রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:০৭ পূর্বাহ্ন

অনুগ্রহ হবে রবের সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২০
  • ৪৪ জন নিউজটি পড়েছেন

আমরা যখন কাউকে অনুগ্রহ করব বা কারো প্রতি দয়ার হাত বাড়িয়ে দেবো অবশ্যই তার বিনিময়ে ওই ব্যক্তির কাছে কিছু পাওয়ার আশা করা যাবে না। এখানে শুধু আল্লাহর কাছে এর প্রতিদানের আশা করতে হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘বেশি লাভ করার জন্য ইহসান করো না’ (সূরা মুদ্দাস্সির : ৬)। এখানে ইহসান শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। ইহসান শব্দটি ‘হাসান’ মূলধাতু থেকে এসেছে। হাসান অর্থ উত্তম, ভালো, সুন্দর, মরোহর ইত্যাদি। আর ইহসান অর্থ কারো প্রতি ভালো দয়া করা, কারো সাথে ভালোভাবে কথা বলা, কারো প্রতি ন্যায়বিচার করা, কাউকে তার প্রাপ্য সম্মান/সময়/অর্থ যথাযথভাবে বুঝিয়ে দেয়াও তার প্রতি ইহসান করার শামিল।
উপরিউক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, এ কথাটির অর্থ এত ব্যাপক যে, একটি মাত্র কথায় অনুবাদ করে এর বক্তব্য তুলে ধরা সম্ভব নয়। এর একটি অর্থ হলো, তুমি (হে রাসূল !) যার প্রতিই ইহসান বা অনুগ্রহ করবে, নিঃস্বার্থভাবে করবে। তোমার অনুগ্রহ ও বদান্যতা এবং দানশীলতা ও উত্তম আচরণ হবে একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশে। ইহসান বা মহানুভবতার বিনিময়ে কোনো প্রকার প্রার্থিব স্বার্থ লাভের বিন্দুমাত্র আকাক্সক্ষাও তোমার থাকবে না। অন্য কথায় একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশে ইহসান করো,কোনো প্রকার স্বার্থ উদ্ধারের জন্য ইহসান করো না।
তাফসিরে এই আয়াতের দ্বিতীয় অর্থ রাসূল সা:-এর সংশ্লিষ্ট করে ব্যাখ্যা হয়েছে এভাবেÑ আল্লাহ নবীকে বলেছেন, নবুওয়াতের যে দায়িত্ব তুমি পালন করছো। যদিও তা একটি বড় রকমের ইহসান, কারণ তোমার মাধ্যমেই আল্লাহর গোটা সৃষ্টি হিদায়াত লাভ করছে। তবুও এ কাজ করে তুমি মানুষের বিরাট উপকার করছো এমন কথা বলবে না এবং এর বিনিময়ে কোনো প্রকার ব্যক্তি স্বার্থ উদ্ধার করবে না।
তৃতীয় অর্থ হলো, তুমি যদিও অনেক বড় ও মহান একটি কাজ করে চলেছ কিন্তু নিজের দৃষ্টিতে নিজের কাজকে বড় বলে কখনো মনে করবে না এবং কোনো সময় চিন্তাও যেন তোমার মনে উদিত না হয় যে, নবুওয়াতের এ দায়িত্ব পালন করে আর এ কাজে প্রাণপণ চেষ্টা-সাধনা করে তুমি তোমার রবের প্রতি কোনো অনুগ্রহ করছ।
তৃতীয় অর্থে যারা আল্লাহর পথে দাওয়াতের কাজ করেন তাদের জন্য বড় একটি শিক্ষা রয়েছে। যিনি দাওয়াত দেবেন তার মনের অবস্থা কেমন হতে হবে তা এখানে বলা হয়েছে। স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে যে, এই সূরাটি যেহেতু ইসলামের প্রথম যুগে অবতীর্ণ তাই এখানে ইসলামের দাওয়াত বিষয়ে আল্লাহ তার রাসূলকে কিছু বিষয়ে সতর্ক করছেন এবং ট্রেনিং দিয়েছেন। সতর্ক করেছেন যে, দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছিয়ে আপনি আল্লহর প্রতি কোনো অনুগ্রহ করেছেন বা আল্লাহর কাজ করে তাঁর কোনো উপকার করেছেন এমন চিন্তা করবেন না। তাই কিয়ামত পর্যন্ত যারা দ্বীনের দাওয়াত দেবে তাদেরও একইভাবে চিন্তা করতে হবে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English