রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:১৯ পূর্বাহ্ন

জো বাইডেনের আফগান সংকট

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিতঃ বুধবার, ২৪ মার্চ, ২০২১
  • ৪৫ জন নিউজটি পড়েছেন
তালেবান নিয়ে মুখ খুলবেন জো বাইডেন

আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা উপস্থিতি নিঃশেষিত হওয়া এখনো বহুদূর বাকি। মার্কিন সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটানোর একটি উদ্যোগ নিয়েছিলেন ট্রাম্প। সাম্প্রতিক তথ্যে প্রকাশ, সেখানে মার্কিন সেনা উপস্থিতি বেশ অ্যালার্মিং; মার্কিন সেনাসংখ্যা যা দাপ্তরিকভাবে বলা হয় তার চেয়ে বেশি। নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আফগানিস্তানে মার্কিন নীতি কী হবে সে ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্তহীন। অবশ্য তাঁর ইন্টারভেনশনিস্ট ভাবমূর্তি এ বিষয়ে কিছু প্রত্যাশার সঞ্চার ঘটাতে পারে।

সম্প্রতি দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসে একটি লেখা ছাপা হয়েছে, তাতে নিশ্চিত করা হয়েছে, আফগানিস্তানে প্রকৃত মার্কিন সামরিক উপস্থিতি দাপ্তরিকভাবে যা বলা হয় তার চেয়ে বেশি। আর্টিকলটিতে মার্কিন, ইউরোপীয় ও আফগান কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে, কমপক্ষে এক হাজার বাড়তি মার্কিন সেনা রয়েছে আফগানিস্তানে, এটি ওয়াশিংটনের দেওয়া দাপ্তরিক সংখ্যার চেয়ে বেশি। পেন্টাগন বলেছে, বর্তমানে মাত্র আড়াই হাজার সেনা রয়েছে দেশটিতে; এ পরিসংখ্যানে মিডিয়ায় উল্লিখিত এক হাজার সেনা নেই। কাজেই প্রদত্ত বিবৃতিতে ঘাপলা আছে; খুব সম্ভবত এটি পেন্টাগনের খায়েশ। তারা প্রকৃত সংখ্যাটি কোনো কারণে বাদ দিতে চেয়েছে। কারণটি এখনো অজানা।

নিশ্চয় যে সেনাদের হিসাবের বাইরে রাখা হয়েছে তারা স্পেশাল অপারেশন ফোর্সের সদস্য। এ পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, তথ্য উহ্য রাখার কারণ হলো কৌশলগত। নিউ ইয়র্ক টাইমসের পরিচয় উল্লেখ না করা সোর্সের মতে, আফগানিস্তানে নিযুক্ত স্পেশাল ইউনিটগুলো গোপন দায়িত্ব পালন করে, যা পেন্টাগন ও সিআইএর পারস্পরিক কাজে লাগে। এর মানে হচ্ছে, দাপ্তরিক তথ্যে সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়ার ইঙ্গিত থাকলেও মার্কিন ইন্টেলিজেন্স খুব ভালোভাবেই আফগানিস্তানে কাজ করছে।

বিষয়টি স্পষ্ট, এমন কাজ বা অভিযান হঠাৎ করে বন্ধ করে দেওয়া যাবে না, বিশেষ করে বিপত্সংকুল একটি এলাকায়, যেখানে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সম্পর্কিত বেশ কিছু মিলিশিয়া কাজ করে। যা হোক, এ কথা যদি বিবেচনায় নেওয়া যায় যে আমেরিকানরা তালেবানের সঙ্গে উন্মুক্ত আলোচনা শুরু করেছে (যারা আফগানিস্তানে সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী গ্রুপ), তাহলেও এটি স্পষ্টভাবে ধারণা করা যায় না যে ঠিক কী ধরনের কর্মকাণ্ড মার্কিন স্পেশাল ফোর্স আফগানিস্তানে করছে।

এখনো সেনাদের সংখ্যা বড় একটি সমস্যার একটি ফ্যাক্টর মাত্র; কোন তথ্যটি সঠিক আর কোন গোপন দায়িত্ব মার্কিনরা আফগানিস্তানে পালন করছে—এসব বিবেচনা ছাড়াই এ কথা বলা যায়। সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহারের সময় ঘনিয়ে আসছে, সময়টি হচ্ছে ১ মে ২০২১ এবং বাইডেনের এ ব্যাপারে ভাবার অনেক অপশন নেই। ট্রাম্প সেনা প্রত্যাহারের সূচনা করেছিলেন পেন্টাগনের বিরুদ্ধে গিয়ে। এতে একটি ন্যূনতম সংখ্যা ঠিক করা হয়েছিল, সেটি হলো আট হাজার ৬০০। মার্কিন স্বার্থকে নিশ্চিত করার জন্য তারা সেখানে থাকবে। বাইডেন (ট্রাম্পের চেয়ে বেশি ইন্টারভেনশনিস্ট হলেও) ওবামার ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা কমানোর কথাই বরাবর বলেছেন—তাঁর কথা তখন ফলেনি। এখন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি দুটি পথের একটি বেছে নিতে পারেন : তাঁর পুরনো ইচ্ছার বাস্তবায়ন করতে পারেন (ট্রাম্প এরই মধ্যে করেছেন) অথবা ইন্টারভেনশনিস্ট পলিসির পথকে কঠোরভাবে আঁকড়ে ধরে (নির্বাচনী বক্তৃতায় তিনি এমন ইঙ্গিত করেছেন) তালেবানের সঙ্গে চুক্তি করতে পারেন।

