এক সপ্তাহের ব্যবধানে আলু, পেঁয়াজ, সয়াবিন তেল, আটা, ডিম, মুরগিসহ প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে।
শুক্রবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা পর্যায়ে কেজিতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ১০ টাকা পর্যন্ত। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি ৩০ টাকায় বিক্রি হওয়া দেশি পেঁয়াজ এক লাফে উঠেছে ৪০ টাকায়। পাইকারিতেও কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে হয়েছে ৩৫ টাকা।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, এক সপ্তাহের ব্যবধানে আরেক দফা বেড়ে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম এখন (এক লিটার) ১৪০ টাকা পর্যন্ত দাম উঠেছে। কয়েক মাস আগে এই তেলের দাম ছিল ১০৫ টাকা। গত সপ্তাহে ৬০০ টাকায় বিক্রি হওয়া ৫ লিটারের বোতলের দাম রাখা হচ্ছে ৬২০ টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে ৫ লিটার বোতলের দাম বেড়েছে ২০ টাকা। তবে ৫ লিটার রূপচাঁদা বিক্রি হচ্ছে ৬৮৫ টাকায়।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত দুই সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে সয়াবিনের দাম। এক লিটার রূপচাঁদা বোতলজাত সয়াবিন তেলের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) এখন ১৪০ টাকা। যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। বাজারে ফ্রেশ ও তীর ব্র্যান্ডের এক লিটার সয়াবিন তেলের বোতলের এমআরপি এখন ১৩৫ টাকা এবং পুষ্টি ও বসুন্ধরা ব্র্যান্ডের দাম এখন ১৩০ টাকা। পাঁচ লিটারের বোতলের গায়ে লেখা রয়েছে রূপচাঁদার তেলের দাম ৬৮৫, ফ্রেশ, তীর ও পুষ্টির দাম ৬৫৫ এবং বসুন্ধরার দাম ৬৫০ টাকা। তবে ক্রেতারা এর চেয়ে একটু কম দামে কেনেন। ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুধু বোতলজাত সয়াবিন তেলই নয়, খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দামও ব্যাপক চড়া। কাওরান বাজারে ১১২-১১৫ টাকা লিটারে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে। আর পাম তেল বিক্রি হচ্ছে প্রতি লিটার ১০২-১০৫ টাকা দরে।
আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বাড়লেও সরবরাহও আগের চেয়ে কমেছে। আগে দেশে ছয়টি মিল ভোজ্যতেল সরবরাহ করত। এখন তিনটি দিতে পারছে না। তাই সরকারের উচিত হবে, এখনই বড় উদ্যোগ নেওয়া।
এদিকে গত সপ্তাহে যে খোলা আটা ২৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়, সেই খোলা আটা এখন বিক্রি হচ্ছে ৩২ টাকা দরে। টিসিবির হিসেবে, গত এক সপ্তাহে খোলা আটার দাম বেড়েছে প্রায় ৭ শতাংশ। প্যাকেট আটার দাম বেড়েছে ৫ শতাংশ। এক সপ্তাহের ব্যবধানে আলু দাম বেড়েছে ৬ শতাংশের মতো। রসুনের দাম বেড়েছে ৫ শতাংশের মতো। হলুদের দাম বেড়েছে ৯ শতাংশ এবং আদার দাম বেড়েছে ৫ শতাংশ।
বাজারে চিকন চালের কেজি এখন ৫৮ টাকা। মাঝারি মানের চাল বিক্রি হচ্ছে ৫২ টাকা। আর গরিবের মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৮ টাকা কেজিতে।