শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:৪৬ অপরাহ্ন

চামড়ার নামমাত্র মূল্য দিচ্ছে ট্যানারি

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২০
  • ৫১ জন নিউজটি পড়েছেন

দেশজুড়ে কোরবানির পশুর চামড়া সর্বকালের সর্বনিম্ন দামে বিক্রি হলেও এবারও সরকারের নির্ধারিত দামে কিনছেন না ট্যানারি মালিকরা। এমনকি ছোট-মাঝারি অনেক চামড়া বাতিল বলে নামমাত্র দামে কিনে নিচ্ছেন। এদিকে ন্যায্য দাম না পেলে ওয়েট ব্লু (পশম ছাড়ানো) চামড়া রপ্তানির সুযোগ দেওয়া হবে না বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা থাকলেও এতে তেমন সাড়া নেই ব্যবসায়ীদের। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, শুধু একজন ব্যবসায়ী এর মধ্যে রপ্তানির সুয়োগ চেয়ে আবেদন করেছেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, লবণ মিশ্রিত চামড়া বা ওয়েট ব্লু রপ্তানির ব্যাপারে সরকার সিদ্ধান্ত নিলেও বিষয়টি খুব সহজ নয়। এ ছাড়া বিশ্ববাজারে চাহিদা কম, কৃত্রিম চামড়ার প্রভাব এবং বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের চামড়া খাতের ভাবমূর্তি সংকটও রয়েছে। বিশ্ববাজারে এ চামড়ার তেমন কদর নেই উল্লেখ করে পোস্তার ব্যবসায়ী রমিজ উদ্দিন বলেন, ‘পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও পাকিস্তান ৬৫ থেকে ৭০ সালের দিকে কাঁচা চামড়া নিলেও কৃত্রিম চামড়ার প্রভাবে ওয়েট ব্লু চামড়ায় তাদেরও আগ্রহ নেই। এ ছাড়া ব্র্যান্ড বায়ার আনতে হবে। বাংলাদেশে কমপ্লায়েন্সের কারণে তারাও বাংলাদেশ থেকে চামড়া নিতে চায় না।’

বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএইচএসএমএ) মহাসচিব হাজি টিপু সুলতান বলেন, ‘রপ্তানির প্রক্রিয়া জটিল এবং অনুমোদনসহ অন্য সব প্রক্রিয়ায়ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও হয়রানি আছে। ফলে রপ্তানির ব্যাপারে তেমন আগ্রহ নেই ব্যবসায়ীদের।’ তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের কাঁচা চামড়া ভারত ও পাকিস্তানের একসময় আগ্রহ থাকলেও এখন তারা আমদানি করে না। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কম। কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনাম কৃত্রিম চামড়ার পণ্য কম দামে বিশ্ববাজারে দেওয়ায় বেশি দামের চামড়ার ক্রেতা অনেক কমেছে।’

ট্যানারি মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সাধারণ সম্পাদক শাখাওয়াত উল্ল্যাহ জানান, লবণযুক্ত চামড়া তাঁরা কিনতে শুরু করেছেন। প্রতি চামড়া কিনছেন গড়ে ৫০০ থেকে ১২০০ টাকায়। এ ছাড়া চলতি বছর ৭০ থেকে ৭৫ লাখ পিস চামড়া সংগ্রহ করেছেন। সাধারণ সময় থেকে এবার ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ চামড়া কম সংগ্রহ হয়েছে।

চামড়ার বিশ্ববাজারের চাহিদার কথা তুলে ধরে শাখাওয়াত উল্ল্যাহ বলেন, ‘বিশ্ববাজারে ফিনিশ লেদারের চাহিদা থাকলেও কৃত্রিম চামড়ার কারণে তেমন আগ্রহ নেই ক্রেতাদের। এ ছাড়া দেশের চামড়ার বাজার নিয়ে বিশ্ববাজারে ভাবমূর্তির সংকট আছে। গত বছরের অনেক চামড়ার এখনো মজুদ আছ। ফলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চাইলেও সহজে চামড়া রপ্তানিতে গতি আনা সহজ হবে না।’

এদিকে কোরবানির চামড়া রপ্তানির বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ওবায়দুল আজম বলেন, ‘লবণের দাম কম থাকায় এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগের ফলে এবার গতবারের চেয়ে ভালো চামড়া সংগ্রহ হয়েছে।’ পুুরো চিত্র না থাকলেও তিনি জানান, এবার ৫০ থেকে ৬০ লাখ চামড়া সংগ্রহ হবে। এরই মধ্যে ১০ লাখ চামড়া ট্যানারিতে ঢুকে গেছে। সরকারের নির্ধারিত দরেও ব্যবসায়ীরা দাম পাচ্ছেন না এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এবার লবণযুক্ত চামড়া সারা দেশে সংগ্রহ করা হয়েছে। দাম না পেলে রপ্তানির অনুমতি দেব। তবে এখন পর্যন্ত একটিমাত্র আবেদন পাওয়া গেছে।’

চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে প্রায় ৯ কোটি ডলারের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এ আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৬.২২ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রা ছিল সাত কোটি ৭৩ লাখ ডলার। চামড়ার বৈশ্বিক বাজার নিয়ে লেদারেক্স লিমিটেডের এমডি নাজমুল হাসান সোহেল বলেন, ‘করোনার এ সময়ে বিশ্ববাজার স্থবিরতা, চাহিদা কমে যাওয়া এবং সাভার ট্যানারি পল্লীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের (সিইটিপি) কাজ শেষ না হওয়ায় দেশের চামড়া খাত বড় একটা ধাক্কা খেয়েছে। এর ফলে ৭০ শতাংশ পণ্য মজুদ হয়ে পড়ে। এসব পণ্যের ক্রেতারা আবার তাদের পণ্য নিতে শুরু করেছে। এ ছাড়া চামড়ার জুতার ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ নতুন কার্যাদেশ আসছে। আর চামড়াজাত পণ্যে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ নতুন কাজ আসছে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English