স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, বঙ্গবন্ধু এদেশের সকল স্তরের মানুষকে সংগঠিত করে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। ঘোষণা করেছেন ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’। কাউকে ধরে এনে রেডিও টেলিভিশনে ঘোষণা দিলেই স্বাধীনতার ঘোষক হওয়া যায় না। জাতি, ধর্ম-বর্ণ, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও উন্নত-সমৃদ্ধ বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়তে হবে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীতে শ্রী শ্রী মাধ্ব গৌড়ীয় মঠের শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সকল ধর্মের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে যেমন দেশ স্বাধীন করেছে, তেমনি বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গোটা জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে ২০৪১ সালের আগেই উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ বিনির্মাণ করবে।
মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ধারক প্রধানমন্ত্রী এদেশের কৃষক-শ্রমিক-মেহনতীসহ সকল শ্রেণী-পেশার মানুষকে সাথে নিয়ে উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অদম্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর নেতৃত্বে পুরো জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে না পারলে এই অগ্রযাত্রা ব্যাহত হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষ ও অসাম্প্রদায়িক দেশ। এদেশে সব ধর্মের মানুষ নিজেদের নাগরিক অধিকারসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন যা রাষ্ট্র নিশ্চিত করেছে। ধর্ম যার যার উৎসব সবার জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ইসলাম ধর্মসহ অন্যান্য সকল ধর্মেই স্বাধীনভাবে নিজেদের ধর্ম পালন করার অধিকার দেয়া হয়েছে।
মো. তাজুল ইসলাম বলেন, জাতির পিতার দর্শন মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই মানুষ। সকলের অধিকার আছে একটি দেশে নিজেদের ধর্ম পালন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পূর্ণ নাগরিক অধিকার এবং আত্মসম্মান নিয়ে বসবাস করার। তিনি জানান, জাতির পিতার আদর্শ ও চেতনাকে নষ্ট করে মানুষের মাঝে দ্বন্দ্ব-বিবাদ সৃষ্টি করতে ধর্মকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে একটি সুবিধাবাদী দল। তারা ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে সকল ধর্মের মানুষের সাথে খেলা করে। তাদের থেকে সাবধান থাকতে হবে।