শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:২৩ পূর্বাহ্ন

কোনো দেশই প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ রেখে এগোতে পারে না: কাদের

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২০
  • ৫৭ জন নিউজটি পড়েছেন

বাংলাদেশ-ভারতের বন্ধুত্ব ইতিহাসের যে কোনো সময়ের চেয়ে উষ্ণ ও সৌহার্দপূর্ণ বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

মঙ্গলবার রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্মাষ্টমী পালন উপলক্ষে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দিয়ে তিনি এ কথা জানান। জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় অবস্থিত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন থেকে এ অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, দেশের উন্নয়নে যেমন প্রয়োজন অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা, তেমনই প্রয়োজন প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কোনো দেশই প্রতিবেশীর সঙ্গে খারাপ সম্পর্ক রেখে এগোতে পারে না। এ বাস্তবতায় বাংলাদেশ-ভারত তথা শেখ হাসিনা-নরেন্দ্র মোদি সরকারের সম্পর্ক সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। দুদেশের সম্পর্ক একাত্তরের রক্তের রাখিবন্ধনে আবদ্ধ। বর্তমানে এ বন্ধুত্ব ইতিহাসের যে কোনো সময়ের চেয়ে উষ্ণ ও সৌহার্দপূর্ণ।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্কের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিবেশীর সঙ্গে ভালো বোঝাপড়া থাকলে অনেক অমীমাংসিত ইস্যু সহজে সমাধান সম্ভব, যার প্রমাণ বাংলাদেশ ও ভারত। দীর্ঘদিনের সীমান্ত সমস্যা, শান্তিপূর্ণভাবে ছিটমহলবিনিময় পারস্পরিক আস্থা বাড়িয়ে তুলেছে। বাংলাদেশের সমুদ্র জয়ের মামলায় ভারত আপিল না করে বন্ধুসুলভ যে আচরণ করেছে তা সম্পর্কের সূত্রকে করেছে আরও সুদৃঢ়। আস্থা ও বিশ্বাসের যে সেতুবন্ধ তৈরি হয়েছে, তার মাধ্যমে তিস্তা সমস্যা ও অন্যান্য নদীর পানি বণ্টনের আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশের নাগরিক হিসেবে সবার সমান সুযোগ এবং অধিকার রয়েছে। আপনারা নিজেদের মাইনোরিটি ভাববেন না। এ শব্দটি আপনাদের মানসিকভাবে পিছিয়ে রাখবে। আপনারা দেশের উন্নয়নে কাজ করছেন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে। নাগরিক হিসেবে একজন মুসলমানের রাষ্ট্রের প্রতি যে অধিকার আপনার সমান অধিকার। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে আপনাদের অংশগ্রহণ রয়েছে।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সরকার কথায় ও কাজে এ কথা বিশ্বাস করে। আর তাই অসাম্প্রদায়িক চেতনা দিয়েই আমরা গড়ে তুলতে চাই এ দেশের সমৃদ্ধির সোপান। মাঝে মাঝে বিচ্ছিন্নভাবে একটি অশুভচক্র একটি সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী এ দেশের হাজার বছরের ঐতিহ্যে আঘাত হানার অপচেষ্টা করে। আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই- শেখ হাসিনা যতদিন আছেন, আপনাদের কোনো ভয় নেই।

সেতুমন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালে সরকার পরিবর্তনের পর এ দেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর কী নির্যাতন নেমে এসেছিল তা আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে। যে নির্যাতন একাত্তরে পাক-হানাদারদের নির্যাতনকেই মনে করিয়ে দেয়। শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগই তখন পাশে দাঁড়িয়েছিল। সুযোগ পেলেই সাম্প্রদায়িক অপশক্তি আঘাত হানে নানা কৌশলে। তাদের অপচেষ্টা এখনও চলছে, তারা এখনও সক্রিয়। বিষদাঁত ভেঙে দেয়া হয়েছে বলে আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই। তাই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। থাকতে হবে সচেতন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, এ দেশে যারা হত্যা ষড়যন্ত্রের রাজনীতির সূচনা করেছে ও লালন করেছে, সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষ বড় করে তুলেছে, তারাই হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের জীবন এবং সম্পদের ওপর বারবার আঘাত হেনেছে। আর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পরমবন্ধু হিসেবে পাশে থেকেছে। উন্নয়ন, মানবিকতা ও সম্প্রীতির শত্রু সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিষবৃক্ষকে উপড়ে ফেলতে আসুন শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি শৈলেন্দ্র নাথ মজুমদার। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত, সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জি, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কিশোর রঞ্জন মজুমদার।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English