দিন দিনে স্বৈরাচারী হয়ে উঠছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ন। আধুনিক তুরস্কের জনক কামাল আতাতুর্ক দেশটিকে যে ধর্ম নিরপেক্ষতার পথ দেখিয়েছিলেন, এর পুরো বিপরীতে হাঁটছেন এরদোয়ান।
একক শাসকের দেশ গড়তে এরদোয়ান এখন পর্যন্ত হাজারো সাংবাদিক, লেখক ও বিপরীত দলের লোকদের গ্রেফতার করে জেলে পাঠিয়েছেন।
এর মধ্যে এরদোয়ান একদিকে নিজেকে যেমন ইসলামের রক্ষক হিসেবে দাবি করছে অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা এবং বালকানসের কয়েক অঞ্চল অস্থিতিশীল করে তুলেছেন।
এরদোয়ানকে ক্ষমতাচ্যুত করার অভিযোগে গত নভেম্বরে ৩৩৭ জন সাবেক পাইলটের জেল হয়েছে। এবং ১৭ জন শীর্ষ জেনারেলের আজীবন কারাদণ্ড হয়েছে। একইসঙ্গে অভ্যুত্থানের প্রচেষ্টায় জড়িত থাকার অভিযোগে দেড় লাখ সরকারি চাকরিজীবিকে চাকরীচ্যুত করা হয়েছে। সেইসঙ্গে উচ্চপদে থাকা প্রায় ২০ হাজার সামরিক লোকদের পদচ্যুত করা হয়েছে।
এছাড়া মিথ্যা অভিযোগে কয়েকশো সাংবাদিক, লেখক ও শিক্ষাবিদসহ কয়েক সহস্রকে বন্দী করেছেন। দেশটির ঐতিহ্যবাহী গণমাধ্যমগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন, বাকস্বাধীনতার ওপর কড়া খড়গ ধরে আছেন। সেইসঙ্গে সামাজিক মাধ্যমগুলোর স্বাধীনতারো টুটি চেপে ধরেছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এরদোয়ানকে ‘বিশ্বমানের দাবা খেলোয়াড়’ হিসেবে উল্লেখ করলেও সদ্য নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গত বছরের জানুয়ারিতে এরদোয়ানকে স্বৈরাচার হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং কুরদিসদের নীতির সমালোচনা করেন।
এনিয়ে বাইডেন বলেছেন, এর কড়া মাশুল দিতে হবে।
তুরস্কের এক সাংবাদিক আহমেদ আলিঅগ্লু বলেছেন, বাইডেন যে মূল্যের কথা উল্লেখ করেছেন টা গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া ইউরোপিয়ান কিছু দেশের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্কে ঝামেলা তৈরি হয়েছে।
একইসঙ্গে রাশিয়ার রাডার টেকনোলোজি ব্যবহার করায় তুরস্ককে সতর্ক করেছে মার্কিন কর্মকর্তারা। বিশেষজ্ঞদের ধারণা তাই আগামী চার বছর বাইডেন প্রশাসন তুরস্কের জন্য ‘ঝামেলা’ হতে যাচ্ছে।