বগুড়ার কাহালু উপজেলায় আওয়ামী লীগ নেতার সবজিবাহী ট্রাক থেকে অস্ত্র, গুলি ও মাদক জব্দ করার ঘটনায় মামলা হয়েছে। গতকাল বুধবার রাতে ৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) উপপরিদর্শক আতাউর রহমান বাদী হয়ে কাহালু থানায় ওই মামলা করেন। ওই মামলায় চারজনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিন আসামির পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক আছলাম আলী আজ বৃহস্পতিবার সকালে ওই মামলার তিন আসামিকে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলামের আদালতে হাজির করে ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে আসামিদের পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ডিবির পরিদর্শক আছলাম আলী তিন আসামিকে পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ট্রাক থেকে অস্ত্র, গুলি ও মাদক জব্দের ঘটনায় করা মামলার আসামিরা হলেন জয়পুরহাট সদরের ভাদশা লালিপাড়া গ্রামের ছোটন (২০), ট্রাকচালক জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার কেশবপুর গ্রামের কাবিল হোসেন (৩০), ট্রাকচালকের সহকারী নওগাঁর বদলগাছি উপজেলার কার্তিকাহা গ্রামের সেভেন হোসেন (৩০) ও আক্কেলপুর উপজেলার জনি। তাঁদের মধ্যে জনি পলাতক রয়েছেন। আজ অপর তিন আসামির রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
পুলিশ সূত্র জানায়, বগুড়ার ৪ এপিবিএনের সদস্যরা গতকাল বেলা তিনটার দিকে বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের কাহালু উপজেলার ভাগ দুবড়া ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন এলাকায় ঢাকাগামী একটি সবজিবাহী ট্রাকে তল্লাশি চালায়। এই সময় এপিবিএনের সদস্যরা ওই ট্রাকে পড়ে থাকা ১টি ট্রাভেল ব্যাগ থেকে ১০টি পিস্তল, ১০টি গুলি ও ১৩৬ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করে।
ট্রাকচালকের ভাষ্যমতে, ট্রাকটি নওগাঁর বদলগাছি উপজেলা থেকে ঢাকায় যাচ্ছিল। ট্রাকের মালিক জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাহফুজ ওরফে অবসর চৌধুরীর। তবে এ বিষয়ে গোলাম মাহফুজ চৌধুরী বলেন, আটক ট্রাকটি তিনি কিস্তিতে কিনেছেন। চালক ছাড়া গ্রেপ্তার অন্য দুজনকে তিনি চেনেন না। ট্রাকে অস্ত্র-মাদক কীভাবে এল, সেটাও তিনি জানেন না।
বিষয়টি নিয়ে আজ প্রিন্ট সংস্করণে ‘আ.লীগ নেতার ট্রাকে মিলল অস্ত্র ও মাদক’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।