দুদকের আইনজীবী মাহমুদুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭১ কোটি এক লাখ ২৯৫ টাকার একটি কাজ জালিয়াতির মাধ্যমে টেন্ডার আদায় করেছে। সে মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে। আদালত আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর সরকারের দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয় গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীম। যিনি নিজেকে কেন্দ্রীয় যুবলীগের নেতা পরিচয় দিতেন। জি কে শামীম গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ উঠে আসে।
এ প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ একাডেমিক ভবন (দ্বিতীয় কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ) নির্মাণের টেন্ডার পেতে জালিয়াতির অভিযোগে গত বছরের ২২ নভেম্বর জি কে শামীমের বিরুদ্ধে দুদক সমন্বিত চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১ এর সহকারী পরিচালক ফখরুল ইসলাম বাদি হয়ে মামলা করে।
দুদকের করা মামলায় বলা হয়- প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে কোম্পানির প্রকৃত নিবন্ধিত নামের সাথে একক মালিকানাধীন ফার্মের নাম যুক্ত করে রেজিস্ট্রেশন দেখিয়ে এবং নিবন্ধিত শেয়ারের চেয়ে বেশি সংখ্যার শেয়ার দেখিয়ে দরপত্র জমা দেয়া হয়।
কাজ পেতে ১০ বছরের অভিজ্ঞতা, বিগত পাঁচ বছরের বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ শেষের সনদ এবং অতীতের টার্নওভারের যে শর্ত দেয়া হয়েছিল সেগুলোর ক্ষেত্রেও বানানো কাগজপত্র জমা দেয়া হয় বলে দুদকের মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর ১ এ সংশ্লিষ্ট কাগজ যাচাইয়ের জন্য পাঠায় দুদক। সেখান থেকে এসব জালিয়াতির তথ্য নিশ্চিত হয় তারা।
দুদকের মামলার অভিযোগে বলা হয়, দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্যদের অযোগ্যতা ও অদক্ষতার সুযোগে অপরাধজনক বিশ্বাস ভঙ্গ করে অতি সুক্ষ তথ্যগত জালিয়াতির মাধ্যমে ক্রয় প্রক্রিয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রভাবিত করে ওই কার্যাদেশ হাসিল করা হয়। ওই ঠিকাদারি কাজের বিরোধের জেরে ২০১৬ সালের ২০ নভেম্বর ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ ইরফান চৌধুরী খুন হন বলেও অভিযোগ তার অনুসারী ছাত্রলীগ নেতাকর্মী এবং দিয়াজের পরিবারের, যে মামলাটি এখন তদন্ত করছে সিআইডি।