করোনার তাণ্ডবে সারা দেশের ন্যায় মানিকগঞ্জেও বন্ধ রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর ধরে বন্ধ থাকার ফলে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে না পারায় স্তিমিত হয়ে পড়ছে তাদের লেখাপড়া। যে সময়টুকু তাদের স্কুলে থাকার কথা এখন তাদের বেশির ভাগ সময় কাটছে মোবাইল ফোন, নয় তো কম্পিউটার অথবা টিভির ভার্চ্যুয়াল দুনিয়ায়।
দেখা গেছে, করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অনলাইনে ক্লাসের প্রচলন শুরু হওয়ার পর থেকে শিক্ষার্থীরা বেশি আসক্ত হয়ে পড়ছে মোবাইলের প্রতি। ছোট্ট শিশু শিক্ষার্থীও এখন মোবাইল ছাড়া কিছুই বোঝে না। শিক্ষার্থীরা মোবাইল আসক্ত বেশি হওয়ায় অভিভাবক মহল তাদের সন্তানদের নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। অনলাইন ক্লাস শেষ করতে না করতেই শিক্ষার্থীরা মোবাইল নিয়ে বসে পড়ছে। এ ছাড়া ঘরবন্দি জীবনে বিষণ্নতা আর হতাশায় ঘোরপাক খাচ্ছে তারা।
বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানে দায়সারা গোছের অনলাইন ক্লাস চলছে। অনলাইনের ক্লাসগুলোতে আনন্দদায়ক উপাদান না থাকায় এক ঘেয়েমিতে পড়ছে শিশু শিক্ষার্থীরা।
মানিকগঞ্জে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানিয়েছেন ভিন্ন ভিন্ন কথা। মুন্নু ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বিতীয় শ্রেণির শিশু শিক্ষার্থী ফাতেমা জান্নাত জানিয়েছে, আগে স্কুলে যেতাম, খুব ভালো লাগতো। এখন স্কুলে যেতে না পারায় কিছুই ভালো লাগে না। তাই বাসায় বসে অনলাইনে ক্লাস করি, পরীক্ষা দেই এবং পাশাপাশি মোবাইলে গেমস, কার্টুন দেখে সময় কাটাই। বানিয়াজুরী ইউনিয়ন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র খন্দকার শাহরিয়ার তালহা জানিয়েছে, করোনার কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় বাবা-মা বাড়ির বাইরে যেতে দেয় না। তাই ঘরে বসে টেলিভিশন দেখি ও মোবাইলে গেমস, কার্টুন দেখেই সময় কাটাই। মানিকগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএস পরীক্ষার্থী কারিমা খান লাবণ্য জানান, স্কুল বন্ধ থাকায় লেখাপড়ায় খুব ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। আগে যেমন স্কুলে যেতাম এবং কোচিং করতাম। করোনার কারণে আমরা অনেক দিন ধরে এক রকম ঘরবন্দি হয়ে আছি। ঘরে বসে থাকতে ভালো লাগে না। এই শিক্ষার্থীর অভিভাবক আইরিন খান তানিয়া জানান, এক বছরের অধিক সময় ধরে স্কুল বন্ধ থাকায় মেয়ের লেখাপড়া ব্যহত হচ্ছে। কতটা সময় ওরা ঘরে বসে থাকবে? তারপর সামনে এসএসসি পরীক্ষা। কোন্ পদ্ধতিতে পরীক্ষা হবে কি হবে না এ নিয়ে খুব টেনশনে রয়েছি। করোনায় ঘরের বাইরে বের হতে না পেরে মেয়ে মোবাইলের প্রতি বেশি আসক্ত হয়ে পড়েছে। সারাদিন একই ছাদের নিচে থেকেও ভার্চ্যুয়াল আসক্তি যেন দূরে ঠেলে দিচ্ছে সন্তানদের।
অভিভাবক শেফালী আক্তার জানান, মোবাইলে বেশি আসক্ত হওয়ার কারণে অভিভাবক হিসেবে আমরাও যেমন এক ধরনের বিরক্ত বোধ করি ওরাও বিরক্ত বোধ করে। আমাদের সন্তানরা বর্তমানে লেখাপড়ার চেয়ে মোবাইলে বেশি আসক্ত হচ্ছে।
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও মানিকগঞ্জ মুন্নু ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ লে.কর্নেল (অব) জহিরুল ইসলাম বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে এক বছরের অধিক সময় ধরে বন্ধ রয়েছে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। যার কারণে ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। তাদের এই ঘর বন্দিদশা থেকে সহায়তা করছে ইলেকট্রনিক ডিভাইস। এই ডিভাইসের মাধ্যমে আমাদের মতো ভালো মানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে রুটিন মাফিক অনলাইনে ক্লাস ও পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের বড় সুবিধা হচ্ছে তারা শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। যতক্ষণ এই ডিভাইসের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাবে সেটা হবে একজন শিক্ষার্থীর জন্য সঠিক সময়। তবে ডিভাইসের সঠিক ব্যবহারের জন্য প্রধান ভূমিকা রাখতে হবে অভিভাবকদের।