১৯৬১ সাল। ৩০ অক্টোবর। নোভেয়া জেমলিয়া দ্বীপপুঞ্জে বিশ্বের সর্ববৃহৎ পরমাণু বোমার (হাইড্রোজেন বোমা) বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল রাশিয়া। বোমাটিতে ৫ কোটি টন প্রচলিত বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছিল।
বিস্ফোরণের দৃশ্য ধারণের জন্য ভূমিতে স্থাপিত বেশ কিছু ক্যামেরার পাশাপাশি দুটি সোভিয়েত বিমান থেকেও আলাদা আলাদা অ্যাঙ্গেলে ছবি তোলা হয়। ৬০ বছর পর ‘জার বোম্বা’ নামের ওই বোমাটির পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণের ফুটেজ প্রকাশ করেছে রাশিয়া। খবর পার্স টুডে ও স্মার্ট নিউজের
বোমাটির বিস্ফোরণে নির্গত হয় ৫৬ মেগা টন টিএনটি। বিস্ফোরণের পর কৃত্রিম মেঘমালায় ছেয়ে যায় কাছের আকাশ। ১৬০ কিলোমিটার দূর থেকে দৃশম্যান হয় সে মেঘ। মেঘস্তম্ভের উচ্চতা হয়েছিল ৫৬ কিলোমিটার। বোমার নকশা তৈরি করা হয়েছিল ১০০ মেগা টন বোমার উপযোগী করে কিন্তু বিস্ফোরণ উপযোগী পরিবেশ না থাকায় এবং কারিগরি ত্রুটির কারণে এর শক্তি ৫৬ মেগা টনে নামিয়ে আনা হয়।
বোমাটি তিন স্তরবিশিষ্ট হাইড্রোজেন বোমাবিশেষ। এ ধরনের ২টি বোমা তৈরি করা হয়েছিল। তার মধ্যে একটি ছিল খেলনাপ্রকৃতির যা মূলত বিশ্ববাসী বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টি আকর্ষণসহ সোভিয়েত ইউনিয়নের পারমাণবিক শক্তিমত্তা প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত করা হয়।
গত সপ্তাহে প্রথমবারের মতো রাশিয়ার সরকারি পরমাণু সংস্থা রোসাটম অনলাইনে এ সংক্রান্ত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রকাশ করে। রাশিয়ার পরমাণু শিল্পের ৭৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে এ পদক্ষেপ নেয় দেশটি।