নাগর্নো-কারাবাখে আর্মেনিয়ার শোচনীয় পরাজয়ের জের ধরে প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ানের পদত্যাগের দাবিতে দেশটির রাজধানীতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘেরাও করেছে বিক্ষোভকারীরা।
মন্ত্রিপরিষদের কার্যক্রমে বাধা দিতে পাশিনিয়ান বিরোধী বিক্ষোভকারীরা বৃহস্পতিবার ইয়েরেভেনে কার্যালয় ভবনটি ঘেরাও করে।
রাজধানীর অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলোর আশেপাশে আগাম সতর্কতা গ্রহণ করেছিল দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। মন্ত্রীদের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রবেশ ও কার্যালয় থেকে বের হতে বিক্ষোভকারীরা বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে তাদের সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্ঘাতের সৃষ্টি হয়।
বিক্ষোভকারীরা ভবনটির সামনের রাস্তা অবরোধ করে সরকারি যান চলাচল বন্ধ করে দেয়ার চেষ্টা করে। তারা একটি সরকারি গাড়িতে তুষারগোলক নিক্ষেপ করে এবং গাড়িটি তাদের দিকে চালানো হলে গাড়িটিতে আক্রমণ করে।
বিরোধী নেতা ভাজগেন মাইকেলি মানুকিয়ান যুক্তি দেখান, নাগর্নো-কারাবাখ নিয়ে আজারবাইজানের সাথে বিরোধ এখনো চলমান এবং শুধুমাত্র যুদ্ধের সক্রিয় সময়কাল শেষ হয়েছে। রাশিয়ার মধ্যস্থতায় ৯ নভেম্বর একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে মাত্র।
‘পাশিনিয়ান দেশকে ধ্বংস করেছে। তিনি অপরাধী, তাকে কারাগারে যেতে হবে,’ বলেন মনুকিয়ান।
আর্মেনিয়ার সেনাবাহিনী আজারবাইজানের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নাগর্নো-কারাবাখ বা উচ্চ কারাবাখ হিসেবে পরিচিত অঞ্চলটি এবং পার্শ্ববর্তী আরো সাতটি অঞ্চল দখল করে নিলে ১৯৯১ সাল থেকে সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রের অংশ দেশ দুটির মধ্যে উত্তেজনা চলে আসছে।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয় যা ৪৪ দিন পর রাশিয়ার মধ্যস্থতায় একটি চুক্তির মাধ্যমে শেষ হয়।
ছয় সপ্তাহের এই যুদ্ধে বেশ কয়েকটি কৌশলগত শহর এবং প্রায় ৩০০টি জনবসতি ও গ্রামকে দখলমুক্ত করতে সক্ষম হয় বাকু।