নদী কিংবা সাগরপাড়ে বেড়াতে গেলেই দেখা পাওয়া যায় শামুক–ঝিনুকের। খালে–বিলে, এমনকি ডোবা কিংবা পুকুরেও পাওয়া যায় এগুলো। অনেকে আবার মুক্তার খোঁজে রীতিমতো ঝিনুক আহরণে নেমে পড়েন। আজকাল তো শামুক–ঝিনুকের চাষও হয়। তবে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশে এমন একটি শামুক ভেসে এসেছে, যার দেখা খুব কম মানুষই পেয়েছেন। আকারে এই শামুক অনেক বড়। বিক্রিও হয়েছে ১৮ হাজার রুপিতে।
ভারতের বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের এক টুইটের বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, শামুকটি ভেসে এসেছে অন্ধ্র প্রদেশের ইস্ট গোদাবরী এলাকায় একটি নদীতে।
এএনআই জানিয়েছে, বিশ্বে স্থল ও জলে শামুকের যত প্রজাতি রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রজাতির সদস্য ভেসে আসা ওই শামুক। এই প্রজাতির শামুক ৭০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বড় হতে পারে। ওজন হতে পারে ১৮ কেজি পর্যন্ত। অস্ট্রেলিয়ান ট্রাম্পেট নামের এসব শামুক বেশ পরিচিত। এদের খোলস দিয়ে তৈরি অলঙ্কার খুবই জনপ্রিয়। এই জনপ্রিয়তাই কাল হয়েছে শামুক প্রজাতিটির জন্য। অতিশিকারে প্রজাতিটি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়েছে।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই শামুক প্রজাতির বসবাস মূলত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে। তবে অন্যান্য অঞ্চলেও এদের দেখা পাওয়া যায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, এই প্রজাতির শামুক নদী কিংবা সাগরপাড়ে ভেসে আসে ঘূর্ণিঝড় ও শক্তিশালী ঝড়ের পর। এ ছাড়া বর্ষায় এরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। শীতে তারা নিষ্ক্রিয় অবস্থায় মাটির ভেতর গর্তে লুকিয়ে থাকে।
এনডিটিভি জানায়, ভারতের অন্ধ্র প্রদেশে নদীতে ভেসে আসা শামুকটির খবর ছড়িয়ে পড়তেই তা কিনতে রীতিমতো প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়। শেষে নিলামের আয়োজন করা হয়। সেই নিলামে শামুকটির সর্বোচ্চ দাম ওঠে ১৮ হাজার রুপি।
এদিকে এএনআইয়ের টুইটারের পরিপ্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শামুকটি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এক ব্যবহারকারী শামুকটির বৈজ্ঞানিক নাম (Syrinx Aruanus) নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, শামুকের নামটি হ্যারি পটার সিরিজের জাদুকরী বস্তু ‘হরক্রাক্স’–এর মতোই লাগে শুনতে। আরেক ব্যবহারকারী শামুকটির ভেতর মনোযোগকাড়া বিশেষ কিছু খুঁজেই পাননি। তৃতীয় এক ব্যবহারকারী অবশ্য শামুকটির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছেন।