী সা:-এর কাছে বিষয়টি বিবেচনার জন্য সুপারিশ করা হলো। আবেদন শুনে তিনি খুব রাগান্বিত হয়ে বললেন, ‘তোমাদের পূর্ববর্তীরা এ জন্য ধ্বংস হয়েছিল যে, যখন তাদের মধ্যে কোনো বিশিষ্ট লোক চুরি করত, তখন তারা বিনাবিচারে তাকে ছেড়ে দিত। কিন্তু যখন কোনো অসহায়-গরিব লোক চুরি করত তখন তার ওপর শাস্তি প্রয়োগ করত। আল্লøাহর কসম, যদি মোহাম্মদের কন্যা ফাতেমাও চুরি করত তাহলে আমি অবশ্যই তার হাত কেটে দিতাম।’ (বুখারি : ৩৪৭৫)
এ স্বজনপ্রীতি বর্বরতা যুগের একটি ঘৃণিত কাজ। রাসূল সা: বলেন, ‘আমার উম্মতের মধ্যে জাহেলি যুগের চারটি কুপ্রথা রয়ে গেছে, যা লোকেরা পরিত্যাগ করতে চাইবে না। ১. বংশের গৌরব; ২. অন্যকে বংশের খোঁটা দেয়া; ৩. নক্ষত্রের মাধ্যমে বৃষ্টির প্রার্থনা করা ও ৪. মৃত ব্যক্তির জন্য বিলাপ করে কান্নাকাটি করা।’ (সহিহ মুসলিম : ২০৪৯)
আল্লøাহ আমাদের স্বজনপ্রীতি বর্জন করার তৌফিক দান করুন।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English