রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:২৪ অপরাহ্ন

ইসলামে বৈষম্যের স্থান নেই

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ রবিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৫৭ জন নিউজটি পড়েছেন

ইসলাম কোনো ধরনের বৈষম্যকে সমর্থন করে না। মানুষে মানুষে ভেদাভেদ দূর করতে ইসলাম প্রবর্তন করেছে যুগোপযোগী বহু বিধিবিধান। যেমন মানুষের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য রোধ করতে ইসলামে রয়েছে জাকাত ব্যবস্থা।
ধনী-গরিব, রাজা-প্রজা, মালিক-শ্রমিকের বৈষম্য ঘুচিয়ে আনতে ইসলাম প্রবর্তন করেছে জামাতে নামাজ আদায়ের বিধান।
সমগ্র মুসলিম উম্মাহ ঐক্যবদ্ধভাবে একই কিবলামুখী হয়ে নামাজ আদায় করে সাম্যের ডাক দিয়ে যাচ্ছে। এই সাম্য ও ঐক্যের জন্যই প্রবর্তন করা হয়েছে হজের বিধান, যেখানে সবাই একই পোশাকে হজ আদায় করে। ইসলামের দর্শন হলোÑ গোটা সৃষ্টিকুল একটি পরিবারের মতো। রাসূলুল্লাহ সা: ইরশাদ করেন, ‘পুরো সৃষ্টিজগত আল্লাহর পরিবার। আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় সেই ব্যক্তি যে তার সৃষ্টির প্রতি উত্তম আচরণ করে।’ (শুয়াবুল ঈমান : ৭০৪৮)
যেহেতু গোটা সৃষ্টিকুল একটি পরিবারের মতো তাই সৃষ্টিজীবের সাথে ব্যবহার হবে পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়দের মতো। তদ্রƒপ সব মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক হচ্ছে, ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক। কারণ সব মানুষের পিতা একজন, মাতাও একজন। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘হে মানব সম্প্রদায়! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন আর তার থেকে সৃষ্টি করেছেন তার সঙ্গিনীকে, বিস্তার করেছেন তাদের দু’জন থেকে অগণিত নারী ও পুরুষ।’ (সূরা নিসা : ১)
আল্লাহর কাছে ধনী-গরিব, কৃষ্ণাঙ্গ-শ্বেতাঙ্গ সবাই সমান। প্রিয় নবী সা: ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের দেহকায় ও বাহ্যিক আকৃতি দেখেন না; বরং তিনি দেখেন তোমাদের অন্তরসমূহ।’ (সহিহ মুসলিম : ৬৪৩৬)
ইসলাম সব শ্রেণী-পেশার মানুষকে সম্মান করে। সম্পদ, বংশ, বর্ণ ও পেশার কারণে মানুষের মর্যাদা নিরূপিত হয় না। মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা নিরূপিত হয় নৈতিকতা ও তাকওয়ার ভিত্তিতে। বর্ণ-বৈষম্য দূর করতেই রাসূলুল্লাহ সা: বেলাল হাবশি রা:-এর মতো একজন কালো-কুশ্রী কৃতদাসকে মসজিদে নববীর মুয়াজ্জিন নিযুক্ত করেছিলেন। এমনকি ইসলাম বর্ণ নিয়ে অহঙ্কার করাকে অসভ্যতা ও জাহেলি রীতি আখ্যায়িত করেছে। একবার রাসূলুল্লাহ সা:-এর সামনে হজরত আবুজর রা: তার গোলামকে কটু কথা বললেন এবং তার মায়ের ব্যাপারে কটুক্তি করলেন। এটা দেখে নবী করিম সা: আবুজর রা:কে কঠোরভাবে হুঁশিয়ার করে বললেন, তোমার মধ্যে এখনো জাহেলিয়াতের স্বভাব রয়েছে। এরা তোমাদেরই ভাই। আল্লøাহ তাদের তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন। অতএব যে ব্যক্তির অধীনে তার ভাই রয়েছে, তারা যা খাবে অধীনস্থদের তা খেতে দেবে এবং তারা যে মানের পোশাক পরিধান করবে অধীনস্থদের সে মানের পোশাক পরিধান করতে দেবে। সাধ্যাতিত কাজের জন্য তাকে বাধ্য করবে না। আর কাজ যদি তাকে দিয়েই করাতে হয়, তবে তাকে সাহায্য করবে। (বুখারি : ৩০)
কারো দু’জন স্ত্রী থাকলে উভয়ের মধ্যে সমতা বজায় রাখতে হবে। কারো প্রতি বৈষম্য করা যাবে না। অন্যথায় কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে। প্রিয় নবী সা: ইরশাদ করেন, ‘যার দু’জন স্ত্রী আছে, যদি সে তাদের মধ্যে সমতা রক্ষা না করে তবে কিয়ামতের দিবসে সে তার দেহের এক পাশ অবশ অবস্থায় উপস্থিত হবে।’ (তিরমিজি : ১১৪১)
কন্যা সন্তানের প্রতি বৈষম্য দূর করতেই ইসলাম কন্যা সন্তানকে অবহেলা না করে তাদের লালন-পালনের প্রতি উৎসাহিত করেছে। বিশ্বনবী ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি তিনটি কন্যা সন্তানকে উত্তমরূপে লালন-পালন করল, তাদের শিষ্টাচার শিক্ষা দিলো, তারপর তাদের উপযুক্ত স্থানে বিয়ে দিলো, তার জন্য রয়েছে জান্নাত।’ (সুনানে আবু দাউদ : ৫১৪৭)
অন্যের অকল্যাণ ও ক্ষতিসাধন তো দূরের কথা, কাউকে ঠাট্টা ও তুচ্ছ জ্ঞান করাও ইসলামে নিষিদ্ধ। মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ! কোনো সম্প্রদায় যেন অপর কোনো সম্প্রদায়কে উপহাস না করে; হতে পারে তারা উপহাসকারী থেকে উত্তম আর কোনো নারীও যেন অন্য নারীকে উপহাস না করে; হতে পারে তারা উপহাসকারীর চেয়ে উত্তম। আর তোমরা একে অপরকে নিন্দা করো না, ডেকো না একে অন্যকে মন্দ উপনামে।’ (সূরা হুজুরাত : ১১) বৈষম্য অন্যের অধিকার লঙ্ঘনের হাতিয়ার। তাছাড়া বৈষম্যমূলক আচরণ বড় ধরনের জুলুমও বটে। আল্লøাহ তায়ালা পূর্ববর্তী বহু জাতিকে জুলুমের কারণে ধ্বংস করে দিয়েছেন।
আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English