সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:২৯ পূর্বাহ্ন

আবারও বাড়ছে পেঁয়াজের দাম

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২০
  • ৪৫ জন নিউজটি পড়েছেন

আবারও বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। গত তিন দিনে প্রতি কেজি আমদানি করা পেঁয়াজে ৩০ টাকা ও দেশি পেঁয়াজে ১০ টাকা দাম বাড়িয়েছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহের ব্যবধানে নতুন করে খুচরা বাজারে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গতকাল আমদানি করা পেঁয়াজ ৯০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা গত সপ্তাহে ৭০ থেকে ৮০ টাকা ছিল। আর দেশি পেঁয়াজ এখন ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা। রাজধানীর খুচরা বাজার ঘুরেও ক্রেতাদের এই দামে পেঁয়াজ কিনতে দেখা গেছে।

যদিও এই সময়ে পাশের দেশ মিয়ানমার ও পাকিস্তান থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ বাজারে এসেছে। কিন্তু ব্যবসায়ীরা কৌশলে পাকিস্তানি পেঁয়াজ ভারতীয় বলে চড়া দামে বিক্রি করছেন। গত ১৪ সেপ্টেম্বর ভারত পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর থেকে দেশের বাজার অস্থির হয়ে ওঠে। এর পর ভারত বন্দরে আটকে থাকা কিছু পেঁয়াজ ছাড়লেও তা নষ্ট থাকায় খুবই কম দামে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে পাইকারি বিক্রি হয়েছে। তবে ওই পেঁয়াজও খুচরা ক্রেতাদের ৬০ টাকায় কিনতে হয়েছে। এখন ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রয়েছে। আগে ভারত থেকে আমদানি করা মজুদ পেঁয়াজও ফুরিয়ে এসেছে। এর পরেও ভারতীয় পেঁয়াজ চড়া দামে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।

কারওয়ান বাজারের স্বদেশ বাণিজ্যালয় আড়তের ২৬ নম্বর ঘরে পাকিস্তানি পেঁয়াজ বিক্রি হতে দেখা গেছে। এ বিষয়ে ওই আড়তের এক ব্যবসায়ী বলেন, এই পেঁয়াজ আকারে বড় হলেও ভারতীয়। তিনি পাইকারিতে ওই পেঁয়াজের দাম হাঁকছেন ১০০ টাকা কেজি। এ আড়তে ৯০ থেকে ৯৫ টাকা কেজিতে বেচাকেনা হতে দেখা গেছে।

রাজধানীতে পেঁয়াজের পাইকারি বড় আড়ত শ্যামবাজারে আমদানি করা মিয়ানমার ও পাকিস্তানের পেঁয়াজ ৬৫ থেকে ৭০ টাকা ও দেশি পেঁয়াজ ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ বাজার থেকে নেওয়া আমদানি করা পাকিস্তানের পেঁয়াজ কেজিতে ২৫ টাকা বেশি দামে কারওয়ান বাজারের আড়তে বিক্রি হচ্ছে।

পেঁয়াজ আমদানিকারক ও শ্যামবাজারের ব্যবসায়ী মো. হাফিজ উদ্দিন বলেন, ভারতের পেঁয়াজ ফুরিয়ে গেছে। ইতোমধ্যে পাকিস্তান ও মিয়ানমারের পেঁয়াজ এসেছে। তবে আমদানি পেঁয়াজ চাহিদার তুলনায় কম। আগামী সপ্তাহে অন্যান্য দেশের পেঁয়াজ এসে পৌঁছবে। তখন দাম কমে আসবে বলে তারা জানান। ঘাটতির কারণে ৫০ থেকে ৬০ টাকা বিক্রি হওয়া আমদানি পেঁয়াজের দাম বেড়ে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা হয়েছে। এতে দেশি পেঁয়াজের দামও কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ৭৫ টাকা হয়েছে।

শ্যামবাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী মো. রাকিব হোসেন বলেন, এখন বাজারে আমদানি পেঁয়াজের সরবরাহ কম। এ কারণে দাম বাড়ছে। তবে এই চড়া দাম স্থায়ী হবে না। আগামী সপ্তাহে মিসর, তুরস্ক, নেদারল্যান্ডসসহ বিভিন্ন দেশের পেঁয়াজ দেশে এসে পৌঁছবে।

এদিকে দাম স্বাভাবিক রাখতে ন্যায্যমূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি বাড়িয়েছে টিসিবি। সংস্থাটির মুখপাত্র হুমায়ুন কবির জানান, অনলাইনে ৭টি প্রতিষ্ঠান, স্বপ্ন, চালডাল, সিন্দাবাদ, যাচাই, বিয়াস ও গ্লোরির মাধ্যমে ৩৬ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহে দুই দিন এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাড়ে ১০ টন পেঁয়াজ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। আগের চেয়ে বাড়িয়ে এখন রাজধানীতে ৮০টি খোলা ট্রাকে ও সারাদেশে তিন শতাধিক খোলা ট্রাকে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। এ পেঁয়াজ ৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি অব্যাহত আছে। এ মাসের মধ্যে আমদানি করা পেঁয়াজ দেশে আসবে। এতে বাজারে সরবরাহ আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।

জানা যায়, টিসিবি ১৫ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির জন্য তিনটি আলাদা আন্তর্জাতিক দরপত্র দিয়েছে। এছাড়া ২ হাজার ২৫০ টন পেঁয়াজ স্থানীয়ভাবে কেনার জন্য দরপত্র দিয়েছে সংস্থাটি। এসব পেঁয়াজ চলতি মাসে ও আগামী মাসে দেশে আসবে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English