শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:৩৬ অপরাহ্ন

ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভিজিএফের চাল চুরির অভিযোগ

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২০
  • ৪৩ জন নিউজটি পড়েছেন

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জের ভাদুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আসমান জামিনের বিরুদ্ধে ভিজিএফের চাল চুরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মানববন্ধন করেছে ভুক্তভোগীরা।

শুক্রবার বিকালে উপজেলার ভাদুরিয়া বাজারের চার মাথা মোড়ে এ মানববন্ধন করা হয়।

জানা যায়, ঈদুল আজহা উপলক্ষে সারা দেশের মতো নবাবগঞ্জ উপজেলার ৬নং ভাদুরিয়া ইউপিতে চাল বরাদ্দ আসে ১৫৩৫ জনের নামে ১৫.৩৫ টন।

গত বৃহস্পতিবার চাল বিতরণকালে ১৫০ থেকে ২০০ জন পায়নি। পরে চাল চুরির অভিযোগ উঠলে চেয়ারম্যান আসমান জামিন দ্রুত ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পালিয়ে যান।

এই সময় ৬নং ভাদুরিয়া ইউনিয়ান পরিষদে তালিকাভুক্ত ব্যক্তিরা ভিজিএফ চাল না পেয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। তালিকায় নাম ও টোকেন হাতে নিয়ে গ্রাম ভাদুরিয়া, সাকোপাড়া, দীঘিরত্না, পাকুড়িয়া, বাজিদপুর, মহেশপুর, হলাইজানসহ বেশ কিছু গ্রামের প্রায় ২০০ ব্যক্তি টোকেন হাতে নিয়ে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাল চুরির অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে ভাদুরিয়া ইউপির সদস্য হারুনুর রশিদ বলেন, আমরা চেয়ারম্যানের ওপর কোনো কথা বলতে পারি না। আমাদের কোনো কথাই তিনি রাখেন না।

প্রতিটি ওয়ার্ডে ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে পাওয়া তালিকা অনুযায়ী ভুক্তভোগীদের টোকেন দেয়া হয়েছে। কিন্তু চাল বিতরণের শেষ সময়ে পরিষদে আর চাল না থাকায় ১৫০ থেকে প্রায় ২০০ জন বরাদ্দ পেল না।

ইউপি সদস্য শাবানা ইয়াসমিন বলেন, এই চেয়ারম্যান বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা থেকে শুরু করে; যা গরীব দুস্থদের মাঝে দেয়া হয়; তা দিতে বা কার্ড করে দিতে ৫ হাজার করে টাকা নেয়। টাকা ছাড়া কোনো কার্ড কেউ পায় না।

ভিজিএফ চাল বিতরণকালীন টেক অফিসার জিয়াউর রহমান বলেন, আমি চাল বিতরণ শুরু থেকে শেষ সময় পর্যন্ত ছিলাম। তালিকাভুক্ত প্রতি টোকেনধারীকে ১০ কেজি করে চাল দেয়া হয়েছে। প্রতি বস্তায় চাউল ৫০ কেজি থাকায় পাঁচজনকে একটি করে চালের বস্তা দেয়া হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যায়ে এসে অনেক তালিকাভুক্ত টোকেনধারীরা চাল পেল না।

নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রেফাতুল্লাহ (পিআইয়ু) জানান, ভাদুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যানকে ১৫.৩৫ টন চালের ডিও বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। চেয়ারম্যান সেই বরাদ্দকৃত চাল ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে গেছেন এবং বিতরণ করছেন। কেন এত জন চাল পেলো না তা তদন্ত করে দেখতে হবে।

অভিযোগ অস্বীকার করে ভাদুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আসমান জামিন জানান, আমার নামে যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা সত্য নয়। প্রতিবার চাল দিতে দেখা যায়, কার্ড বা টোকেনবিহীন কিছু ব্যক্তি আসেন। তাদেরও কম বেশি করে চাল দেয়া হয়।

‘এবার এক বস্তা চাল ৫ জনকে দেয়া হয়েছে, তাই বাড়তি কোনো চাল দিতে না পারায় অনেকের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু পরে সন্ধ্যা পর্যন্ত না পাওয়া ৪৫ জনকে আমি চাল বিতরণ করেছি।’

এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুনাহার বলেন, আমরা বিষয়টি শুনেছি। সঙ্গে সঙ্গে চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিয়েছি, যাতে কোনো টোকেনধারী ব্যক্তি চাল নিতে এসে ফেরত না যায়।

তবে কেন এত টোকেনধারী ব্যক্তি চাউল পেল না তা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English