শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন

এমসি কলেজে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ : বিচারিক অনুসন্ধানের নির্দেশ

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৭৮ জন নিউজটি পড়েছেন

স্বামীর সঙ্গে সিলেটের এমসি কলেজে বেড়াতে যাওয়া এক নববধূকে ছাত্রাবাসে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার বিচারিক অনুসন্ধান করতে একটি কমিটি করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক, মূখ্য মহানগর হাকিম ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককের (সাধারণ) সমন্বয়ে গঠিত এ অনুসন্ধান কমিটিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে প্রাতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

এ ঘটনায় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন নজরে আনার পর মঙ্গলবার বিচাপতি মো. মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে রুলসহ এ আদেশ দেন।

আদেশে ঘটনার শিকার নববধূ, মামলার বাদী, এমসি কলেজের অধ্যক্ষ, হোস্টেল সুপার, ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী (যদি খুঁজে পাওয়া যায়) এবং কমিটি যাদের প্রয়োজন মনে করবে, তাদের জবানবন্দি নিয়ে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন আদালত।

কোনো রকম ব্যর্থতা ছাড়া হাইকোর্টের এই আদেশের অনুলিপি বুধবারের মধ্যে তদন্ত কমিটির সদস্যদের কাছে পৌঁছাতে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া সিলেটের পুলিশ কমিশনারকে এই অনুসন্ধান কমিটির যথাযথ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। অনুসন্ধানকাজে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সরঞ্জাম সরবরাহ করতে সিলেটের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া রুলে ওই গণধর্ষণের হাত থেকে বাঁচাতে অবহেলা ও অছাত্রদের হলে থাকার দায়ে কলেজের অধ্যক্ষ ও হল সুপারের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে। কলেজের অধ্যক্ষসহ সংশ্লিষ্টদেরকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর এমসি কলেজে স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন এক গৃহবধূ। রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্বামীর কাছ থেকে ওই গৃহবধূকে জোর করে তুলে নিয়ে ছাত্রাবাসের সামনে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন ছাত্রলীগ কর্মীরা। এ সময় কলেজের সামনে তার স্বামীকে আটকে রাখে দুজন।

এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে শাহপরান থানায় মামলা করেন। মামলায় ছাত্রলীগের ছয় নেতাকর্মীসহ অজ্ঞাত আরও তিনজনকে আসামি করা হয়।

এ ঘটনায় গত রবিবার দুপুরে সিলেট মহানগর হাকিম তৃতীয় আদালতের বিচারক শারমিন খানম নিলার কাছে সেই রাতের ঘটনার জবানবন্দি দেন নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূ। এ সময় তিনি ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। আদালত গৃহবধূর জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে পরিবারের জিম্মায় দেন।

চাঞ্চল্যকর এই মামলায় এখন পর্যন্ত এজাহারনামীয় পাঁচ আসামিসহ সাতজনকে গ্রেফতার করেছে সিলেট রেঞ্জ পুলিশ ও র‌্যাব-৯। এদের মধ্যে ছয়জনের পাঁচদিন করে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।

তারা হলেন- মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমান, চার নম্বর আসামি অর্জুন লস্কর ও পাঁচ নম্বর আসামি মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ এমসি কলেজ শাখার সভাপতি রবিউল হাসান, এজাহারভুক্ত আসামি মাহবুবুর রহমান রনি, সন্দেহভাজন আসামি রাজন ও আইনুদ্দিন।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English