শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:১৪ অপরাহ্ন

জলের জীবন ফুরালে মানুষের জীবন বাঁচে কি

অনলাইন সংস্করণ
  • প্রকাশিতঃ সোমবার, ২২ মার্চ, ২০২১
  • ৪৯ জন নিউজটি পড়েছেন
জলের জীবন ফুরালে মানুষের জীবন বাঁচে কি

জলেই এ জনপদের জীবন। অনাদিকাল থেকে সহজিয়া কায়দায় এ দেশের মানুষ পানির নাম দিয়েছে জীবন। অগণিত নদ-নদী বয়ে গেছে এখানকার মানুষের জীবনকে অবগাহন করে। নদীর সঙ্গে মানুষের মিতালি সুরের ঐকতান সৃষ্টি করেছে। নৌকার মাঝিমাল্লা ভাটিয়ালির টানে জীবনের সুখ–দুঃখ শুনিয়েছে নদীর কাছে, জলের কাছে। মানুষের ‘চোখে দুই জলের ধারা মেঘনা যমুনা’। জল, জীবন ও জলাভূমি এ দেশের মানুষের আশা-নিরাশা, অস্তিত্ব ও সংগ্রামশীলতার বয়ান।

অর্থের দামে নয়, প্রাণের সমান মূল্য জেনেই পানির মূল্যায়ন করেছে মানুষ। জনমানুষের এ লোকায়ত ও সর্বজনীন চিন্তাচেতনাকে ধারণ করেছে এবারের বিশ্ব পানি দিবসের বিষয়বস্তু। আজ বিশ্ব পানি দিবস। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘পানি মূল্যবান’। জাতিসংঘের উদ্যোগে ১৯৯৩ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালন করা হচ্ছে। দেখা যাক, বাংলাদেশের পানি এবং প্রাণ কী অবস্থায় আছে।

বাড়তে থাকা চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতি

বাংলাদেশের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে ২৪ হাজার কিলোমিটার নদী। দেশে সুপেয় পানির উৎস হিসেবে পুকুর ও নলকূপের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যাপক ব্যবহার হয়। স্বল্প হারে বৃষ্টির পানিও ব্যবহৃত হয়। এ অঞ্চলে গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকার মোট আয়তন প্রায় সাড়ে ১৭ লাখ বর্গকিলোমিটার। তবে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) বলছে, এর মাত্র ৭ শতাংশ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে। ২৩০টি নদীর মধ্যে আন্তসীমান্ত নদী ৫৭টি। ভারতের সঙ্গে অভিন্ন নদী ৫৪টি। অসংখ্য নদী ও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে গ্রীষ্মকালে (জুলাই থেকে অক্টোবর) ভূপৃষ্ঠে পানির আধিক্য থাকে। তবে শুষ্ক মৌসুম তথা শীতকালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পানির অভাব দেখা দেয়।

দেশে ক্রমাগত নিষ্কাশন বাড়ানোর কারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লবণাক্ততার অনুপ্রবেশের কারণে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে উঠছে। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে খরা প্রকট হচ্ছে। দেশে মধ্যম থেকে উচ্চমাত্রার খরায় আক্রান্ত ভূমির পরিমাণ প্রায় ৫৫ লাখ হেক্টর। বিভিন্ন অঞ্চলের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ঘাটতি রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ঢাকায় দৈনিক পানির চাহিদা সাড়ে ২২ লাখ ঘনমিটার। বর্তমানে সরবরাহ করা হচ্ছে ২১ লাখ ঘনমিটারের মতো।

নিরাপদ পানিপ্রাপ্তিতে বৈষম্য

জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড ওয়াটার ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট ২০১৯ অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ২০০ কোটি মানুষ পরিষ্কার ও নিরাপদ পানির সুবিধাবঞ্চিত। তবে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহব্যবস্থায় ধনীরা পানি পায় অপেক্ষাকৃত কম খরচে। প্রতিবেদনটি আরও বলছে, পাইপলাইনের ব্যবস্থা না থাকায় দরিদ্র জনগোষ্ঠী—যেমন বস্তিবাসীর প্রায় ১০ থেকে ২০ গুণ বেশি দামে পানি কিনতে হয়। বলা হয়, খরচ বহনের অক্ষমতার কারণে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী পাইপলাইনের সুবিধা পায় না। প্রকৃতপক্ষে তাদের বেশি দাম দিয়ে পানি কিনতে হয়।

