খুলনা কালেক্টরেট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের দু’টি হলরুমে পড়ে রয়েছে মাধ্যমিকের ১০ টন বই। দীর্ঘদিন পড়ে থেকে নষ্ট হলেও এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণে উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের। নিচতলার পূর্ব পাশের রুমের জানালার পাল্লা না থাকায় বই ভিজছে বৃষ্টির পানিতে। বছর বছর অবহেলায় মেঝেতে পড়ে থাকায় তা খাচ্ছে উইপোকায়। ভবনটির দুই রুমে ২০২০ শিক্ষা বর্ষের ৬ষ্ঠ শ্রেণির বাংলাদেশ বিশ্ব পরিচিতি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি। ৭ম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ইংলিশ ফর টুডে, ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা। ৮ম শ্রেণির ইংরেজি গ্রামার অ্যান্ড কম্পোজিশন, বিজ্ঞান। ৯ম-১০ম এর জীববিজ্ঞান, ক্যারিয়ার শিক্ষা, ইংরেজি, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতাসহ মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষার বিভিন্ন বই ছড়িয়ে রয়েছে।
এ বিষয়ে খুলনা কালেক্টরেট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এম. আবুল বাসার মোল্লা জানান, রুম দু’টি মাধ্যমিকের বই-পুস্তক রাখার জন্য ব্যবহার হতো। তবে স্থান পরিবর্তন করে বয়রায় স্থানান্তর করা হয়েছে। কিন্তু এই জায়গা থেকে বইগুলো সরানো হয়নি। দায়িত্বশীলদের এ বিষয়ে জানানো হয়েছে, কিন্তু তারা পদক্ষেপ নেননি।
মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল মোমিন জানান, ২০১০ সাল থেকে ওখানে বই রাখা হচ্ছে। ১৬ থেকে ২০ শিক্ষা বর্ষের বই পড়ে রয়েছে সেখানে। নষ্ট হতে থাকা বই এর বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, পুরাতন বই তারা বিক্রি করে দেন, তবে এখন পর্যন্ত বই বিক্রির বিষয়ে নির্দেশনা আসেনি।
এ ব্যাপারে খুলনা জেলা শিক্ষা অফিসার খন্দকার রুহুল আমিন জানান, আগে ওখানেই মাধ্যমিক সহ মাদরাসা ও কারিগরী শিক্ষার বই-পুস্তক রাখা হতো। এখন বয়রা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে রাখা হচ্ছে। কিছু পুরাতন বই আগের জায়গায় রয়েছে। তবে সেগুলো পলিথিন বিছিয়ে মেডিসিন দিয়ে রাখতে বলা হয়েছিল। বইগুলোর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানালে তিনি বলেন, ‘থানা পর্যায়ের দায়িত্বশীলের সাথে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’