ক্যাসিনোকাণ্ডসহ নানান অভিযোগে ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের সাবেক সেক্রেটারি জয় গোপাল সরকারের বিরুদ্ধে করা চারটি মামলায় জামিন চেয়ে করা আবেদনের বিষয়ে হাইকোর্টে শুনানি আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি।
হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও মহি উদ্দিন শামীমের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।
তিনি জানান, জয় গোপাল সরকারের বিরুদ্ধে করা ছয়টি মামলায় জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১০ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের একই বেঞ্চ পৃথক দুটি জামিন আবেদন উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করেছিলেন। আজ বাকি চারটি জামিন আবেদন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে শুনানির জন্য রয়েছে।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, ১ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট ভার্চুয়াল বেঞ্চে জামিনের ওপর দ্বিতীয় দিনের মতো শুনানি হয়। এরপর ৮, ৯ এবং ১০ ফেব্রুয়ারি আবারও এ বিষয়ে শুনানি হয়। সর্বশেষ ১০ ফেব্রুয়ারি দুটি মামলায় জামিন আবেদন খারিজ হয়।
ওইদিন আদালতে আসামিপক্ষে শুনানি করেন সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ও আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. কামরুল ইসলাম। তার সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট মুনমুন নাহার। দুদকের পক্ষে মো. খুরশীদ আলম খানের সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী শাহীন আহমেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহজাবিন রাব্বানী দীপা ও আন্না খানম কলি।
এর আগে ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের সাবেক সেক্রেটারি জয় গোপাল সরকারের জামিন আবেদনের শুনানিতে ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের গঠনতন্ত্র, কমিটি ও অডিট রিপোর্ট চেয়েছিলেন হাইকোর্ট। এরই ধারাবাহিকতায় এসব নথিপত্র জমা দেন তার আইনজীবীরা।
নথিপত্রের তথ্য তুলে ধরে সাবেক অ্যাডভোকেট মো. কামরুল ইসলাম আদালতকে জানান, ১৯৩০ সালে ওয়ান্ডারার্স ক্লাব প্রতিষ্ঠা হয়। সেখানে ফুটবল, ক্রিকেট, বলিবল, হ্যান্ডবলসহ বিভিন্ন খেলা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এই ক্লাবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ফুটবল খেলতেন। এ সময় ক্যাসিনোর বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন আদালত।
জয় গোপাল ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের একজন ফুটবলার ছিলেন। অবসরে গিয়ে পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, পরে ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ সালে ক্লাবটির সাধারণ সম্পাদক হন। তার হাত ধরেই গেন্ডারিয়ার আওয়ামী লীগ নেতা ক্যাসিনোকাণ্ডে জড়িত হওয়ার কথা জানায় সিআইডি।
গত বছরের ১৩ জানুয়ারি কেরানীগঞ্জের একটি ভবন থেকে এক সহযোগীসহ দুই ভাই এনু ও রুপনকে গ্রেফতার করে সিআইডি। এরপর গেন্ডারিয়া থানায় মানি লন্ডারিং আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
এনু-রুপনের দেয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে জয় গোপালের নাম উঠে এলে সিআইডি তাকে গত বছরের ১৩ জুলাই লালবাগ থেকে গ্রেফতার করে। পরদিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত বিশ্বাস তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।