লা লিগায় গত সপ্তাহে ভায়াদোলিদের বিপক্ষে গোলের মধ্য দিয়ে পেলেকে পেছনে ফেলে এক ক্লাবের হয়ে সবচেয়ে বেশি ৬৪৪ গোল করার রেকর্ড করেছিলেন বার্সেলোনার আর্জেন্টাইন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি। কিন্তু ব্রাজিলের ক্লাব সান্তোসের দাবি, মেসি পেলের এক ক্লাবের হয়ে বেশি গোল করার রেকর্ড ছুঁতেই পারেননি, ভাঙবেন তো দূরের কথা। দাবি অনুযায়ী, এখনো অক্ষত আছে তিনবারের বিশ^কাপজয়ী পেলের সেই রেকর্ড।
পেলের ক্লাব সান্তোস দাবি করে, এই ব্রাজিলিয়ান তাদের জার্সিতে ৬৪৩ গোল না, বরং ১০৯১ গোল করেছেন। সেই হিসাব অনুযায়ী মেসির পেলের থেকে এখনো ৪৪৭ গোলে পিছিয়ে আছেন। রেকর্ড ছোঁয়া তো বহু দূরের কথা। এ সম্পর্কে ক্লাবের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিই দিয়ে ফেলেছে সান্তোস।
বিবৃতিতে সান্তোস জানায়, ‘পেলের রেকর্ড মেসি ভাঙতে পারেননি। কেননা সান্তোসের হয়ে পেলের গোলসংখ্যা ৬৪৩ নয়, বরং ১০৯১টি। যে কারণে পেলের চেয়ে এখনো ৪৪৭ গোল পিছিয়ে রয়েছেন ৬৪৪ গোল করা মেসি। পেলের খাতা থেকে যেই ৪৪৮ গোল এখন মুছে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে, সেই গোলগুলো তখনকার সময়ের শীর্ষ ক্লাবের বিপক্ষেই করা হয়েছিল। মেক্সিকোর ক্লাব আমেরিকা এবং চিলির কলো কলোর বিপক্ষে ৯টি করে গোল আছে পেলের, ইন্টার মিলানের বিপক্ষে আছে ৮টি। যারা ষাটের দশকে অন্যতম সেরা ক্লাব ছিল।’
বিবৃতিতে সান্তোস আরো জানায়, ‘এই বাদ দেয়ার তালিকায় আরো বড় বড় নাম যেমন রিভার প্লেট, বোকা জুনিয়র্স, রেসিং, ইউনিভার্সিদাদ ডি চিলি, রিয়াল মাদ্রিদ, জুভেন্টাস, লাজিও, নাপোলি, বেনফিকা এবং আন্ডারলেখটের মতো ক্লাব রয়েছে। যে ক্লাবে মেসি খেলেন, সেই বার্সেলোনার বিপক্ষেও পেলে চার ম্যাচে ৪টি গোল করেছেন।’
‘কিছু বিশ্লেষক এখন যুক্তিতর্ক করেন যে, পেলের ৪৪৮টি গোল প্রীতি ম্যাচে দুর্বল দলের বিপক্ষে করা হয়েছে। যদি সেটি হয়েও থাকে, তবুও ম্যাচগুলো অফিসিয়াল নিয়ম মেনে, অফিসিয়াল জার্সিতেই খেলা হয়েছিল। আমাদের মাথায় রাখা উচিত, ক্লাবগুলো জাতীয় ফেডারেশনের অনুমতি নিয়েই প্রীতি ম্যাচ খেলে। যেখানে নিয়মকানুন সব ফিফারই থাকে।’
‘যত কিছুই বিবেচনায় আনা হোক না কেন, প্রতিপক্ষ যত দুর্বলই হোক না কেন, পরিসংখ্যান তো ফেলে দেয়া যাবে না। সংখ্যা সবসময় স্থির। এইবারের বিপক্ষে গোলের যেমন মূল্য, ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে গোলেরও পরিসংখ্যানগতভাবে একই মূল্য।’
এদিকে পেলের রেকর্ড ভাঙার পর নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে মেসি জানান, ‘আমি স্বপ্নেও ভাবিনি এই রেকর্ড স্পর্শ করতে পারব। শেষ পর্যন্ত তা করতে পেরে সত্যিই খুব ভালো লাগছে। এক ক্লাবের হয়ে এতগুলো গোল করা তো আর সোজা ব্যাপার না। মেসির রেকর্ড ভাঙার পর আর্জেন্টাইন সুপারস্টারকে পেলে নিজেও অভিনন্দন জানিয়েছিলেন।