আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের হামিদ কারজাই বিমানবন্দরে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) খোরাসান প্রদেশ শাখার ভয়াবহ বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৭৫ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন দেড় শতাধিক মানুষ। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবর আল জাজিরার।
বৃহস্পতিবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় কাবুল বিমানবন্দরের আবে ফটকে বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। আইএস এ হামলার দায় স্বীকার করে বলে, যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ও তাদের আফগান মিত্রদের ‘লক্ষ্যবস্তু’ বানিয়ে তারা আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছে।
আফগানিস্তানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে শুক্রবার সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহত ওই ১৭০ জনের মধ্যে মার্কিন বাহিনীর ১৩ জন এবং তিনজন ব্রিটিশ নাগরিকও রয়েছেন।
তবে নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, মার্কিন বাহিনীর ১৩ জনকে ছাড়াই নিহতের সংখ্যা ১৭০ জনের পৌঁছেছে বলে আফগান স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা তাদের জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে হামলার দায় স্বীকার করে দেওয়া বার্তায় আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী দল আইএসও বলেছিল, তাদের একজন সদস্য ভিড়ের মধ্যে নিজের শরীরে থাকা বোমার বেল্টে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।
হামলকারীদের জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইতোমধ্যে বলেছেন, আমেরিকা তাদের খুঁজে বের করবে।
তবে বাইডেন এখনও ৩১ অগাস্টের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনায় অটল রয়েছে বলে জানানো হয়েছে সিএনএন এর খবরে।
আগের দিনের বোমা হামলার পর শুক্রবার কাবুল বিমানবন্দর দিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার চূড়ান্ত পর্ব শুরু হয়েছে। তবে সেখানে ইসলামিক স্টেট আবারও হামলা চালাতে পারে ধরে নিয়ে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
প্রেসিডেন্ট বাইডেন সামনের দিনগুলোতে কাবুল বিমানবন্দরে আরও হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছেন বলে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউজের একজন কর্মকর্তা।
জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে বৈঠকে বাইডেনকে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তা এবং অন্যদের নিরাপত্তায় সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আইএসের সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে মার্কিন বাহিনী ‘সজাগ আছে’ জানিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, “এই (আফগানিস্তান) মিশনে আগামী কয়েকটা দিন হবে এযাবৎকালের সবচেয়ে বিপজ্জনক সময়।”
তিনি জানান, মার্কিন সেনাদের সঙ্গে যারা যে মার্কিন নাগরিকরা দেশে ফিরে আসতে চান, তাদের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং তাদের নিরাপদে বিমানবন্দরে নিতে ‘বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা’ ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, আগের দিনের হামলার পরও কাবুল থেকে ফ্লাইট চলাচল অব্যাহত রয়েছে এবং গত ২৪ ঘণ্টায় সাড়ে ১২ হাজার মানুষকে আফগানিস্তান থেকে সরিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছে পেন্টাগন।
যুক্তরাষ্ট্র ১৪ আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত লাখের বেশি মানুষকে আফগানিস্তান থেকে সরিয়ে নিয়েছে। এরইমধ্যে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানিসহ বেশ কয়েকটি দেশ লোকজন সরিয়ে নেওয়ার কাজ সমাপ্তি ঘোষণা করেছে।