বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, চোরদের রাজত্ব থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আওয়ামী লীগকে ডিভোর্স দিতে হবে। আওয়ামী লীগকে তালাক না দিলে এই দেশের জনগণের কোনো পরিত্রাণ নাই।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ হলে স্বাধীনতা পরিষদের উদ্যোগে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
আলাল বলেন, আওয়ামী লীগের কত অত্যাচার, অনাচারের কথা বলব? সরকার যদি অফিসারদের দুর্নীতি সম্পর্কে বলে যে- যে যাই বলুক আপনারা আপনাদের কাজ করে যান। তাহলে তো চোরদের রাজত্ব চলবেই। এই চোরদের রাজত্ব থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আওয়ামী লীগকে ডিভোর্স দিতে হবে। আওয়ামী লীগকে তালাক না দিলে এই দেশের জনগণের কোনো পরিত্রাণ নাই।
তিনি বলেন, বুদ্ধিজীবী দিবসে ড. কামাল হোসেনের গায়ে হাত তুলেছে কারা? সেই তদন্ত রিপোর্ট জমা হয়েছে? হয় নাই। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি হয়েছে, সেই তদন্ত রিপোর্ট এর জন্য ৪২ বার সময় নেয়া হয়েছে। এছাড়াও আরো অনেক লুটপাট, চুরির ঘটনা রয়েছে যা বলে শেষ করা যাবে না। সুতরাং তাদেরকে তালাক দেয়া ছাড়া কোনো উপায় নাই।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, আওয়ামী লীগের একসময়ের বড় নেতা ছিলেন এক ব্যক্তি। আওয়ামী লীগের সেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদের অধিকারী তিনি যুবলীগের এক নেতার বউকে ভাগিয়ে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করেছিলেন। সেঞ্চুরিয়ান মানিকের কথা তো আমরা সবাই জানি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন আরেফিন সিদ্দিকী ভিসি ছিলেন তখন আমাদের ছাত্রীদেরকে গণহারে যৌন নির্যাতন করেছে। এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সাবেক আইজিপি ও সাবেক ভিসি বলেছিলেন আমাদের কাছে ভিডিও ফুটেজ আছে, অতি শীঘ্রই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু সেই যৌন নির্যাতনকারীদের বিচার কি হয়েছে? আওয়ামী লীগের জনসভায় সোনার ছেলেরা দল বেধে যাচ্ছে, আর রাস্তায় যে মেয়েটা আছে তাদেরকে যৌন হয়রানি করছে। সেখানেও আসাদুজ্জামান কামাল বললেন- ভিডিও ফুটেজ আছে আমাদের ট্রাফিক পুলিশরাও সাক্ষী, ওদেরকে আমরা ছাড়বো না। পরে দেখা গেল আমরা এদেরকে ছাড়বো না সেটা হয়ে গেল- ‘আমরা এদেরকে ধরবো না’। সুতরাং এ নারী নির্যাতন এর ঐতিহ্য তাদের আগে থেকেই আছে।
স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মোহম্মদ রহমাতুল্লাহর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ প্রমুখ।