ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার সংরক্ষিত সন্তোষপুর বনাঞ্চলের ৪ শতাধিক বানর করোনার কারণে ৫ মাস ধরে শুধু চাল খেয়ে ক্ষুধা নিবারণ করছে। নতুন করে জন্ম নেওয়া অর্ধশতাধিক বানরের বাচ্ছাসহ মা বানর অপুষ্টিতে ভুগছে। বনে স্থায়ী জলাধার না থাকায় শুষ্ক মৌসুমের ৬ মাস বানরগুলো পানীয় জলের অভাবে ভোগে থাকে।
উপজেলার সংরক্ষিত সন্তোষপুর বনাঞ্চলে প্রায় ৪ শতাধিক বানর রয়েছে। করোনা শুরু হওয়ার পর থেকে বনে ভ্রাম্যমাণ হিসাবে বসা ৮-৯ দোকানপাটা বন্ধ করে দেয় বন বিভাগ। দোকানপাটগুলো বন্ধ করে দেওয়ায় বানরগুলো ৫ মাস ধরে শুধু চাল খেয়ে ক্ষুধার জ্বালা নিরারণ করছে। করোনার আগে বনে ভ্রমণে আসা দর্শনার্থীরা দোকানগুলো থেকে কলা, বিস্কুট বিভিন্ন সামগ্রী কিনে বানরকে খাবার দিতেন।
নতুন করে এ বছর ৫০ টির মত বানরের বাচ্ছা জন্ম নিয়েছে। বানরকে খাবার হিসাবে চাল দেওয়ায় বাচ্চা বানর ও দুধ দেওয়া মা বানরগুলো বেশি অপুষ্টির শিকার হচ্ছে। চাল বানরের শরীরের শক্তি জোগালেও পুষ্টির চাহিদা মিটছে না বলে অভিমত ব্যক্ত করেছে প্রাণী বিশেষজ্ঞরা।
বনে দোকান করা আবু হানিফা জানান, করোনার শুরুর পর থেকে আমাদের দোকানগুলো বন বিভাগ বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা এখন আর দোকানদারী করি না। দোকান খোলা থাকলে বানররা বাড়তি খাবার পেত।
আরও পড়ুন: কুমেক হাসপাতালে করোনা উপসর্গে আরও ৯ জনের মৃত্যু
অপর দিকে, বনে স্থায়ী জলাধার না থাকায় বনের বানরগুলো শুষ্ক মৌসুমের ৬ মাস চরমভাবে পানীয় জলের অভাবে ভোগে। দীর্ঘ দিন গোসল করতে না পারায় বানারগুলো চর্মরোগে ভুগে থাকে।
সন্তোষপুর বনবিট কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম জানান, চাল বানরের খাবার না হলেও ক্ষুধা মিটানোর জন্য দেওয়া হয়। তাছাড়া বনে আগের মত প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠা ফলমুল না থাকায় সংকট এখন প্রকট। তবে বানরের জন্য করা পেয়ারা বাগানে থেকে বানর কিছুটা পেয়ারা খেয়ে থাকে। শুষ্ক মৌসুমে জলের চরম সংকট শিকার করে তিনি বলেন, একটি স্থায়ী জলাধার খনন করা হলে বানরের জলের চাহিদা মিটানো সম্ভব।
ফুলবাড়ীয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আনিছুর রহমান জানান, শুধু চাল খেয়ে বানরগুলো অপুষ্টিতে ভোগার সম্ভাবনা বেশি। এর বেশি প্রভাব পড়তে পারে বাচ্ছা বানরগুলো ও দুধ দেওয়া মা বানরগুলোর ওপর। চালের পাশাপাশি বানরের পুষ্টিকর খাবার যেমন কলাসহ ফলমূল দেওয়া হলে ভালো হয়।