উদাহরণস্বরূপ, রাজধানীর ১ কোটি ৭০ লাখ মানুষের ২০ শতাংশ বস্তিতে থাকে। ৭০ ভাগ বস্তিবাসীর পানির কোনো বৈধ ব্যবস্থা নেই। ঢাকায় মানুষের প্রতিদিন পানির চাহিদা গড়ে ১৪০ লিটার। যদিও বস্তিবাসী পায় মাত্র ২০ লিটার।

বস্তিবাসী বা নিম্নবিত্তের মতো গ্রাম আর শহরের মানুষের মধ্যেও ব্যাপক বৈষম্য দেখা যায়। গ্রামগুলোতে নিরাপদ পানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। অনেক মানুষ সরাসরি নদী, পুকুর, খাল-বিল, ডোবা বা নলকূপের পানি ব্যবহার করে। অনেক ক্ষেত্রেই এসব পানির উৎস জীবাণুমুক্ত নয়। আবার আর্সেনিকদূষণের তীব্রতা বাড়ছেই। এইচআরডব্লিউর ‘স্বজনপ্রীতি এবং অবহেলা: বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের খাবার পানিতে আর্সেনিক প্রতিরোধে ব্যর্থ প্রচেষ্টা’ শিরোনামের এক প্রতিবেদন বলছে, এখনো প্রায় দুই কোটি মানুষ আর্সেনিক দূষণের শিকার। নিরাপদ পানির পেছনে সরকারের মোট বরাদ্দের ৮০ শতাংশই শহরের মানুষের জন্য। গ্রামের মানুষ পাচ্ছে মাত্র ২০ শতাংশ। ৮৩ শতাংশ শহুরে মানুষের নিরাপদ পানির উৎস থাকলেও গ্রামে ৭১ শতাংশ মানুষ এ সুবিধা পায়। অন্যদিকে উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে নিরাপদ পানির ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।

ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ

দেশের সেচব্যবস্থা অনেকাংশে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীল। ‘আধুনিক’ চাষাবাদ পদ্ধতিতে অতিরিক্ত পানি খরচ করা হয়। অনেক ক্ষেত্রেই পানির অপচয় হতে দেখা যায়। আবার নগর-মহানগরগুলোতেও ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভর করেই সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, এশিয়ান ওয়াটার ডেভেলপমেন্ট আউটলুক-২০১৬–এর তথ্য অনুসারে, ভূগর্ভ থেকে প্রতিবছর প্রায় ৩০ ঘন কিলোমিটার পানি উত্তোলন করা হয়ে থাকে। এ পানির ৮৬ শতাংশই কৃষি খাতে সেচকাজে ব্যবহার করা হয়। গৃহস্থালি কাজে ১৩ ও শিল্পে ১ শতাংশ পানি ব্যবহৃত হয়। ভূগর্ভস্থ পানির অত্যধিক ব্যবহারের দিক থেকে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ষষ্ঠ।

ঢাকায় পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহকৃত পানির ৭৫ শতাংশই ভূগর্ভস্থ। বাকি ২৫ শতাংশ আসে ভূ-উপরিস্থ উৎস থেকে। ঢাকা মহানগরে ওয়াসার বসানো গভীর নলকূপের সংখ্যা প্রায় এক হাজার। বেসরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন গভীর নলকূপ আছে ছয় হাজারের মতো। এভাবে বিপুল পরিমাণ ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের কারণে স্তর ক্রমে নিচে নেমে যাচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য। অতিরিক্ত চাপের কারণে ভূগর্ভস্থ পানিতেও দূষণের ঝুঁকি বাড়ছে। আবার ভূমিধসের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

