একজন উদ্যোক্তাকে ব্যবসা শুরু করতে গিয়ে পড়তে হয় বিভিন্ন কাগজপত্রসংক্রান্ত জটিলতায়। উদ্যোক্তাকে ছুটতে হয় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে। এতে সময়ক্ষেপণ, হয়রানিসহ নানা জটিলতায় পড়তে হয় তাকে। ফলে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য। বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের অর্থনীতি। হয়রানি ও জটিলতার কারণে অনেকে অবৈধ পন্থা গ্রহণে বাধ্য হন। এসব কারণে ‘গ্লোবাল ইজ অব ডোয়িং বিজনেস’ সূচকে অনেক দূর পিছিয়ে বাংলাদেশ। ২০২০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯০টি দেশের মধ্যে ‘ডোয়িং বিজনেস’ সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৬৮তম। ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ সূচকে উন্নতিসহ কর ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় অনলাইনভিত্তিক করব্যবস্থার প্রবর্তনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআর বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যার মধ্যে অন্যতম অটোমেশন।
অটোমেশন কার্যক্রমের আওতায় সংস্থাটি বেশ কিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। সেগুলো হলো বন্ড ম্যানেজমেন্ট অটোমেশন প্রজেক্ট (বিএমএপি), ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো (এনএসডব্লিউ) প্রজেক্ট এবং ভ্যাট অনলাইন প্রজেক্ট (ভিওপি)। এছাড়া চলতি বছর ভ্যাট আদায়ে স্বচ্ছতা ও সহজীকরণের পাশাপাশি আওতা বাড়িয়ে পরিমাণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইলেকট্রনিকস ফিসক্যাল ডিভাইস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম-ইএফডিএমএস প্রবর্তন করেছে এনবিআর। এসব প্রকল্প পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে ঘরে বসেই কর দেওয়া, ভ্যাট নিবন্ধনের আবেদন ও নিবন্ধন গ্রহণ, আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে বিল অফ এন্ট্রি সাবমিটসহ নানা রকম সুবিধা পাবেন সাধারণ করদাতা ও ব্যবসায়ীরা।
এ প্রসঙ্গে এনবিআর সদস্য (ভ্যাট বাস্তবায়ন ও আইটি) ড. আবদুল মান্নান শিকদার বাংলাদেশের খবরকে বলেন, ‘আগামী কয়েক মাসের মধ্যে শতভাগ রিটার্ন অনলাইনে প্রদান করতে পারে সেজন্য চেষ্টা চলছে। একইভাবে ভ্যাট অনলাইন কার্যক্রমের মাধ্যমে বন্ড ম্যানেজমেন্ট অটোমেশন করার জন্য বন্ড অটোমেশন প্রজেক্ট কাজ করছে। ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন অনলাইনে সাবমিশন হবে। সাবমিটেড বিল অব এন্ট্রির ৭০ শতাংশ আসছে অনলাইনে। অটোমেশন কার্যক্রম পুরোপুরি কার্যকর হলে “ইজ অব ডোয়িং বিজনেস” সূচকে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।’
বর্তমানে অনলাইন নিবন্ধন, কর সনদ ও রিটার্ন দাখিলসহ কয়েকটি ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতির প্রয়োগ হচ্ছে। আর ইএফডিএমএস প্রবর্তনের মাধ্যমে সামগ্রিক ভ্যাট ব্যবস্থাপনাকে সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ নীতির সাথে সঙ্গতি রেখে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড একধাপ এগিয়ে গেল। সফটওয়্যারভিত্তিক এই হিসাব সংরক্ষণ পদ্ধতির মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের লেনদেনের যাবতীয় তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সার্ভারে চলে যাবে। অর্থাৎ বিক্রয়-সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য এনবিআর লাইভ মনিটরিং করতে পারবে। আবদুল মান্নান শিকদার জানান, ‘এর ফলে ভোক্তারাও তাদের পরিশোধিত ভ্যাট সরকারি কোষাগারে জমা হলো কি না সেটি কিউআর কোডের মাধ্যমে সাথে সাথেই নিশ্চিত হতে পারবেন। এছাড়া এ বিষয়ে ভোক্তাদের আগ্রহ তৈরির জন্য ইএফডিএমএস হতে ইস্যুকৃত চালানের ওপর লটারির ব্যবস্থা করারও পরিকল্পনা গ্রহণ করবে এনবিআর।’