শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:৫২ অপরাহ্ন

ক্যাম্পাসের পরিত্যক্ত জমিতে সবজি চাষ

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২০
  • ৪১ জন নিউজটি পড়েছেন

করোনাভাইরাসের মহামারীতে প্রায় চার মাস ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের প্রাচীন বিদ্যাপীঠ সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজ ক্যাম্পাসেও নেই শিক্ষার্থীদের পদচারণা। ত্রিশ সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর এই ক্যাম্পাসে প্রকৃতি ফিরে পেয়েছে প্রাণ। প্রকৃতির প্রয়াসকে আরও একধাপ এগিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষের নন্দিত উদ্যোগ। ক্যাম্পাসের ডোবা ও নিচু জমি ভরাট করে প্রায় দুই একর জমিতে চাষ হচ্ছে সবজি। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে সৌন্দর্য্যবর্ধক গাছ ও ফুলের চারা রোপণ করা হয়েছে। মাঠজুড়ে সবুজ ঘাস লাগানো হয়েছে। লেকের জলের লাল শাপলা দর্শনার্থীদের হৃদয়স্পর্শ করছে। করোনা পরবর্তীকালে শিক্ষার্থীরা ফিরে পাবে নৈসর্গিক পরিবেশ।

১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠিত যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজে ১৯টি বিষয়ে স্নাতক সম্মান ও ১৭টি বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি, উচ্চ মাধ্যমিক এবং স্নাতক কোর্সে প্রায় ত্রিশ সহস্রাধিক শিক্ষার্থীকে পাঠদান করা হয়। প্রায় ১৪ একর ক্যাম্পাসে কর্তৃপক্ষের নন্দিত উদ্যোগে চারমাস পর বদলে গেছে ক্যাম্পাসের চেহারা। ক্যাম্পাসের দুই একর ডোবা ও নিচু জায়গায় মাটি ভরাট করে সবজি চাষ শুরু হয়েছে। লাল শাক, সবুজ শাক, পুইশাক, মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির সবজির বীজ বপন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সবজির চারা গজিয়েছে। ক্যাম্পাসের ভেতরে প্রতিটি রাস্তার দুইধারে ফুল ও শোভাবর্ধণকারী বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে। ক্যাম্পাসের দক্ষিণপাশের প্রাচীরের গা ঘেঁসে শোভাবর্ধনকারী গাছ ও ফুলের চারা রোপণ করা হয়েছে। কলা ভবনের সামনে ও শহীদ মিনার সংলগ্ন নিচু জমি ভরাট করায় সবুজ ঘাসে দৃশ্যপট বদলে গেছে। নতুন ভবনের সামনে লেকে লাল শাপলা ফুলের সৌন্দর্য্য চোখে পড়ার মতো। সবুজ ক্যাম্পাস সংরক্ষণে কলেজের কর্মচারীদের পাশাপাশি এগিয়ে এসেছে রোভার ও বিএনসিসির স্বেচ্ছাসেবীরা।

কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ছোলজার রহমান বলেন, কলেজের প্রায় ১৪ একর ক্যাম্পাসে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষের আনাগোনা থাকে। আবহাওয়া ও জলবায়ুগত জীববৈচিত্র্য হ্রাস পাওয়ার মতো পরিবেশ বিরাজমান ছিল। কিন্তু করোনা মহামারীতে পাঠদান বন্ধ থাকায়, প্রকৃতি স্বাভাবিকভাবে নিজেকে সাজিয়ে নিয়েছে। এই সুযোগে কলেজ কর্তৃপক্ষ সবুজায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। পরিত্যক্ত ডোবা ও নিচু জায়গায় মাটি ভরাট করে শাক-সবজি ও ফুল গাছ রোপণ করেছে। ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও এই ক্যাম্পাসে আবহাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবরোধ, জীববৈচিত্র সংরক্ষণ ও বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শেখ আবুল কাউসার বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন ক্যাম্পাসের এক ইঞ্চি জায়গাও ফেলে রাখা যাবে না। প্রধানমন্ত্রীর কথায় আমরা অনুপ্রাণিত হয়েছি। সেই লক্ষে ক্যাম্পাসের পরিত্যক্ত জায়গায় শাক সবজি চাষাবাদের উদ্যোগ নিয়েছি। এজন্য বাড়তি তেমন কোনো খরচ হয়নি। এটি মূলত সবুজ ক্যাম্পাস বাস্তবায়নের উদ্যোগ।

তিনি আরও বলেন, করোনা পরবর্তীতে কলেজের কার্যক্রম শুরু হলে শিক্ষার্থীরা যাতে নিরাপদ ও মনোরম পরিবেশে লেখাপড়ার সুযোগ পায় সেই জন্য এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। করোনা কালের দীর্ঘ ছুটির এই সময়কে কাজে লাগানো হয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি ক্যাম্পাসে মনোরম পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি। শাক সবজির পাশাপাশি ক্যাম্পাসের সঙ্গে মানানসই চাষবাদ করতে পারলে পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অর্থ উপার্জনও সম্ভব হবে। উপার্জিত অর্থে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড করা যাবে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English