সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:৪৩ পূর্বাহ্ন

জিকিরে রয়েছে শান্তি ও মুক্তি

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৫৪ জন নিউজটি পড়েছেন

জিকির আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের অন্যতম মাধ্যম। এর মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা যায়। এ কারণেই পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের বেশি বেশি জিকির করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে অধিক স্মরণ করো।’ (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৪১)

জিকির আল্লাহর কাছে এতটাই পছন্দনীয় কাজ যে তিনি জিকিরে অভ্যস্ত বান্দাদের ক্ষমা করার ঘোষণা দিয়েছেন। তাদের জন্য রেখেছেন মহা প্রতিদান। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী পুরুষ ও অধিক স্মরণকারী নারী—এদের জন্য আল্লাহ প্রস্তুত রেখেছেন ক্ষমা ও মহা প্রতিদান।’ (সুরা : আল-আহজাব, আয়াত : ৩৫)

রাসুল (সা.) বলেছেন, যে লোক প্রতিদিন একশবার ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহ’ বলবে তার গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেওয়া হবে তা সমুদ্রের ফেনা পরিমাণ হলেও। (বুখারি, হাদিস : ৬৪০৫)। এ ছাড়া জিকির এমন একটি ইবাদত যা স্বর্ণ-রৌপ্য দান করার চেয়েও উত্তম। আবু দারদা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আমি তোমাদের কি তোমাদের অধিক উত্তম কাজ প্রসঙ্গে জানাব না, যা তোমাদের মনিবের কাছে সবচেয়ে পবিত্র, তোমাদের সম্মানের দিক হতে সবচেয়ে উঁচু, স্বর্ণ ও রৌপ্য দান-খয়রাত করার চেয়েও বেশি ভালো এবং তোমাদের শত্রুর মোকাবেলায় অবতীর্ণ হয়ে তাদের তোমাদের সংহার করা ও তোমাদের তাদের সংহার করার চাইতেও ভালো? তারা বলেন, হ্যাঁ। তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলার জিকির। মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) বলেন, আল্লাহ তাআলার শাস্তি হতে মুক্তি পাওয়ার জন্য আল্লাহ তাআলার জিকিরের তুলনায় অগ্রগণ্য কোনো জিনিস নেই।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৩৩৭৭)

আশার কথা হলো, জিকির মানুষের মনকে প্রশান্ত করে। এর মাধ্যমে দুশ্চিন্তা, হতাশা দূর হয়। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘জেনে রেখো, আল্লাহর স্মরণেই (জিকিরেই) মন প্রশান্ত হয়।’ (সুরা : রাদ, আয়াত : ২৮)

আমরা প্রত্যেকেই কমবেশি হতাশা, দুশ্চিন্তায় ভুগি। আমাদের উচিত এগুলো চেপে বসলে আল্লাহর জিকিরে আত্মনিয়োগ করা।

জিকিরের অন্যতম ফজিলতগুলোর একটি হলো, এর মাধ্যমে বান্দা অন্য বান্দাদের ওপর ফজিলত অর্জন করতে পারে। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি সকালে জেগে উঠে ১০০ বার বলবে, ‘সুবহানাল্লাহিল আজিম ওয়া বিহামদিহি’ এবং সন্ধ্যায় উপনীত হয়েও অনুরূপ বলে, তাহলে সৃষ্টিকুলের কেউই তার মতো মর্যাদা ও সওয়াব অর্জনে সক্ষম হবে না। (আবু দাউদ, হাদিস : ৫০৯১)

অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, দরিদ্র লোকেরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে বলল, সম্পদশালী ও ধনী ব্যক্তিরা তাদের সম্পদের দ্বারা উচ্চ মর্যাদা ও স্থায়ী আবাস লাভ করছেন, তাঁরা আমাদের মতো নামাজ আদায় করছেন, আমাদের মতো রোজা পালন করছেন এবং অর্থের দ্বারা হজ, ওমরাহ, জিহাদ ও সদকা করার মর্যাদাও লাভ করছেন। এ কথা শুনে তিনি বলেন, আমি কি তোমাদের এমন কিছু কাজের কথা বলব, যা তোমরা করলে যারা নেক কাজে তোমাদের চেয়ে অগ্রগামী হয়ে গেছে, তাদের পর্যায়ে পৌঁছতে পারবে? তবে যারা পুনরায় এ ধরনের কাজ করবে তাদের কথা স্বতন্ত্র। তোমরা প্রত্যেক নামাজের পর ৩৩ বার করে ‘সুবহানাল্লাহ’, ‘আলহামদুলিল্লাহ’ এবং ‘আল্লাহু আকবার’ পাঠ করবে। (বুখারি, হাদিস : ৮৪৩)

সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, বিশেষ কিছু মুহূর্তে বিশেষ কিছু জিকির আছে, যেগুলো ঠিকভাবে পালন করলে জান্নাতের সুসংবাদ রয়েছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি তিলাওয়াত করবে, তার জান্নাতে প্রবেশের জন্য মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাধা নেই।’ (আস-সুনানুল কুবরা লিন নাসায়ি : ৯৮৪৮)

এ ছাড়া যারা আল্লাহ তাআলার গুণবাচক নামগুলো মুখস্থ করবে তাদের জন্যও জান্নাতের সুসংবাদ রয়েছে। এর কারণ হলো, যে আল্লাহ তাআলার গুণবাচক নামগুলো জানবে, সে সেই নামগুলোর জিকিরের মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে পারবে। আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহ তাআলার ৯৯টি নাম আছে, যে ব্যক্তি তা আয়ত্ত করবে, আল্লাহ তাকে জান্নাত দান করবেন।’ (বুখারি, হাদিস : ২৭৩৬)

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে বেশি বেশি তাঁর জিকির করার তাওফিক দান করুন।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English