জানা গেছে,ব্যাংকগুলোতে আমানত থাকলেও বিনিয়োগ করতে পারছে না। এতে করে ব্যাংকের আলস টাকার পরিমান বাড়ছে। সুদ হার হওয়ার পরেও বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছে উদ্যোক্তারা। এতে করে ব্যাংকে আমানত এবং সঞ্চয়পত্র বিক্রি বেড়েছে। সরকার এ খাত থেকে ঋণও নিচ্ছে সরকার। এতে করে সরকারের ব্যয় বেড়েছে।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০১৯-২০ অর্থবছরের একই সময়ে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের ঋণ ছিল ৫ হাজার ৪৩৩ কোটি টাকা। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ লক্ষ্য ধরা হয় ২০ হাজার কোটি টাকা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে পরিবার সঞ্চয়পত্র। এটির বিক্রির পরিমাণ ১০ হাজার ৪৫৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা।
তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে দুই হাজার ৫০৮ কোটি ২২ লাখ টাকার। পাঁচ বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে এক হাজার ৯৩২ কোটি ২০ লাখ টাকার। আর পেনশনার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে এক হাজার ৮১৪ কোটি ৯০ লাখ টাকার।
চলতি অর্থ বছরে ব্যাংক, বীমা,সঞ্চয়পত্র এবং শেয়ার বাজারে সঞ্চয় বেড়েছে। আমানতের সুদ হার কম হওয়ার পরেও সঞ্চয় বেড়েছে। আর সঞ্চয় বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো বিনিয়োগ কম হওয়া। মানুষ বিনিয়োগের ঝুকি না নিয়ে নিরাপদ চিন্তা করে ব্যাংক, বীমা,সঞ্চয়পত্র এবং শেয়ার বাজারে সঞ্চয় করছে। যারা তুলনা মূলকভাবে একটু বেশি লাভ চান তারা শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করেছেন। বাকিরা ঝুকি ছাড়া ব্যাংক বীমা এবং সঞ্চয়পত্রে আমানত রেখেছেন।
এতে করে সঞ্চয়পত্র বিক্রি বেড়েছে ব্যাপকভাবে। চলতি অর্থবছরে সরকার এ খাত থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করে। কিন্তু অব্যন্তরিণ আয় কম হওয়ার কারণে সরকারবাধ্য হয়ে এ খাত থেকে ৬ মাসেই লক্ষ্যমাত্রার পুরোটা গ্রহণ করে। ঋণ গ্রহনের এ ধারা অব্যাহত থাকলে এর পরিমান দ্বিগুণ হতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, বিদায়ী ২০২০ সালের প্রথম ৯ মাসে ব্যাংকগুলোতে আমানত বেড়েছে ৯৮ হাজার কোটি টাকা। অপরদিকে ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসেই (জুলাই থেকে নভেম্বর) মানুষ ১৯ হাজার ৪৪ কোটি ৯২ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র কিনেছেন। আর গত ছয় মাসে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা। গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ১ হাজার ৭০৯ কোটি টাকা। যদিও ছয় মাস আগে, অর্থাৎ জুলাই মাসের শুরুতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন ছিল ৩ লাখ ১১ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা। শুধু তাই নয়, এই ছয় মাসে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করেছেন ২০৫ জন। তাদের কাছ থেকে সরকার কর পেয়েছে ২২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের শেষে ব্যাংকগুলোতে মোট আমানতের পরিমাণ ছিল ১২ লাখ ১৪ হাজার ৪৫৫ কোটি টাকা, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ১২ হাজার ৬২৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে আমানত বেড়েছে ৯৮ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা।
তবে একই সময়ে ব্যাংকগুলোতে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর আমানত ১ লাখ ৬০ হাজার ৮৫৯ কোটি টাকা থেকে কমে হয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৫৩১ কোটি টাকা। ব্যাংক থেকে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো আমানত তুলে নিয়ে সরকারি তহবিলে জমা দেওয়ার কারণে তাদের আমানত কিছুটা কমেছে।