বাংলাদেশের বিপক্ষে আটটি ম্যাচ খেলেছেন, ছয়টি ওয়ানডে এবং দুইটি টেস্ট। ঢাকা-চট্টগ্রামেও খেলে গেছেন। সর্বশেষ কয়েকটা বছর তো বাংলাদেশ দলটাকে প্রতিপক্ষ শিবিরে বসে খুব ভালো করেই দেখেছেন। এবার সেই বাংলাদেশ দলের সঙ্গেই কাজ করার অপেক্ষায় আছেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক অলরাউন্ডার এবং দলটির সাবেক ব্যাটিং কোচ ক্রেইগ ম্যাকমিলান।
বাংলাদেশ দলের সঙ্গে খণ্ডকালীন ব্যাটিং উপদেষ্টা হিসেবে জোগ দেবেন শ্রীলঙ্কায়। এই সিরিজের আগে বাংলাদেশ প্রায় এক মাসের ক্যাম্প করবে শ্রীলঙ্কাতে। আর সেখানেই বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার অপেক্ষায় আছেন ম্যাকমিলান। ক্রিকইনফোকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলছিলেন, ‘আমার প্রথমেই যে কাজগুলো করতে হবে, তার একটা হলো—খেলোয়াড়দের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা। আমি সেটা করার জন্য মুখিয়ে আছি। বাংলাদেশ যখন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছিল, সেখান থেকে কিছু খেলোয়াড়কে চিনি আমি, খুব ভালো করে নয়। আমি অবশ্যই এসেই কারো কোনো টেকনিক বদলে দিতে চাই না। এটা আমার প্রথম কাজ নয়। আমার কাজ হলো তাদের খেলার পরিকল্পনায় কিছু জিনিস জোগ করা এবং যাতে তারা সাফল্য পায়, সেটা দেখা।’
বাংলাদেশের দায়িত্ব নেওয়ার ব্যাপারটা যে তার জন্য রোমাঞ্চকর, সেটা বলছিলেন ম্যাকমিলান, ‘আমার জন্য ব্যাপারটা বিস্ময়কর ছিল। আমি রাসেল ডমিঙ্গোর কাছ থেকে কল পেয়েছিলাম। এরপর একটা সপ্তাহ ভেবেছি। আমি রোমাঞ্চিত এবং চ্যালেঞ্জটা নেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছি।’
মারকাটারি ব্যাটিং নয়, ম্যাকমিলান নিজের ব্যাটিং দর্শনটাও বললেন, ‘আমি অবশ্যই বিশ্বাস করি যে, মানসম্পন্ন টেস্ট ব্যাটিংয়ের বড় শর্ত হলো সবার আগে নিখুঁত ডিফেন্স। এই বিষয়টায় আপনাকে আস্থা রাখতে হবে। এরপর আসে লম্বা সময় ধরে ভালো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা। আপনি এটা করতে পারলে বোলারের সঙ্গে লড়াইতে যেতে পারবেন এবং সঠিক সময়ে সঠিক শট খেলতে পারবেন। টেস্টে সাফল্য পাওয়ার এটা বড় শর্ত।’
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন টেস্টের সিরিজটা যে খুব উপকারী হবে, সেটা বিশেষভাবে বলেছেন এই ব্যাটিং বিশেষজ্ঞ, ‘বিশ্ব জুড়ে অনেক দিন ধরেই সেভাবে ক্রিকেট হচ্ছে না। এ অবস্থায় একটা সফর নিশ্চয়ই রোমাঞ্চকর ব্যাপার। তিনটি টেস্ট বাংলাদেশের জন্য ভালো সুযোগ। আমার মনে হয়, এটা বিসিবির খুব ভালো পরিকল্পনা যে, তারা প্রথম টেস্টের আগে ওখানে (শ্রীলঙ্কায়) তিন সপ্তাহের ক্যাম্প করবে। আমার মনে হয় শ্রীলঙ্কা সিরিজের আগে এই প্রস্তুতিটা গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে।’
তবে এই সাবেক অলরাউন্ডার নিশ্চিত নন যে, শ্রীলঙ্কা সফরের পর তিনি আর আদৌ বাংলাদেশ দলের সঙ্গে কাজ করবেন কি না, ‘সত্যি কথা বলতে, আমি এখন শ্রীলঙ্কা সফরের পরের কথা ভাবছি না। আমি খেলোয়াড়দের সঙ্গে কাজ করার দিকেই চেয়ে আছি। আমি এটা বের করতে চাই যে, তাদের কী কাজে লাগে এবং কী করলে সম্পর্কটা ভালো হয়। রাসেল ডমিঙ্গোসহ অন্যান্য কোচদের সঙ্গে কাজ করাটাও আমার জন্য আকর্ষণীয় হবে। কারণ, রাসেল অনেক অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছে। দেখা যাক, সফরটা কেমন হয়। এরপর নিশ্চয়ই আলোচনা হবে আরো।’