মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১৩ অপরাহ্ন

আশা নিরাশা ও হতাশা

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ শনিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৮৬ জন নিউজটি পড়েছেন

যিনি ঈমানদার, যিনি আল্লাহর ওপর তায়াক্কুল করেন তিনিই সর্বদা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ইসলাম ও ঈমান মানুষের আশা আকাক্সক্ষাকে উৎসাহিত করে, পক্ষান্তরে নিরাশা, হতাশাকে করে নিরুৎসাহিত। প্রকৃতপক্ষে যিনি আল্লাহকে প্রভু, রাসূল সা:কে অনুসরণীয় অনুকরণীয় নেতা ও ইসলামকে দ্বীন বা জীবনব্যবস্থা হিসেবে গ্রহণ করেছে তার কি কোনো হতাশা থাকতে পারে? না, কখনো না, হতাশা-নিরাশা তাকে স্পর্শ করতে পারে না। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ সব পাপ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (জুমার :৫৩) মূলত হতাশা ও নিরাশা হলো শয়তানের বৈশিষ্ট্য। শয়তানের এক নাম ইবলিশ, যার অর্থ হলো ‘নিরাশ’ বা ‘হতাশ’।
মানুষ সৃষ্টির পরপরই আল্লাহ তায়ালা শয়তানকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, আদমকে সেজদা করো। কিন্তু সে অহঙ্কারবশত সেই নির্দেশ পালন করতে অস্বীকৃতি জানাল। তার মধ্যে বর্ণবাদের অহঙ্কার জেগে উঠল। সে যুক্তি পেশ করে বলল, আমি আগুনের তৈরি পক্ষান্তরে আদম মাটির তৈরি, আমি তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ, সুতরাং আমি তাকে সেজদা করতে পারি না। তার এই অন্ধ যুক্তি আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি বিধায় সে হতাশা বা নিরাশার গভীর খাদে নিক্ষিপ্ত হলো। এ জন্য তার এক নাম ইবলিশ অর্থাৎ হতাশ বা নিরাশ হওয়ার কারণে তার নাম ইবলিশ। সে আল্লাহর লানতে নিপতিত হয়ে সেখান থেকে বহিষ্কৃত হলো। সে হতাশাগ্রস্ত ও ক্ষতিগ্রস্তদের প্রধান জীব। তার আসল পরিচয় গোপন করে বন্ধু বা হিতাকাক্সক্ষী সেজে হজরত আদম আ:কে কুপরামর্শ দেয়ার কারণে শয়তান (প্রচ্ছন্ন শক্তি) হিসেবে নিজেকে চিহ্নিত করল। প্রচ্ছন্ন রূপ ধারণ করেই সে মানুষকে ধোঁকা দেয়। আসল রূপ বা সত্য কথা বলে মুমিনদের ধোঁকা দিতে পারে না। যে বিষয়ে মানুষকে ধোঁকায় ফেলে, সেটি মানুষের সামনে সুন্দর, চাকচিক্য ও মোহনীয় আকারে উপস্থাপন করে থাকে। যার কারণে মানুষ সাময়িক সেই মরীচিকার পিছনে পাগলের মতো ছুটে চলে।
পক্ষান্তরে আদম আ: ও তাঁর স্ত্রী যখন নিজেদের ত্রুটি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হলেন, তখন তাঁরা নিরাশ না হয়ে করুণার আঁধার মহান রবের ক্ষমার জন্য আশাবাদী হয়ে ওঠেন। আল্লাহর প্রতি মজবুত ঈমান ও পূর্ণ তাওয়াক্কুল থাকার কারণে তাঁদের মধ্যে এ আশা জেগে উঠে যে, প্রভু ক্ষমা করে দেবেন। ফলে তাঁরা বলতে লাগলেন, ‘প্রভু হে! আমরা তো নিজেদের প্রতি জুলুম করে ফেলেছি, এখন যদি তুমি আমাদের ক্ষমা ও দয়া না করো, তাহলে তো আমরা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংসশীলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবো।’ (আ’রাফ : ২৩) প্রভু নিরাশ করেননি। বরং তাওবা কবুল করে তাঁদেরকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানবে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
সুতরাং ‘হতাশা বা নিরাশা’ শয়তানের বৈশিষ্ট্য। আর ‘আশা’ হলো নবী-রাসূল ও আল্লাহর নিয়ামতপ্রাপ্তদের বৈশিষ্ট্য। দুনিয়ায় যত আম্বিয়ায়ে কেরাম এসেছেন, তাঁদের প্রত্যেকেই দুনিয়া জোড়া বিপদকে মাথায় নিয়েও সঠিক পথে অটল থেকেছেন। হতাশা কখনো তাঁদের পথ রোধ করে দাঁড়াতে পারেনি। দুনিয়ার সামান্য সম্পদ পাওয়ার জন্য আমরা যে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হই, না পেলে হতাশার অন্ধকারে নিমজ্জিত হই, আল্লাহর কাছে তা খুবই সামান্য ব্যাপার। সুতরাং ত্রুটি-বিচ্যুতি হলে, মাল-সামান ও ইজ্জত-আব্রু এবং অন্যান্য বস্তুগত বা অবস্তুগত জিনিস না পেলে হতাশ হওয়া মানে আল্লাহর মহানত্ব, গাফুরুর রাহিম ও মহান দাতার গুণগুলোকে অস্বীকার বা খাটো করা হয়।
হতাশা বা নিরাশা এমন এক ক্ষতিকর বদগুণ, যা মানুষের সব ধরনের যোগ্যতাকে সমূলে বিনষ্ট করে দেয়। মানুষের শারীরিক, মানসিক ও নৈতিক শক্তিকে এমনভাবে দুর্বল করে দেয় যে, এসব ক্ষেত্রে সে একজন অযোগ্য ও অকর্মণ্য ব্যক্তিতে পরিণত হয়। হতাশাগ্রস্ত এই ব্যক্তিটি পরিবারের শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে যেমনভাবে বিনষ্ট করে, তেমনি সমাজ ও পেশাগত জীবনে একজন অযোগ্য, অকর্মণ্য দায় হিসেবে চিহ্নিত হয়। হতাশা এমনভাবে ঘিরে ধরে যে ঢিলেমি তাকে সামনে চলার সব পথকে রুদ্ধ করে দেয়। হতাশার আর একটি বড় প্রভাব হলো, হতাশাগ্রস্ত ব্যক্তি সব কাজে নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে। নেতিবাচক অভিব্যক্তি তার অভ্যাসে পরিণত হয়। ইতিবাচকতা তার আজন্মের শুত্রুতে পরিণত হয়।
হতাশা আল্লাহর আনুগত্য ও ইবাদতের বেলায়ও অবহেলা প্রকাশ করতে বাধ্য করে। এমনকি এক পর্যায়ে নিজের বিফলতা বা ব্যর্থতার জন্য আল্লাহকে দোষারোপ করতেও সে কুণ্ঠাবোধ করে না। সে মনে করে ওই সফলতার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির চেয়ে সে-ই যথোপযুক্ত ছিল। তাকে না দিয়ে অন্যায় করা হয়েছে। ফলে সে তার পারিপার্শ্বিক সব কিছুকেই দোষারোপ করতে থাকে। এই মনোভাবের কারণে সবার সাথে তার দূরত্ব সৃষ্টি হয় এবং সামাজিকভাবে সে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। হতাশা নামক এই ঘাতককে দূর করার জন্য প্রথমত আল্লাহর সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। বেশি বেশি করে কুরআন, হাদিস অধ্যয়ন করতে হবে। কারণ আল কুরআনে আশার কথাই বেশি বেশি বলা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করো।’ (বাকারা : ১৫৩) দুনিয়া ও আখিরাতের যাবতীয় সফলতা ফরজ ও নফল নামাজের ভেতরে নিহিত রয়েছে। রাসূল সা: কর্তৃক নির্ধারিত ব্যবস্থাপত্র হলো, যেকোনো জটিলতা থেকে উদ্ধার ও আল্লাহর নিয়ামতে ভূষিত হওয়ার জন্য নামাজে নিবিষ্ট হয়ে যাও।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English