রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ন

ঘরবন্দী রাজনীতি, সভা–সেমিনারে বাগ্‌যুদ্ধ

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৫৫ জন নিউজটি পড়েছেন

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রায় প্রতিদিনই নিজের সরকারি বাসা থেকে সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে কথা বলেন। সেই বক্তব্য পাঠানো হয় গণমাধ্যমে। দলটির যুগ্ম সম্পাদক ও সরকারের তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদও নানা ইস্যুতে সরব থাকেন। কখনো বাসা থেকে, কখনো ভার্চ্যুয়ালি কর্মসূচিতে যুক্ত বক্তব্য দেন এই দুই নেতা।

আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির অবস্থাও প্রায় একই। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিভিন্ন কর্মসূচিতে যুক্ত হন ভার্চুয়ালি। দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনও করেন। আর বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে নিয়মিত বক্তব্য–বিবৃতি পাঠান দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী।

করোনাকালে বাংলাদেশের রাজনীতি চিত্রটা ছিল অনেকটাই ঘরবন্দী। বছরের শেষ দিকে এসে কিছু সভা হলেও সেগুলোর বেশির ভাগই ছিল চার দেয়ালের মধ্যে। সরকার ও সরকার বিরোধী দলগুলো কয়েকটি ইস্যুতে ছোট পরিসরে মানববন্ধন করেছে।

এককথায় মাঠের রাজনীতির চিরচেনা উত্তাপ ২০২০ সালে সেভাবে ছিল না। নিরুত্তাপ রাজনীতির মধ্যে বছরের শেষে ভাস্কর্য নির্মাণ নিয়ে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের বিরোধীরা রাজনীতিতে উত্তাপ সৃষ্টি করে। হেফাজতের এই অবস্থানের বিরুদ্ধে সরব হয় সরকারি দল আওয়ামী লীগ। এই ইস্যুতে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন রাজপথে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখালেও বিএনপি ছিল ‘কৌশলী অবস্থানে’। তবে বছরের শুরুর দিকে ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরে খানিকটা উত্তপ্ত ছিল রাজনীতি।

তবে রাজনীতিতে সেই চিরচেনা পাল্টাপাল্টি বক্তব্য বন্ধ থাকেনি। আওয়ামী লীগের নেতাদের বক্তব্যে বিএনপির ‘সমালোচনার’ জন্য একটা জায়গা সব সময়ই বরাদ্দ থেকেছে। আর বিএনপি বক্তব্যে সরকারের ‘দুর্নীতি, অনিয়ম, ভোটে কারচুপির, গণতন্ত্রহীনতার’ কথা এসেছে ঘুরেফিরে। আওয়ামী লীগের নেতাদের বক্তব্য কতটা শোভন সেই কথাও বলেছেন বিএনপির নেতা। অন্যদিকে বিএনপির নেতাদের বিশেষ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, রহুল কবির রিজভীর বক্তব্যকে বেশির ভাগ সময় ‘মিথ্যাচার’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন সরকারদলীয় নেতারা।

অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জাতীয় পার্টি, সিপিবি, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদের কর্মকাণ্ড ছিল অনেকাই ইস্যুভিত্তিক, গতানুগতিক।

বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হন। এরপর ১৮ মার্চ করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এর আগে জানুয়ারি থেকেই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে। বাংলাদেশেও এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে এই আশঙ্কা তখন থেকেই। ফলে বলা যায় চলতি বছরে রাজনীতি আর মাঠে গড়ানোর সুযোগ পায়নি।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী করোনাকালে লোকসমাগম এড়িয়ে নিজ দলের কর্মসূচি পালনের কথা বলে আসছিলেন। তিনি নিজেই এ সময় সভা–সমাবেশে আসেননি। যতটা সম্ভব তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনেই ছোট পরিসরে দল ও সরকারের কাজ পরিচালনা করছেন। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত থাকছেন দলীয় ও সরকারি কাজে।

আর বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বছরের প্রথম তিন মাস দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারেই কাটিয়েছেন। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে ২৫ মার্চ তিনি সরকারের নির্বাহী আদেশে কারাগার থেকে মুক্তি পান। এরপর থেকে তিনি বাসাতেই আছেন। দলীয় কর্মকাণ্ডে তাঁর দৃশ্যমান সম্পৃক্ততা নেই বললেই চলে।

বছর শেষে গতকাল ৩০ ডিসেম্বর ঘিরে দুই প্রধান রাজনৈতিক দল পৃথক পৃথক কর্মসূচি পালন করেছে। ২০১৮ সালের এই দিনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগ এই দিনটিকে ‘গণতন্ত্র’ দিবস হিসেবে পালন করেছে। অন্যদিকে বিএনপি পালন করেছে ‘গণতন্ত্র হত্যা’ দিবস হিসেবে।

দিনটি আওয়ামী লীগ আয়োজিত অনুষ্ঠানে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা বিএনপি। কেননা বিএনপি গণতন্ত্র চায় না। অন্যদিকে বিএনপির মহাসচিব জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে বলেছেন, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করাই বিএনপি প্রধান চ্যালেঞ্জ।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, করোনাকালীন একটি বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও এর প্রভাব পড়েছে। তবে রাজনীতি কিন্তু থেমে নেই। এ সময় বিএনপি নেতারা যে যতটুকু পেরেছেন বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। স্বল্প পরিসরে কর্মসূচিও পালিত হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, সরকারের ব্যর্থতার নানা চিত্র মানুষের সামনে ফুটে উঠেছে। বিএনপি এগুলো তুলেও ধরেছে। তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচনের মাধ্যমে, মানুষের ভোটে ক্ষমতায় আসতে চায়। সেই পরিস্থিতি দেশে তৈরিও হয়েছে। এখন প্রশাসনকে ব্যবহার করে নির্বাচন হচ্ছে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপি জিতবে। দলকে সেই অবস্থায় নেতা–কর্মীরা এনেছেন।

অবশ্য বিএনপির দপ্তর সূত্র বলছে, করোনাকালে দলীয় কর্মকাণ্ড থেমে ছিল না। নিয়মিত স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়েছে। নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীরা অংশ নিয়েছেন। দলের নতুন নতুন কমিটিও হয়েছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের দাপ্তরিক কাজও চলেছে। দলের সহযোগী সংগঠনগুলোর কমিটি হয়েছে। স্থানীয় সরকারের ভোটে অংশ নিয়েছেন দলীয় প্রার্থীরা।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ মনে করেন, করোনার মতো পরিস্থিতিতে দলীয় কর্মসূচি কম হয়েছে, কেননা এতে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি ছিল। কিন্তু এর মানে এই নয় যে দলীয় কর্মকাণ্ড থেমে ছিল। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে সশরীরে উপস্থিত না থেকেও সবকিছুতে অংশগ্রহণের সুযোগ আছে। আওয়ামী লীগ একে কাজে লাগিয়েছে। তিনি বলেন, রাজনীতির পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, কথার লড়াই দোষের কিছু নয়। সেটা শোভন ও সৌজন্যমূলক হওয়াটা বাঞ্ছনীয়।

আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, করোনার মধ্যে তাঁদের নেতা–কর্মীরা সারাক্ষণ মানুষের পাশে সহায়তা নিয়েছিলেন। করোনার মধ্যে তাঁদের দলের প্রায় ৬০০ নেতা–কর্মী মারা গেছেন। এই নেতারা বলছেন, রাজনীতির লক্ষ্য হলো মানুষের সেবা করা। আওয়ামী লীগ সেটাই করেছে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English