শুরু থেকেই করোনা রোগীর আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে সরকার মিথ্যাচার করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেছেন, সরকার শুরু থেকেই করোনা রোগীর আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে মিথ্যাচার করেছে। জাতির সামনে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরা হচ্ছে না। করোনার টেস্ট কমিয়ে দিয়ে করোনা রোগী নেই বলে জনগণকে ধাপ্পা দিয়ে বিপদের মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে করোনা থেকে জনদৃষ্টিকে অন্যদিকে সরিয়ে রাখা। নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকা দেয়ার জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও মিথ্যাচারের যন্ত্র বানানো হচ্ছে।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিদিনই বৃদ্ধি পেয়েই যাচ্ছে। এখনও আক্রান্ত ও মৃত্যু সংখ্যার মধ্যে কোনো আশার আলো দেখা যাচ্ছে না। সরকারি হিসাবে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যায় চীনকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ। এভাবে চলতে থাকলে এদেশে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে। দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।
রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কয়েক দিন আগে বলেছেন- বিএনপি চিরাচরিত মিথ্যাচার করছে। বিএনপি বলেছে সরকার করোনা রোগীদের পরিসংখ্যানে ৮২ হাজার রোগীর নাম বাদ দিয়েছে। তিনি বলেছেন ৮২ হাজারের তথ্য কোথায় পেয়েছেন এবং এ তালিকা জানতে চেয়েছেন। ওবায়দুল কাদের সাহেবের উদ্দেশ্যে বলতে চাই- বানোয়াট এবং অসত্য কথা বলার ফেরিওয়ালা আপনারা। একটি ইংরেজি পত্রিকায় এসেছে ৮২ হাজার নয়, ৮৪ হাজার করোনা রোগী সরকারের ডাটাবেজের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
বিএনপির এই নেতা বলেন, ডিজি হেলথ সার্ভিস কি সরকারি নাকি বিরোধীদলীয় প্রতিষ্ঠান? এটি প্রত্যক্ষভাবে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। তাদের ডাটাবেজ থেকে ৮৪ হাজার রোগীর নাম হারিয়ে গেল কীভাবে? এ তথ্যটি এমন একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে যেটি জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্য। এ সংবাদ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে- সরকারি ডাটাবেজে এলাকাভিত্তিক করোনার সংখ্যা ও সংক্রমণের হারেরও তেমন তথ্য নেই। আমি বলতে চাই- পত্রিকাটি পাঠ করে ওবায়দুল কাদের সাহেবের নিজের আত্মমর্যাদার কথা চিন্তা করে এই মুহূর্তে পদত্যাগ করা উচিত। জনসম্মুখে ডাহা মিথ্যা উল্লেখ করার পর একজন মন্ত্রীর কোনোক্রমেই দায়িত্বে থাকা তার মর্যাদার সঙ্গে বেমানান।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য একরামুল হক বিপ্লব, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতা জাহিদুর রহমান, মোরশেদ আলম প্রমুখ।