হারিয়ে যাচ্ছে জলাভূমির পানি

দেশের প্রধান জলাভূমি অঞ্চল হাওর, বাঁওড়, বিল ও ঝিল নিয়ে গঠিত। ভূপৃষ্ঠের পানির একটি বড় উৎস জলাভূমিগুলো। সার্বিকভাবে জলাভূমি কমছে। তবে দেশের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের জলাভূমিগুলো উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিভিন্ন গবেষণার তথ্য বলছে, জলাভূমিগুলো দেশের মোট জমির দুই-তৃতীয়াংশ নিয়ে গঠিত। তবে জলাভূমির আয়তন কমে এখন তা মোট জমির প্রায় ৪৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র প্লাবনভূমিতে প্রায় ২১ লাখ হেক্টর জলাভূমি বন্যানিয়ন্ত্রণ, পানিনিষ্কাশন ও সেচের উন্নয়নের কারণে হারিয়ে গেছে। জলাভূমিগুলো হারিয়ে যাওয়ায় ভূপৃষ্ঠের পানির মজুতও হারিয়ে যাচ্ছে। বিনষ্ট হচ্ছে জলাভূমির বাস্তুসংস্থান ও জীববৈচিত্র্য।

উপকূলীয় অঞ্চলে বাড়ছে লবণাক্ততা

জলবায়ু পরিবর্তন, নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড় ও অনাবৃষ্টির কারণে উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে লবণাক্ততা বাড়ছে। সুপেয় পানির ঘাটতি দেখা দিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মেরু অঞ্চলের বরফ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দাবদাহের পরিমাণ বেড়েছে। আবার কখনো কখনো অল্প সময়ে অধিক বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এসব প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলবর্তী দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষ। উপকূলীয় এলাকায় প্রায় ৮০ লাখ মানুষ উচ্চ দুর্যোগ-ঝুঁকির মধ্যে বাস করছে। ২০৫০ সালের মধ্যে এ সংখ্যা বেড়ে ১ কোটি ৩৫ লাখে দাঁড়াতে পারে। লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। মিঠাপানির অভাবে বিভিন্ন এলাকায় ধান চাষ কমে যাচ্ছে। ধানের বদলে চিংড়ি অথবা মাছ চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

লবণাক্ততা বৃদ্ধির প্রভাবে দক্ষিণাঞ্চলে গর্ভবতী নারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫ গ্রাম লবণ গ্রহণ করতে পারেন। কিন্তু উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষকে কিছু ক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে প্রায় ২০০ গুণ বেশি লবণ গ্রহণ করতে দেখা যায়। অতিরিক্ত লবণ গ্রহণের কারণে উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় ঢাল হিসেবে কাজ করলেও মানবসৃষ্ট নানা কারণে সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র ও জীববৈচিত্র্যও মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন। সুন্দরবন রক্ষা করা না গেলে অদূর ভবিষ্যতে উপকূলীয় অঞ্চল অরক্ষিত হয়ে পড়বে। মানুষের জীবন ও জীবিকার পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে।

সুপেয় ও নিরাপদ পানির ঘাটতি

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ‘স্টেট অব ফুড অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচার ২০২০’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী গত দুই দশকে জনপ্রতি সুপেয় পানির সহজ প্রাপ্যতা এক–পঞ্চমাংশ কমেছে। জাতিসংঘের মতে, ২০২৫ সালের মধ্যে সারা বিশ্বের ১৮০ কোটি মানুষ নিরাপদ পানির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে। বাংলাদেশের ৯৮ ভাগ মানুষের পানির কোনো না কোনো উৎস থাকলেও সব উৎসের পানি পান করা যায় না। নিরাপদ বা সুপেয় পানির সুবিধা আছে মাত্র ৫৬ ভাগ মানুষের। পানিতে আর্সেনিক একটি বড় সমস্যা। আবার পাইপলাইনের পানির ৮০ ভাগই ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়াযুক্ত। পুকুরের পানিতেও এ ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে। ৩৮ শতাংশ টিউবওয়েলের পানিতে ক্ষতিকর অণুজীবের অস্তিত্ব মিলেছে। পর্যাপ্ত স্যানিটেশন সুবিধা না থাকার কারণে সমস্যা প্রকট হচ্ছে।

