সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:০২ অপরাহ্ন

চট্টগ্রামকে প্রথম হারের স্বাদ দিলো ঢাকা

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ রবিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৫১ জন নিউজটি পড়েছেন

টানা চার জয়ে বঙ্গবন্ধু টি-২০ কাপে রীতিমতো উড়ছিল গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম। রোববার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে সেই চট্টগ্রামকে মাটিতে নামালো মুশফিকের বেক্সিমকো ঢাকা। প্রথমবারের মতো হারের স্বাদ দিলো। উত্তেজনার ম্যাচে চট্টগ্রামকে ৭ রানে হারিয়েছে ঢাকা।

আগে ব্যাট করতে নেমে মুশফিকের ব্যাটে ৪ উইকেটে ১৪৫ রান করে ঢাকা। জবাবে ৯ উইকেটে ১৩৮ রানে থামে চট্টগ্রামের ইনিংস। পাঁচ ম্যাচে চট্টগ্রামের এটি প্রথম হার। চার জয়ে ৮ পয়েন্ট নিয়ে এখনো শীর্ষে রয়েছে দলটি। তবে ছয় ম্যাচে তিন জয়ে ছয় পয়েন্ট নিয়ে তালিকায় তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে বেক্সিমকো ঢাকা।

জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো শুরুতে উইকেট হারায় গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম। টানা চার ম্যাচেই ভালো করা ওপেনার সৌম্য সরকার বিদায় নেন প্রথম ওভারেই। রুবেল হোসেনের তৃতীয় বলে তিনি এলবিডব্লিউর শিকার। ২ বল খেললেও রানের খাতা খুলতে পারেননি তিনি।

শুরুর ধাক্কা মাহমুদুল হাসান জয়কে সাথে করে ঠিকই সামাল দেন দারুণ ফর্মে থাকা লিটন দাস। এই জুটি দলকে নিয়ে যান ৪৮ রান পর্যন্ত। রবিউল ইসলাম রবির বলে এলবিডব্লিউ হন জয়। ২৪ বলে তিনি করেন ২৬ রান। তার ইনিংসে ছিল তিন চার ও একটি ছক্কার মার।

তৃতীয় উইকেট জুটিতে দলকে স্বস্তি দিতে থাকেন লিটন ও অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন। তবে রানের গতি ছিল স্লো। ফিফটির আগেই বিদায় নেন লিটন, দলীয় রান তখন ৯৬। ৩৯ বলে ৪৭ রানে ফেরেন তিনি রবিউল ইসলাম রবির বলে শফিকুল ইসলামের হাতে ক্যাচ দিয়ে। তিন চারের পাশাপাশি লিটন হাঁকান একটি ছক্কা।

এর কিছুক্ষণ পর ফেরেন অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুনও। ২০ বলে ২১ রানের ইনিংসে চট্টগ্রাম অধিনায়ক মারেন একটি করে চার ও ছক্কা।

৯৮ রানে চট্টগ্রামের নেই চার উইকেট। আস্কিং রান রেট তখন অনেক বেশি। মোসাদ্দেক ও শামসুর রহমানের উপর ভরসা করেছিল ভক্তরা। কিন্তু মুক্তার আলীর বলে শামসুর বিদায় নিয়ে আশাহত করেন সবাইকে। ৮ বলে দুই চারে ১০ রান করেন শামসুর রহমান। দ্রুত রান নেয়ার তাগিদে একই ওভারে রান আউট জিয়াউর রহমান (১)। কিন্তু এই ওভারের শেষ দুই বলে টানা চার হাঁকিয়ে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন চট্টগ্রামের লেজের সারির ব্যাটসম্যান নাহিদুল ইসলাম।

১২ বলে চট্টগ্রামের দরকার ২৩ রান। ১৯তম ওভারে রুবেল হোসেন দেন মাত্র ৭ রান। তুলে নেন আবার মোসাদ্দেকের গুরুত্বপূর্ণ উইকেটও। ১৬ বলে ১ চারে ১০ রান করেন মোসাদ্দেক।

৬ বলে জয়ের জন্য চট্টগ্রামের দরকার ছিল ১৬ রান। যা অনেকটাই দুরুহ। মুক্তার আলীর প্রথম বলেই আউট নাহিদুল। দ্বিতীয় বলে ছক্কা হাঁকিয়ে রোমাঞ্চ জাগান মোস্তাফিজ। পরের দুই বলে আসে দুই রান। পঞ্চম বলে আউট মোস্তাফিজ। শেষ বলে দরকার ৮ রান। রাকিবুল রানই নিতে পারেননি। নয় উইকেটে চট্টগ্রাম থামে ১৩৮ রানে।

বল হাতে ঢাকার হয়ে সর্বোচ্চ তিন উইকেট নেন মুক্তার আলী। রুবেল ও রবি দুটি, শফিকুল ইসলাম নেন একটি করে উইকেট।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছিল বেক্সিমকো ঢাকা। ২৩ রানের মধ্যে দলটি হারায় তিন উইকেট। শুরুটা ভালো করলেও ১১ বলে ১৩ রানে শরিফুলের বলে বিদায় নেন ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম। দলীয় রান তখন ১৩। পরের ওভারেই বিদায় হার্ড হিটার ‘খ্যাত’ সাব্বির রহমান রুম্মন। ১০ বলে সাত রানের টেস্ট মেজাজের এই ক্রিকেটার রাকিবুল হাসনের নিরীহ বলে হন এলবিডব্লিউ। আর তানজিদ হাসান তো রানের খাতাই খুলতেই পারলেন না।

দলের এমন বাজে অবস্থায় হাল ধরেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। আগের ম্যাচে বেশ ভালো খেলা ইয়াসির আলীকে সঙ্গে নিয়ে দলের স্কোরকে সমৃদ্ধ করতে থাকেন তিনি। এই জুটি দলকে নিয়ে যান ১০৯ পর্যন্ত। শেষ পর্যন্ত এই জুটি বিচ্ছিন্ন করেন মোস্তাফিজুর রহমান। ৩৮ বলে ৩৪ রান করা ইয়াসির আলীকে ফেরান দ্য ফিজ। তিন চার হাঁকালেও ছক্কার দেখা পাননি ইয়াসির।

ইয়াসির ধীরে সুস্থে খেললেও মুশফিক ছিলেন বেশ দুরন্ত। বল বুঝে হিট করেছেন তিনি। শেষ অবধি তার ব্যাটেই বলতে গেলে মোটামুটি স্কোরে পৌঁছায় ঢাকা। তার সঙ্গে অপরাজিত ছিলেন আকবর আলী। ৫০ বলে ৭৩ রানের দারুণ অপরাজিত ইনিংস খেলেন মুশফিক। তার ইনিংসে ছিল সাতটি চার ও তিন ছক্কার মার। ৯ বলে ১০ রানে অপরাজিত আকবর আলী।

বল হাতে চট্টগ্রামের হয়ে সবচেয়ে বেশি ভালো করেছেন নাহিদুল ইসলাম। ৪ ওভারে ১৬ রানে তিনি নেন এক উইকেট। ৪ ওভারে ১৯ রানে মোস্তাফিজও পান এক উইকেটের দেখা। শরিফুল ও রাকিবুল হাসান নেন একটি করে উইকেট।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English