প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা করে শিগগিরই সারা দেশের কওমি মাদ্রাসা খুলে দেওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক কিছু বলতে পারবেন বলে আশাবাদী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। কওমি মাদ্রাসার প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বলে কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ সংস্থা আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল-জামিয়াতিলের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
গতকাল বুধবার দুপুর ২টায় আল-হাইআতুল উলইয়া লিল-জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের মুহতারাম চেয়ারম্যান এবং বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের সভাপতি আল্লামা মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে ৮ জনের একটি প্রতিনিধি দল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তার সচিবালয়ের কার্যালয়ে দেখা করেন। এ সময় তারা সরকারের নিকট কওমি মাদ্রাসাসমূহ খুলে দেওয়ার জোর দাবি জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে অতি দ্রুত হিফজ ও মক্তব বিভাগ খুলে দেওয়া হবে এবং পর্যায়ক্রমে সারা দেশের কওমি মাদ্রাসা ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালুর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
মাহমুদুল হাসান জানান, কওমি মাদ্রাসাগুলোতে কোরআন-হাদিস ভিত্তিক শিক্ষাকার্যক্রম চালানো হয়। কোরআন তেলাওয়াত, জিকির, দুআ, তাহাজ্জুদ ও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে মহামারী ও বালা-মসিবত হতে মুক্তির জন্য বিশেষভাবে মুনাজাত করা হয়। এর মাধ্যমে আল্লাহতায়ালার অশেষ রহমতে জাতি করোনাসহ সব রকম বালা-মসিবত থেকে পরিত্রাণ পেতে পারে। তিনি জানান, প্রায় দেড় বছর ধরে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। শিক্ষাকার্যক্রম বন্ধ থাকায় অনেক শিক্ষার্থী অহেতুক ও অপরাধমূলক কর্মকা-ে জড়িয়ে পড়ছে। পারিবারিক ও সামাজিক অবক্ষয় দেখা দিচ্ছে। এ অবস্থায় সার্বিক বিবেচনায় সারা দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
তিনি আরও জানান, অনেক আলেম-উলামা, মাদ্রাসার ছাত্র ও ধর্মপ্রাণ মুসলমান জেলখানায় বন্দি আছে। তাদের দ্রুত মুক্তি দেওয়ার এবং যারা আত্মগোপনে আছেন বা হয়রানির শিকার তাদের হয়রানি বন্ধেরও জোর দাবি জানান তিনি।
প্রতিনিধি দলের আল-হাইআতুল উলইয়া ও বেফাকের বাকি সদস্যরা হলেন- মাওলানা নূরুল ইসলাম, আল্লামা আব্দুল কুদ্দুস, মাওলানা মাহফুজুল হক, মুফতি ফয়জুল্লাহ, মুফতি নূরুল আমীন, মুফতি মোহাম্মদ আলী এবং মাওলানা ইয়াহইয়া মাহমুদ।