জলাভূমি, নদীনালা, সমুদ্রের পানিতে পয়োবর্জ্য, বিভিন্ন রাসায়নিক ও কলকারখানার বর্জ্য এবং প্লাস্টিক দূষণ অসহনীয় মাত্রায় পৌঁছেছে। পানিদূষণের কারণে হুমকিতে নদীনালা এবং সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুসংস্থান। এশিয়ান ওয়াটার ডেভেলপমেন্ট আউটলুক-২০১৬ অনুযায়ী, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলের ৪৮টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের নদীর পানি সবচেয়ে বেশি দূষিত। এ অঞ্চলে জাতীয়ভাবে পানিনিরাপত্তার দিক থেকেও বিপজ্জনক বা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

আন্তনদীর পানিবণ্টনে বৈষম্য

আমাজন ও কঙ্গো নদী অববাহিকার পরই গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকার অবস্থান। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভুটান ও চীনের অগণিত মানুষের জীবন ও জীবিকা এ অববাহিকাকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে। তবে আন্তর্দেশীয় নদীতে উজানের দেশ বাঁধ নির্মাণ করায় নদীকেন্দ্রিক আঞ্চলিক দ্বন্দ্ব প্রকট হচ্ছে। এ রকম বাঁধ সবচেয়ে বেশি এশিয়ায়। এসব বাঁধের কারণে ভাটির দেশ ন্যায্য পানির হিস্যা থেকে বঞ্চিত হয়। হুমকির মুখে পড়ে সংশ্লিষ্ট দেশের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবিকা।

অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন এক দীর্ঘমেয়াদি অমীমাংসিত ইস্যু হয়ে রয়ে গেছে। আন্তর্দেশীয় নদীগুলোর ন্যায্য পানিবণ্টন নিশ্চিত না করতে পারায় ভাটি অঞ্চল তথা বাংলাদেশের জলাধারগুলো এবং তৎসংশ্লিষ্ট বাস্তুসংস্থান ও জীববৈচিত্র্য বিনষ্ট হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, একসময় তিস্তা ছিল ভরা বারোমাসি নদী। কিন্তু এখন শুষ্ক মৌসুমে এ নদী হেঁটে পার হওয়া যায়।

অভিন্ন নদীর পানিবণ্টনের কার্যকরী মীমাংসা না করতে পারায় অনেক সময় কোনো আলোচনা ছাড়াই উজানের দেশ একতরফা পানি প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। আর ভাটির প্রাণ ও প্রকৃতিকে চরম খেসারত দিতে হচ্ছে।

সাগরমাতা থেকে সাগরে ন্যায্যতা

টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জন করতে হলে ২০৩০ সালের মধ্যে পানির প্রাপ্যতা, প্রবেশগম্যতা, গুণগত মান এবং পানি পাওয়ার আর্থিক সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে। পানিচক্রে পানির দুটি ব্যবস্থা থাকে—মজুত ও প্রবাহ। পানির মজুত কোথাও কোথাও অস্থায়ী। অস্থায়ী জলাধারে পানির মজুত নির্ভর করে মানুষ তা কীভাবে ব্যবহার করছে তার ওপর। যদি প্রাকৃতিক জলাধারের ওপর অত্যাচার তথা বাঁধ নির্মাণ, ভরাট ও গতিপথ পরিবর্তন অব্যাহত থাকে, তবে পানিচক্রের ভারসাম্য ও ন্যায্যতা নষ্ট হয়। পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। মজুত ও প্রবাহ বজায় রাখতে সাগরমাতা থেকে সাগরে ন্যায্যতার জন্য নতুন চুক্তি প্রয়োজন। আন্তর্দেশীয় পানিপ্রবাহের বৈষম্য নিরসন করে প্রাকৃতিক পানির সমানাধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যদিকে বাঁধ নির্মাণ, দখল বন্ধ করে পানি মজুত ও প্রবাহের সুযোগ করে দিতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন বহুপক্ষীয় এবং সঠিক ও সময়োপযোগী রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English