শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:২৪ পূর্বাহ্ন

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৪৬ জন নিউজটি পড়েছেন

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল ২০২১ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে অধ্যাদেশ জারির পর প্রকাশ করার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এছাড়া ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষা একই বছরের জুনে এবং এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা জুলাই-আগস্টে আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

বলার অপেক্ষা রাখে না, শিক্ষার্থীদের জীবনে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের পরীক্ষা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এ স্তর অতিক্রম করেই তারা উচ্চশিক্ষার বৃহত্তর জগতে প্রবেশের সুযোগ পায়, যা তাদের ভবিষ্যৎ জীবন গঠন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে। একইসঙ্গে এসএসসি পরীক্ষাও ছাত্রছাত্রীদের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ।

অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি, আন্দোলন কিংবা প্রশ্নপত্র ফাঁসজনিত পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্ভোগ পোহানোর নজির থাকলেও এবারের বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্ব বর্তমানে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

এ কারণে ইতোমধ্যে চলতি বছরের পিইসি, জেএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হয়েছে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষাও। এর পরিবর্তে পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষার্থী এবং অন্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিশেষ মূল্যায়নে নতুন ক্লাসে উত্তীর্ণের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, যৌক্তিক কারণেই সরকারকে এসব পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। কারণ এতদিন জনমনে ধারণা ছিল করোনাভাইরাসের ঝুঁকি থেকে শিশুরা অনেকটাই নিরাপদ।

কিন্তু কিছুদিন আগে প্রকাশিত ইউনিসেফের এক প্রতিবেদন এ ধারণাটিকে ভুল প্রমাণ করেছে। ৮৭টি দেশের বয়সভিত্তিক পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে তৈরি এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনায় সংক্রমিত প্রতি নয়জনের একজন শিশু। এ পরিস্থিতিতে পুরো একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

অবশ্য কমিউনিটিতে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে স্কুলগুলোই একমাত্র চালিকাশক্তি নয়; বরং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্কুলের বাইরে থেকেও শিশুরা আক্রান্ত হতে পারে এবং সেক্ষেত্রে পরস্পরের মধ্যে তো বটেই, এমনকি বড়দের মধ্যেও তারা ভাইরাসটি ছড়িয়ে দিতে পারে। তবে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকার কোনো বিকল্প নেই।

শিক্ষামন্ত্রী অবশ্য পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল সময়সীমায় এসএসসি এবং ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে সরাসরি পাঠদানের উদ্যোগ নেয়ার কথা জানিয়েছেন। এক্ষেত্রে সিলেবাস ‘কাস্টমাইজ’ করার কাজ চলছে, যা ১৫ জানুয়ারির মধ্যে শিক্ষার্থীরা জানতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অনেক দেশ করোনার প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে না আসার পরও জীবিকার তাগিদে দোকানপাট, কল-কারখানা, অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ খুলে দিলেও পরে দেখা গেছে, সেখানে ভাইরাসটির বিস্তার পুনরায় বৃদ্ধি পেয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কড়াকড়ি শিথিল করার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছে।

ইতোমধ্যে করোনার ‘দ্বিতীয় ঢেউ’ নিয়ে দেশে দেশে উদ্বেগ বাড়ছে। বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ রাষ্ট্রও এর বাইরে নয়। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনি তাদের শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা যাতে নষ্ট না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English