রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন

চরিত্র : মানব জীবনের অমূল্য সম্পদ

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২০
  • ৫৭ জন নিউজটি পড়েছেন

চরিত্র মানব জীবনের সর্বোত্তম সম্পদ। তাই চরিত্রকে মানব মুকুটের সাথে তুলনা করা হয়। পৃথিবীতে সব মূল্যবান বস্তু কমবেশি অর্থের বিনিময়ে লাভ করা যায়। কিন্তু চরিত্র; কোনো বিনিময়েই লাভ করা যায় না। আর সামগ্রিক জীবনে মানুষের কথা, কাজ, আচার-ব্যবহার, চিন্তাচেতনার ক্ষেত্রে পূতপবিত্র ভাবকেই বলা হয় চরিত্র। এক্ষেত্রে সত্যবাদিতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, প্রতিজ্ঞারক্ষা, বিনয়-নম্রতা, সৎসাহস, স্বাবলম্বন, অধ্যবসায়, বুদ্ধিমত্তা, স্বদেশপ্রেম, শ্রদ্ধা-স্নেহবোধ ও পরোপকার ইত্যাদি গুণাবলির সমন্বিত রূপ হলো উত্তম চরিত্র। চরিত্রকে শুভ্র পোশাকের সাথে তুলনা করা যায়। কারণ শুভ্র পোশাকে সামান্য একটু দাগ লাগলেই যেমন সেই দাগ সহজে মুছে ফেলা যায় না এবং সেই দাগে সবার দৃষ্টি নিক্ষেপ হয়; তেমনি চরিত্রের মধ্যে সামান্য একটু দাগ লাগলেও সেই দাগ সহজে মুছে ফেলা যায় না বরং সারা জীবন সেই দাগ বয়ে বেড়াতে হয় এবং মানুষের চোখে চোখে সেই দাগ ঘুরতে থাকে।
আর তাই তো ইংরেজি প্রবাদে বলা হয়, চরিত্র যদি একবার নষ্ট হয়ে যায় তাহলে মানুষের জীবনের সব কিছুই শেষ হয়ে যায়। সমাজেও তার কোনো মূল্য থাকে না। আর তাই সমাজ সেই চরিত্রহীন ব্যক্তিদের পশুর সাথে তুলনা করে থাকে। কারণ চরিত্রই মানুষকে মানুষ বলে সমাজে পরিচয় করিয়ে দেয়।
আর তাই ইসলামও ব্যক্তি চরিত্র গঠনের দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। কেননা আমাদের প্রিয় নবী সা:কে পাঠানোর অন্যতম কারণ হচ্ছে সচ্চরিত্রের বিকাশ সাধন। আর এ সম্পর্কে নবী করিম সা: বলেন, ‘আমাকে সচ্চরিত্রের পূর্ণতা সাধনের নিমিত্তেই পাঠানো হয়েছে।’ (মুয়াত্তা ইমাম মালেক ২০১)
একদা জনৈক ব্যক্তি রাসূল সা:কে দ্বীনের সংজ্ঞা জিজ্ঞেস করলে উত্তরে তিনি বলেন, ‘উত্তম চরিত্র’। এ কথায় বোঝা যায়, সচ্চরিত্র বা উত্তম চরিত্র দ্বীনের অন্যতম রুকন, যা ছাড়া দ্বীনের অস্তিত্বই কল্পনা করা যায় না। যেমন হজ সম্পর্কে রাসূলের বাণীÑ ‘হজের গুরুত্বপূর্ণ একটি রুকন হচ্ছে আরাফায় অবস্থান করা’ যা ছাড়া হজ আদায় হয় না, তেমনিভাবে সচ্চরিত্র ছাড়া দ্বীনও পরিপূর্ণ হয় না। কেননা, এ সম্পর্কে রাসূল সা: ইরশাদ করেছেনÑ ‘ঈমানদার হচ্ছে সে ব্যক্তি যে সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী।’ (আবু দাউদ, তিরমিজি)
আর পৃথিবীতে রাসূল সা:-এর মতো কোনো ঈমানদার আগেও আসেনি, বর্তমানেও কেউ নেই, আর ভবিষ্যতেও কেউ আসবে না! তাই তাঁর চরিত্র ছিল সবার উপরে। কেননা, এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনের সূরা কলমের ৪ নম্বর আয়াতে বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রে অধিষ্ঠিত’। আর চরিত্রের মর্যাদা সম্পর্কে রাসূল সা: বলেন, ‘উত্তম চরিত্র থেকে মিজানে অধিক উত্তম কোনো আমল নেই।’ (আবু দাউদ-৪১৬৬)
তাই দ্বীন পরিপূর্ণতার মাধ্যমে ভালো কাজ করার জন্য অবশ্যই আমাদের উত্তম চরিত্র গঠন করতে হবে। আর এক্ষেত্রে কার্যকরী ভূমিকা রাখে শিশুদের সদগুণের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা। কারণ শৈশবই চরিত্র গঠনের উৎকৃষ্ট সময়। এ সময় থেকেই শিশুদের সত্যবাদিতা, আত্মসংযম, আত্মবিশ্বাস, দয়া, ক্ষমা প্রভৃতি সৎগুণের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। সাথে নৈতিক শিক্ষার সব দিকেই তাদের পদচারণা ঘটাতে হবে। যাতে করে পরবর্তীতে একটি শিশুর চরিত্র গঠনে বেগ পেতে না হয়।
আর ভালো বই পড়া, সৎসঙ্গ লাভ, অসৎ সঙ্গ পরিহার করা এবং মহাপুরুষের জীবনী পাঠÑ মোটকথা ইসলামী সংস্কৃতিও চরিত্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আর সর্বোপরি খোদাভীতি একজন মানুষকে চরিত্রবান রূপে গড়ে তুলতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। কারণ খোদাভীতি মানুষকে মিথ্যা বলা, অন্যের হক নষ্ট করা, সুদ ও ঘুষ খাওয়া, হিংসা-বিদ্বেষ করা, আমানতের খেয়ানত করা, প্রতারণা করা, মালে ভেজাল দেয়া, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অযৌক্তিকভাবে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করে জনসাধারণের ভোগান্তি বাড়ানো, অসহায় গরিবের জন্য বরাদ্দকৃত ত্রাণসামগ্রী লুটপাট, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, ইভটিজিং, ধর্ষণসহ যেকোনো অন্যায় কাজ করা ও দুর্নীতিপরায়ণ হওয়া থেকে বিরত রাখে। যার ফলে মানুষের চরিত্র হয়ে যায় স্বচ্ছ পানির মতো ঝকঝকে। আর আমাদের সমাজব্যবস্থা হয়ে উঠে অপরাধমুক্ত এবং সুশৃঙ্খল।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English