শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:০৫ অপরাহ্ন

ঈমান ও জন্মভূমির প্রতি ভালোবাসা

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিতঃ বুধবার, ২৪ মার্চ, ২০২১
  • ৪৭ জন নিউজটি পড়েছেন
অভাবে ধৈর্য ও তাড়া থেকে মুক্তির আমল

মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি জন্মভূমি ও মাটির প্রতি ভালোবাসা। কর্মময় জীবনে জন্মভূমি ও দেশের কথা কখনো আমরা ভুলতে পারি না। মাতৃভূমির প্রতি গভীর আবেগ অনুভূতি ও মমতাবোধকে জন্মভুমির ভালোবাসা বলে। একাধিক নবী ও রাসূলকে নিজ দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং বহিষ্কারের হুমকি দেয়া হয়েছে। সে হিসেবে বোঝা যায়, নবী-রাসূলরা দেশকে ভালোবাসতেন। এরশাদ হচ্ছেÑ ‘তাদের সম্প্রদায়ের দাম্ভিক নেতারা বলল, হে শোয়াইব! আমরা তোমাকে এবং তোমার সঙ্গে যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে আমাদের জনপদ থেকে বহিষ্কার করব অথবা তোমাদেরকে আমাদের ধর্মাদর্শে ফিরে আসতে হবে। সে বলল, যদিও আমরা তা ঘৃণা করি তবুও’ (সূরা আরাফ-৮৮)।
ইসলামে মাতৃভূমির ভালোবাসা কথাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ ব্যাপারে বিশ^নবী সা: বলেন, ‘প্রত্যেক মানুষের উচিত দেশকে ভালোবাসা। যে লোক দেশকে ভালোবাসে না, সে প্রকৃত ইমানদার নয়’। বিশ^নবী সা:-এর জীবন চরিতে স্বদেশ প্রেমের উজ্জ্বল নজির রয়েছে। তিনি জন্মভূমি মক্কা থেকে মদিনায় আল্লাহর নির্দেশে হিজরত করেন। তিনি মদিনা যাওয়ার পথে বারবার পেছনে ফিরে তাকান। কাতর কণ্ঠে উচ্চারণ করেন, ‘হে আমার স্বদেশ! তুমি কতই না সুন্দর! আমি তোমাকে কতই না ভালোবাসি। আমার আপন গোত্রের লোকেরা যদি ষড়যন্ত্র না করত, আমি কখনো তোমাকে ছেড়ে যেতাম না’। মদিনায় হিজরতের পর হজরত আবুবকর ছিদ্দিক রা: ও বিলাল রা: অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন তারা মক্কার স্মৃতি স্মরণে কবিতা আবৃত্তি করেন। বিশ^নবী সা: আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন, ‘হে আল্লাহ! আমরা মক্কাকে যেমন ভালোবাসি-তেমনি তার চেয়ে বেশি মদিনার ভালোবাসা আমাদের অন্তরে দান করুন’ (বুখারি)। তিনি বিশে^র ইতিহাসে অতুলনীয় এক দেশপ্রেমিক ছিলেন। একজন দেশপ্রেমিক মানুষ কর্তব্যপরায়ণ, দায়িত্ব সচেতন, স্বদেশের কাজ করেন। প্রেমের অভাবে মনুষ্যত্বের মৃত্যু ঘটে। যারা দেশকে ভালোবাসে না, তারা অকৃতজ্ঞ এবং প্রকৃত বিশ্বাসী নয়। একটি দেশের চারদিকে রাষ্ট্রীয় সীমারেখা থাকে। সীমান্ত রক্ষায় রয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী। দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী অতন্দ্র প্রহরী।
বিশ^নবী সা: বলেন, ‘এক দিন ও এক রাতের সীমান্ত পাহারা ক্রমাগত এক মাসের সিয়াম সাধনা ও সারা রাত নফল ইবাদতে কাটানো অপেক্ষা উত্তম’(মুসলিম)। দেশপ্রেম জাহান্নাম থেকে রক্ষা করে। বিশ^নবী বলেন, ‘দুটি চোখ জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না। একটি চোখ আল্লøাহর ভয়ে ক্রন্দন করে, আরেকটি চোখ যা সীমান্ত পাহারায় বিনিদ্র রজনী যাপন করে ’(তিরমিজি)। হজরত আনাস রা: বলেন, আমি খায়বর অভিযানে খাদেম হিসেবে রাসূল সা:-এর সাথে গেলাম। অভিযান শেষে রাসূল সা: যখন ফিরে এলেন, উহুদ পাহাড় তার দৃষ্টিগোচর হলো। তিনি বলেন, এই পাহাড় আমাদের ভালোবাসে, আমরাও এই পাহাড়কে ভালোবাসি’(বুখারি)।
হিজরত করে মদিনায় এসে রাসূল সা: প্রায়ই মক্কায় ফিরে যেতে ব্যাকুল হয়ে পড়তেন। ইরশাদ হচ্ছেÑ ‘যিনি তোমার জন্য কুরআনকে জীবন বিধান বানিয়েছেন, তিনি তোমাকে অবশ্যই তোমার জন্মভূমিতে ফিরিয়ে আনবেন’ (সূরা কাসাস-৮৫)। মুসলমানদের মক্কা বিজয়ের মাধ্যমে এটি বাস্তবায়িত হয়। স্বদেশ প্রেম বা দেশের প্রতি ভালোবাসা আল্লাহ প্রদত্ত একটি নিয়ামত। যা মানুষকে বেঁচে থাকার সাহস ও প্রাণ বিসর্জনে সাহসী করে তুলে। স্বদেশপ্রেম ছাড়া স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, দেশের সাফল্য ও উন্নয়নের চাকা সচল থাকতে পারে না। এরশাদ হচ্ছে,‘আমি আমার রাসূলগণকে সুস্পষ্ট নিদর্শনসহ প্রেরণ করেছি এবং তাদের সঙ্গে নাজিল করেছি কিতাব ও ন্যায়নীতি। যাতে মানুষ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারে’(সূরা হাদিদ-২৫)। সুতরাং সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায় প্রতিষ্ঠা, পারস্পারিক সহযোগিতা, ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন এবং ইসলামী আইন ও দণ্ডের বিধান কার্যকর করা প্রয়োজন রয়েছে।
আমরা মুসলিম। আমাদের স্বাধীনতা ও নিজস্ব সংস্কৃতিবোধ রয়েছে। সে হিসেবে প্রত্যেক মুসলমানের সামরিক, সংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক আগ্রাসন ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় সংগ্রাম করার অধিকার রয়েছে। বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে ২৬ মার্চ স্বাধীন হয়েছে। এ দেশের মুক্তি লাভের পিছনে এখানকার মানুষের দেশপ্রেম ও দেশাত্মবোধের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। এখানকার সবুজ মাঠ রক্তাক্ত হয়েছে। রক্তের বিনিময়ে এ দেশ বিশে^র অন্যতম বৃহৎ মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। এই দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব অখণ্ডতা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English