রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:১৩ পূর্বাহ্ন

কাগুজে হিসাবে খেলাপি ঋণ কমল

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ বুধবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৩৭ জন নিউজটি পড়েছেন

গত বছর (২০২০) সরকারি-বেসরকারি সব বাণিজ্যিক ব্যাংক ঋণ বিতরণ করেছে ১১ লাখ ৫৮ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হয়েছে ৮৮ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

২০১৯ সাল শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৯৪ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ কমল ৫ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের খেলাপি ঋণসংক্রান্ত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতি ৩ মাস পর এটি প্রকাশ করা হয়। সর্বশেষ প্রতিবেদনটি মঙ্গলবার রাতে গভর্নর ফজলে কবির অনুমোদন দিয়েছেন। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, খেলাপি ঋণ যা কমেছে তা কমা বলা যায় না। কারণ এটা কাগজে-কলমে কম দেখানো হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ অনেক বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, এটি গাণিতিক হিসাব। এর সঙ্গে বাস্তবতার কোনো সম্পর্ক নেই। কারণ বিপুল অঙ্কের ঋণ অবলোপন করা হয়েছে। ঋণ পুনঃতফসিলও করেছে প্রচুর। সুতরাং খেলাপি ঋণের এ অঙ্ক প্রকৃত চিত্র নয়। এতে সন্তোষজনক কিছু ঘটেনি। তাই খুশি হওয়ার কিছু নেই। বরং ব্যাংক খাতের আরও অবনতি হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ বলেন, কাগজে-কলমে খেলাপি ঋণ কম দেখানো হচ্ছে। ঋণখেলাপিদের একের পর এক সুবিধা দেয়া হয়েছে। এখন আবার ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে দাবি উঠেছে ডাউন পেমেন্ট ছাড়া ঋণ পুনঃতফসিলের। এটা করা হলে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিরা আরও উৎসাহিত হবেন। আর যারা ঋণ পরিশোধ করতে আগ্রহী, তারা হারাবেন ঋণ পরিশোধের আগ্রহ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণ করেছে ২ লাখ ২ হাজার ৩৩০ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হয়েছে ৪২ হাজার ২৭৩ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ২০ দশমিক ৪২ শতাংশ। বিদায়ী বছরে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণ করেছে ৮ লাখ ৬৬ হাজার ৯৭২ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হয়েছে ৪০ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ। একই সময়ে বিদেশি ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণ করেছে ৫৮ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকা।

এর মধ্যে খেলাপি ২ হাজার ৩৮ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩ দশমিক ৪৬ শতাংশ এবং সরকারি বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণ করেছে ৩০ হাজার ৪৮৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ৪ হাজার ৬১ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ১৩ দশমিক ৩২ শতাংশ।

ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, করোনাভাইরাসের কারণে যে প্যাকেজ নেয়া হয়েছে, তার একটি বড় অংশ বিতরণ করা হয়েছে। সে কারণে ঋণ বিতরণ বেড়েছে। তবে খেলাপি ঋণ কমার পেছনে ঋণ পুনঃ তফসিল, ঋণ অবলোপন, পুনর্গঠন সুবিধা ও আংশিক আদায় হলেও কাজ করেছে।

জানতে চাইলে ব্যাংকগুলোর এমডিদের সংগঠন-এবিবি সাবেক চেয়ারম্যান ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট্র ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, চার কারণে খেলাপি ঋণ কমেছে। এর মধ্যে ঋণ পুনঃতফসিল, ঋণ অবলোপন, ঋণ পুনর্গঠন সুবিধা অন্যতম। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে ঋণ আদায়ও হয়েছে। সব মিলিয়ে খেলাপি ঋণ কমেছে।

পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল হালিম চৌধুরী বলেন, করোনার কারণে গত এক বছর কাউকে খেলাপি করা হয়নি।

এছাড়া কিছু ঋণ আদায় এবং নিষ্পত্তি হয়েছে। সে কারণ খেলাপি ঋণ কিছুটা কমেছে। একজন এমডি বলেন, কৃত্রিমভাবে খেলাপি ঋণ কমানো হয়েছে। ২০১৯ সালে গণহারে ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে। ২০২০ সালে কাউকে খেলাপি করা হয়নি। সুতরাং খেলাপি বাড়ার কোনো সুযোগই পায়নি। প্রকৃত চিত্র বের হবে ২০২১ সালে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English