আল্লাহ তায়ালার এ পৃথিবীতে আদি পিতা হজরত আদম আ: থেকে এখন পর্যন্ত বহু লোকের আগমন ঘটেছে। মানবের এ ইতিহাস অনেক দীর্ঘ। এ আকাশের নিচে ও জমিনের উপরে কত ধরনের মানুষ, কত গুণের অধিকারী, কত স্বভাব-চরিত্রের মানুষ বিচরণ করেছেন, কত নবী-রাসূল, ওলি-গাউস-কুতুব এসেছেন তার কোনো ইয়ত্তা নেই। কেউ রাজা, কেউ হয়েছেন প্রজা, কেউ ধনী, কেউ গরিব, কেউ লম্বা, কেউ খাটো, কেউ সুন্দর, কেউ কালো, কেউ আস্তিক, কেউ নাস্তিক, কেউ মুশরিক, কেউ জ্ঞানী, কেউ মূর্র্খ, কেউ শিল্পী কেউবা কবি-সাহিত্যিক। স্বীয় কর্মের ফলে কেউ হয়েছেন ইতিহাসে কুখ্যাত, কেউ হয়েছেন বিখ্যাত, আবার কেউ হয়েছেন বিশ্বস্ত।
কুখ্যাত : কুখ্যাত বলতে বোঝায় এমন লোকদের, যারা সীমাতিরিক্ত অপকর্ম ও মন্দকাজ করে ইতিহাসে কুখ্যাত হিসেবে নিজেদের স্থান করে নিয়েছে। জীবদ্দশায় মানুষ তাদের ডরে-ভয়ে, শ্রদ্ধা-ভক্তি করলেও মৃত্যুর পর তারা ঘৃণার পাত্রে পরিণত হয়েছে। তারা জীবদ্দশায় মনে করত তাদের অপকর্ম দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং এর ফলে তারা স্থায়ী সম্মান ও মর্যাদা লাভ করবে। তারা অপকর্ম করেছে বিখ্যাত হওয়ার জন্য। কিন্তু তাদের খ্যাতি ও সম্মান জীবদ্দশায় সীমাবদ্ধ ছিল। মৃত্যুর পর তারা ঘৃণার পাত্রে পরিণত হয়েছে। যেমনÑ হিটলার, মুসোলিনি, ফিরাউন, নমরুদ, হামান, কারুন, আবু জেহেল প্রমুখ। তারা মানব ইতিহাসে সম্মানের অধিকারী হতে পারেনি বরং হয়েছে ইতিহাসে কুখ্যাত।
বিখ্যাত : বিখ্যাত দুই ধরনের। ভালো কাজ করে বিখ্যাত আবার খারাপ কাজ করে বিখ্যাত। যারা খারাপ কাজ বা শরিয়ত সমর্থন করে না এমন কাজ করে বিখ্যাত হয়েছে, তারা দুনিয়াতেই মর্যাদা, শ্রেষ্ঠত্ব ও সুখ্যাতি লাভ করেছে। পরকালে তাদের কিছুই নেই। আর যারা দুনিয়ায় শরিয়ত-সমর্থিত কাজ করে কিংবা কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী শাসন করে বা দ্বীনের পথে যুদ্ধ করে, কিংবা জ্ঞানী-গুণী অথবা কবি-সাহিত্যিক হিসেবে ইতিহাসে বিখ্যাত হয়েছে। তারা দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জাহানে সফলকাম। তারা ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন এবং থাকবেন।
বিশ্বস্ত : যার মধ্যে আদালত তথা ন্যায়পরায়ণতা পরিপূর্ণভাবে রয়েছে সেই বিশ্বস্ত। হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত হওয়ার জন্য শর্ত হলোÑ বিবেক-বুদ্ধিসম্পন্ন হওয়া, মেধাশক্তির অধিকারী হওয়া, ন্যায়পরায়ণতার অধিকারী হওয়া ও মুসলমান হওয়া। একজন মুমিনকে বিশ্বস্ত হওয়া অপরিহার্য। তার চিন্তা করা দরকার তার দুই কাঁধে রয়েছে আল্লাহর শক্তিশালী দুটি সিসি ক্যামেরা। আর আল্লাহ তায়ালাও তাকে দেখছেন। তার ভাবা উচিত, সে ইনসাফকারী ও ইহসানকারী কি না, তার ওপর অন্য ব্যক্তি আস্থা রাখতে পারে কি না, তার কাছে আমানত রাখলে ঠিকভাবে পাবে কি না, ঋণ নিলে যথা সময়ে তা ফেরত দেবে কি না, অন্যের হক যথাযথভাবে পরিশোধ করে কি না, সর্বপ্রকার পাপাচার থেকে সে মুক্ত কি না। সব নবী-রাসূলদের উম্মত এবং সাহাবায়ে কিরাম বিশ্বস্ত ছিলেন। এটি মুমিনের সেরা গুণ। এ নশ্বর জগতে কুখ্যাত ও শরিয়তবিরোধী কাজে বিখ্যাত হয়ে লাভ নেই; বরং দ্বীনি কাজে বিখ্যাত ও মানবসমাজে বিশ্বস্ত হওয়ার মধ্যে রয়েছে উভয় জাহানের কল্যাণ। আল্লাহ তায়ালা আমাদের দ্বীনি কাজে বিখ্যাত ও মানবসমাজে বিশ্বস্ত হওয়ার তাওফিক দান করুন, আমীন।