রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন

চেক প্রত্যাখ্যানের মামলার বিচার হবে

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২০
  • ৫১ জন নিউজটি পড়েছেন

এখন থেকে চেক প্রত্যাখ্যানের (চেক ডিজঅনার) মামলার বিচার চলবে একমাত্র যুগ্ম দায়রা জজ আদালতে। এই আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে সংক্ষুদ্ধ পক্ষকে আপিল করতে হবে দায়রা জজ আদালতে। পৃথক তিনটি রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের ডিভিশন বেঞ্চ রবিবার (১৮ অক্টোবর) এই রায় দেন।

এর আগে নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় দায়েরকৃত মামলার বিচার চলত যুগ্ম দায়রা জজ, অতিরিক্ত দায়রা জজ ও দায়রা জজ আদালতে। যুগ্ম দায়রা জজ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে বিচারপ্রার্থীকে দায়রা জজ আদালতে আপিল করতে হত। অপরদিকে দায়রা জজ ও অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে বিচারপ্রার্থী জনগণকে হাইকোর্টে আপিল করা বাধ্যতামূলক ছিলো। কিন্তু গতকাল হাইকোর্ট রায়ে ঐ আইনের ১৩৮ ধারায় দায়েরকৃত মামলার বিচার এখন থেকে একমাত্র যুগ্ম দায়রা জজ আদালতে করার নির্দেশ দিয়েছে। এই আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে সংক্ষুদ্ধ পক্ষকে দায়রা জজ আদালতে আপিল করতে বলা হয়েছে।

একইসঙ্গে দায়রা জজ ও অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন এ সংক্রান্ত সকল মামলা যুগ্ম দায়রা জজ আদালতে বিচারের জন্য ১৫ দিনের মধ্যে ফেরত পাঠাতে সকল জেলার দায়রা জজকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত রায়ের বিষয়টি সকল জেলা ও দায়রা জজকে অবহিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল ও হাইকোর্টের রেজিস্ট্রারকে বলা হয়েছে।

এই রায় প্রসঙ্গে রিটকারী পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার মো: হুমায়ুন কবির পল্লব বলেন, নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্টের ১৩৮ ধারার চেক ডিজঅনারের মামলা ইতিপূর্বে যুগ্ম দায়রা জজ এবং অতিরিক্ত অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতে শুনানি হতো। দায়রা জজ আদালত নির্ধারণ করতেন মামলাটি কোন আদালতে শুনানির জন্য পাঠানো হবে। কোন মামলা যদি যুগ্ম দায়রা জজ আদালত শুনানি করে রায় দিতেন তাহলে সাজাপ্রাপ্ত আসামি দায়রা জজ আদালতে আপিলের সুযোগ পেতেন। কিন্তু একই অপরাধের জন্য একই পরিমাণ শাস্তি হলেও মামলাটি যদি অতিরিক্ত দায়রা জজ অথবা দায়রা জজ আদালতে শুনানি হয়ে রায় হতো তাহলে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে আপিল করার জন্য হাইকোর্ট বিভাগে আসতে হতো। এই বিধানটি বৈষম্যমূলক যাহা সংবিধানের ২৭ ও ৩১ অনুচ্ছেদের সাথে সাংঘর্ষিক। রায়ের নির্দেশনা মতে এখন থেকে ১৩৮ ধারার চেকের মামলার বিচার কেবলমাত্র যুগ্ম দায়রা জজ আদালত করতে পারবে। দায়রা জজ অথবা অতিরিক্ত দায়রা জজ চেকের মামলার বিচার করতে পারবে না।

প্রসঙ্গত চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর থানার এ এ এম জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড যুগ্ম দায়রা জজ আদালতে তিনটি চেকের মামলার বিচার চলছিলো। ওই কার্যক্রমের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে পৃথক তিনটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়। ২০১৮ সালে হাইকোর্ট রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে রুল জারি করে। ওই রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে গতকাল হাইকোর্ট এ রায় দেয়।

আদালতে আবেদনের পক্ষে ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব শুনানি করেন। তাকে সহায়তা করেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাওছার, ব্যারিস্টার মাজেদুল কাদের এবং ব্যারিস্টার মোজাম্মেল হক।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English