রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:৫৯ অপরাহ্ন

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরেই চাষ হচ্ছে মশার!

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ সোমবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২০
  • ৪৬ জন নিউজটি পড়েছেন

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঢুকতেই হাতের বা পাশে শহীদ ডা. মিলন হল। সামনেই পাকা ড্রেন। সেখানে দীর্ঘদিন পানি জমে আছে। সেই জমা পানিতে দেখা যায় মশার অসংখ্য লার্ভা। একই সাথে উৎপাত রয়েছে বড় মশার। ড্রেনের সামনের ফুলের বাগানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে প্লাস্টিকের পরিত্যক্ত চায়ের কাপ। সেগুলোতেও পানি রয়েছে।

মিলন হলের পাশে মূল ভবন। ভবনটির পেছনের চিত্র রীতিমত ভয়াবহ। মসজিদের পাশ দিয়ে ঢুকতেই দেখা মিলল আবর্জনার স্তুপ। এখানেও ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে প্লাস্টিকের পরিত্যক্ত চায়ের কাপ, পলিথিন, অধিদপ্তরের ভাঙাচোরা ফার্নিচারসহ বিভিন্ন আবর্জনা। দীর্ঘদিন ধরে পরিষ্কার করা হয়নি এখানে জানালেন, অধিদপ্তরের এক কর্মচারী।

এ ছাড়া ভবনটিতে সংস্কার কাজ হচ্ছে। শ্রমিকরা কয়েকদিন ধরে কাজ বন্ধ রেখেছে। তবে রংয়ের খালি কৌটা সরিয়ে নেয়নি। বৃষ্টির পানি জমে সেখানে জন্ম নিয়েছে মশার লার্ভা।

এদিকে, অধিদপ্তরের আঙিনায় বহু পুরনো গাড়ি। একটির পর একটি গাড়ি সাজিয়ে রাখা হয়েছে। কয়েকটি গাড়িতে দেখা মিলল জমা পানি। কিন্তু স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের যেন কোনো নজরই নেই। অথচ তারা মশা এবং মশাবাহিত নানা রোগের বিষয়ে সচেতন করে থাকে মানুষকে। সেই সাথে প্রতিদিনের ডেঙ্গু রোগীর তথ্যও দেওয়া হয় এখান থেকেই। এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ৮৮৫ জন। এরমধ্যে এমাসের ১৫ দিনেই আক্রান্ত ২৫৮ জন। অথচ তাদেরই বেহাল দশা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক গাড়ি চালক জানালেন, মশার উৎপাত ভালোই আছে। বাইরের চেয়ে ভবনের ভেতরে মশা আরো বেশি।

আরেক প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআর। এর ভবনের সামনে নির্মাণ শ্রমিকরা ড্রামে পানি জমা রেখেছেন দীর্ঘদিন ধরে। কাজ শেষ করে যাবার সময় পানি ফেলে যাননি। স্বচ্ছ এই পানি মশা জন্মানোর উপযুক্ত পরিবেশ। আইইডিসিআর ভবনের পাশে একটি পানির ট্যাংক খোলা। সেখানে জমা পানিতে দেখা মিলল অসংখ্য লার্ভা। ভবনের পাশে ফেলে রাখা হয়েছে পুরাতন অসংখ্য গাড়ি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইইডিসিআরের এক নিরাপত্তা কর্মী জানালেন, কয়েকদিন আগে মশা আরো বেশি ছিল। তবে এখন কিছুটা কম। তবে সন্ধ্যার পর কামড়ায়।

যাদের কাজ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত ও সচেতন করা তাদের এমন উদাসীনতাকে গাফিলতি বলছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। ডা. লেনিন চৌধুরী এ বিষয়ে বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে মশা জন্মাচ্ছে এই তথ্য থেকেই আসলে এটা পরিষ্কার যে তারা কাগজে কলমে যেটা বলে বা করে সেটা আসলে তাদের কাজে প্রতিফলিত হয় না। মশা নিয়ন্ত্রণে তাদের আন্তরিকতার জায়গা কিন্তু এর মাধ্যমে পরিষ্কার হয়ে গেছে। অন্যকে কিছু নিষেধ করার আগে নিজেকে শুধরানো উচিত। তাই আমরা চাই যে আমাদের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বা অন্যান্য সরকারি অফিস যারা স্বাস্থ্যের সাথে সরাসরি যুক্ত তারা যেন তাদের আঙিনা পরিস্কার রাখা থেকেই নিজের দায়িত্ব শুরু করে।

জবাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র হাবিবুর রহমান বলেন, আমরা নিয়তিম পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দিয়ে পরিষ্কার করি। তবে যে জায়গাগুলোর কথা বললেন সেই জায়গাগুলো আমাদের চোখ এড়িয়ে গেছে। তবে আমি ইতোমধ্যেই লোক লাগিয়ে দিয়েছি জমাট বাঁধা পানিগুলো অপসারণ করার জন্য এবং পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখব।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এডিশ নিধনে বাসা-বাড়িতে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করছে নগরবাসীকে। সেখানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরেই জন্মাচ্ছে মশা। ডিএনসিসি বলছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে তারা চিঠি দিয়েছে। যেন তারা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি, জমা পানি ফেলে দেয়।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English