‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে’ আন্দোলনের জন্য তরুণদের ‘জেগে ওঠার’ আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার বিকেলে এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “তরুণদের আহ্বান জানাতে চাই, সামনে এগিয়ে আসুন। আর সময় নেই। এখন জেগে উঠতে হবে। জেগে উঠতে হবে এবং দেশকে, দেশের মানুষকে বাঁচাতে হবে।”
মির্জা ফখরুল বলেন, “দেশের মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনতে চাই আন্দোলন, আন্দোলন, আন্দোলন ছাড়া বিকল্প নাই।”
এ আন্দোলন ‘কোনো ব্যক্তি কিংবা দলের জন্য নয়’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আজকে আমার জাতির সব কিছু অর্জন হরণ করে নেওয়া হয়েছে, লুট করে নেওয়া হয়েছে। আজকে তাকে ফিরিয়ে আনতে হবে।”
“সেই দায়িত্ব বিএনপিকেই পালন করতে হবে, সেই দায়িত্ব ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে পালন করতে হবে এবং তার নেতৃত্বে আমরা সবাই দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে এই আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ব।”
বিএনপি চেয়ারপার্সন ‘গণতন্ত্রের জন্য কারাবরণ’ করে আছেন দাবি করে দলের মহাসচিব বলেন, “বেগম খালেদা জিয়াকে আজকে আমাদের স্মরণ করাটা অত্যন্ত জরুরি, আজকের প্রেক্ষিতে। আজকে সেই দেশনেত্রী কারাগারে, গণতন্ত্র আজকে কারাগারে।”
মুক্তিযুদ্ধের সময় দুই সন্তানসহ পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে খালেদা জিয়ার বন্দি হওয়ার দিনটি স্মরণ করে বিএনপির ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটির’ উদ্যোগে এই ভার্চুয়াল আলোচনা হয়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “এতদিন পর্যন্ত কিন্তু এই দিনটিকে সেইভাবে আমরা সামনে আনিনি। কখন এনেছি? আজকে যারা ক্ষমতায়, ১২ বছর যাবত গায়ের জোরে ক্ষমতায় আছে, আজকে যখন তারা ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করার জন্য মুক্তিযুদ্ধের ৫০ বছরেরে ইতিহাসকে বিকৃত করে বর্তমান প্রজন্মকে এবং দেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করছে তখন আমরা এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।”
বিএনপিকে নিয়ে ‘ষড়যন্ত্র চলছে’ দাবি করে তিনি বলেন, “আজকে যারা ক্ষমতায় তাদের ভয় জিয়াউর রহমানকে নিয়ে, তাদের ভয় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে, তাদের ভয় দুইজনের সুযোগ্য সন্তান তারেক রহমানকে নিয়ে।”
একই দাবি করে দলটির স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, “সেই কারণে আজকে তারা ভোটে যেতে চায় না, যে কারণে আজকে তারা এনআইডি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়ে নিচ্ছে। অর্থাৎ তারা আগামীতে ক্ষমতায় থাকার জন্য তাদের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে চাচ্ছে। এই অবস্থার অবশ্যই অবসান হতে হবে। ইনশাল্লাহ দেশের মানুষ তৈরি হচ্ছে।”
বিএনপির নেতৃত্ব সম্পর্কে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, “আজকে পত্র-পত্রিকায় কিছু সুধীজন আমাদেরকে মাঝে মাঝে কিছু কিছু উপদেশ দিয়ে থাকেন, আমাদের নেতৃত্ব নিয়ে কথা বলতে থাকেন। তাদেরকে সবিনয়ে বলব যে, এই কথাগুলো প্রকারান্তরে ফ্যাসিবাদকে উৎসাহিত করে, যারা ক্ষমতায় আছে তাদের ক্ষমতায় থাকার পথটাকে প্রশস্ত করে।”
তিনি বলেন, “আমাদের নেতৃত্ব নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। সমস্যা গণতন্ত্রের, সমস্যা ফ্যাসিজমের, সমস্যা আইনের শাসনের, সমস্যাটা হলো জাস্টিস নাই। আমাদের নেতেৃত্ব কিন্তু পদে পদে তারা পরীক্ষিত, পদে পদে তারা উত্তীর্ণ।”
আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব আব্দুস সালামের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য জমির উদ্দিন সরকার, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বক্তব্য দেন।