জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে আজ সোমবার সকালে টোকিওর একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁর এই অনির্ধারিত চিকিৎসাগ্রহণকে সরকারিভাবে নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা হিসেবে উল্লেখ করা হলেও জাপানের রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি দেশের সংবাদমাধ্যমে নানা জল্পনা ইতিমধ্যে ডানা মেলছে।
টোকিওর কেইয়ো বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসপাতালে আবে প্রতি ছয় মাসে একবার স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য হাজিরা দিলেও এবারের সময়সূচি নিয়ে নানা রকম গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। ষাণ্মাসিক স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য এর আগে গত ১৩ জুন তিনি হাসপাতালে গিয়েছিলেন। সেই হিসাবে আগামী ডিসেম্বর মাসে পরবর্তী পরীক্ষার জন্য তাঁর সেখানে যাওয়ার কথা।
গত মাসে প্রধানমন্ত্রী নিজ কার্যালয়ে কর্মরত অবস্থায় রক্তবমি করেছিলেন উল্লেখ করে একটি সংবাদ সাময়িকীতে খবর প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভোগার বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে করোনা সামাল দেওয়ায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠায় ব্যর্থতার জন্য সমালোচনার মুখে পড়তে হয় প্রধানমন্ত্রীকে। করোনা ছড়িয়ে পড়ার আগে থেকেই গত বছর অক্টোবর মাসে ভোগ্যপণ্যের কর বৃদ্ধি জাপানের অর্থনীতির ওপর আঘাত হয়ে দেখা দিয়েছিল।
করোনা সামাল দেওয়ায় সারা দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণার পাশাপাশি ব্যয়বহুল কিছু প্রকল্প হাতে নেওয়া অর্থনীতির সেই সংকটকে আরও ঘনীভূত করে তোলে। ফলে, প্রধানমন্ত্রী জনসমক্ষে উপস্থিত হওয়া এড়িয়ে চলছিলেন। এ ছাড়া সর্বশেষ যে কয়েকটি আনুষ্ঠানিক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীকে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে, সেখানে তাঁকে ক্লান্ত দেখাচ্ছিল। অনেকেই ধারণা করতে শুরু করেছিলেন, ক্ষমতাসীন দল উদার গণতন্ত্রী পার্টির (এলডিপি) আগামী মাসের নির্ধারিত সম্মেলনে দলীয় সভাপতির পদ থেকে তিনি হয়তো সরে দাঁড়াবেন। সে আলোচনার পালে এখন নতুন করে যে হাওয়া লাগবে, এতে অবশ্য সন্দেহ নেই।