যদি বাইডেন চুক্তি করতে না পারেন, তাল মিলিয়ে চলতে ব্যর্থ হন, তাহলে তালেবান পুরো মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলা চালাবে। বাইডেন যদি ডেডলাইন সম্পর্কে আবার আলোচনা করতে চান, তাহলে তালেবান তা নাকচ করবে। বাইডেন যদি চুক্তির সংগতি রাখতে না পারেন (যা ট্রাম্প শুরু করে দিয়ে গেছেন) এবং পুরো সেনা প্রত্যাহার করেন, তাহলে মার্কিন সরকার আফগান সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক সংকট গভীরতর করবে এবং তালেবান ক্ষমতা গ্রহণের লক্ষ্যে হামলা বাড়াবে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আফগান সরকার ওয়াশিংটন ও তালেবানের সরাসরি আলোচনায় ব্যথিত হয়েছে। কারণ তারা শান্তিপ্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়েছে তাদের নিজ চৌহদ্দিতে।

দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন কূটনৈতিক সংকট ম্যানেজ করার চেষ্টা করছেন। সম্প্রতি তিনি একটি বৈঠক আয়োজন করেছিলেন তালেবান নেতৃত্ব ও আফগান সরকারের নেতাদের সঙ্গে; দুই পক্ষই এতে আপত্তি জানিয়েছে। সংক্ষেপে বললে, বাইডেন আসার সঙ্গে সঙ্গে আমেরিকার বাসনার পরিবর্তন হয়ে যায়নি। ওয়াশিংটন তালেবানের স্ট্যাটাস বাড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে, সংগঠনটিকে তারা ‘ফরমাল বেলিজারেন্ট গ্রুপ’ হিসেবে দেখতে চায়, যারা জাতীয় রাষ্ট্রের সঙ্গে দেনদরবার করতে সক্ষম। এটি করে আমেরিকা তালেবানকে সন্ত্রাসী সংগঠনের লেবেলমুক্ত করতে চায়। কিন্তু তালেবানের কর্মকাণ্ড সম্পর্কিত কিছু তথ্য আমেরিকান পরিকল্পনাকে জটিল করে তুলেছে।

সম্প্রতি তালেবান আফগানিস্তানের হেরাত শহরে হামলা চালিয়েছে। এতে সাতজন নিহত এবং ৫০ জন আহত হয়েছে। এর আগে তারা ফরিয়াব প্রদেশে হামলা চালিয়েছে এবং আধিপত্য বিস্তার করেছে; লোকাল পুলিশকে সারেন্ডার করিয়েছে এবং জনগণের মধ্যে সন্ত্রাসের আশঙ্কা বিস্তার ঘটিয়েছে। আমরা দেখতে পাচ্ছি, তালেবান তাদের অভ্যাস ত্যাগ করেনি। সন্ত্রাসী আচরণ তাদের মজ্জায় রয়ে গেছে এবং এটি আফগান সরকারের চোখে ওয়াশিংটনকে অস্থির এক পরিস্থিতির মধ্যে ফেলেছে। কার্যত মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পরদিনই আফগান সরকার বাধ্য হবে তালেবানের সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য বিকল্প অ্যালায়েন্সের সন্ধান করতে। পরিস্থিতি সত্যি অবমাননাকর। এর ফলে নিশ্চিতভাবেই একটা সময়ে আমেরিকান সরকারের সঙ্গে আফগান সরকারের সম্পর্কের ছেদ ঘটবে।

এর বিকল্প হচ্ছে, আফগানিস্তানে যে মার্কিন সেনারা দাপ্তরিকভাবে রয়েছে তাদের কাছে ফেরা এবং স্পেশাল এজেন্টদেরও রাখা (আফগান সরকারের জিম্মায় রাখা) যাতে তারা সরকারকে সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকাণ্ডে সহায়তা করতে পারে। কিন্তু এ ভাবনা বোধ হয় ওয়াশিংটনের নেই। শেষ পর্যন্ত যে ঘটনাটিকে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত মনে হয়, তা হলো আমেরিকা আফগানিস্তানে তার সামরিক উপস্থিতির ইতি ঘটাবে না। তালেবানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে স্থানীয় সরকারকে সহায়তার জন্য এই সেনাদের কাজে লাগাবে না।

লেখক : ফেডারেল ইউনিভার্সিটি অব রিও ডি জেনেইরোর আন্তর্জাতিক আইনের রিসার্চ ফেলো
সূত্র : গ্লোবাল রিসার্চ অনলাইন

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আর নিউজ
© All rights reserved © vira-l.com 2017-2022
themesba-lates1749691102
Bengali English