নির্বাচনের পর নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রতি গ্যালাপ পরিচালিত জরিপের তথ্যমতে, বাইডেনকে গ্রহণযোগ্য মনে করছেন ৫৫ শতাংশ এবং অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করছেন জরিপে অংশ নেওয়া ৪১ শতাংশ মার্কিন। এদিকে একই জরিপে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রহণযোগ্যতা ৪২ শতাংশে নেমে এসেছে। তাঁকে অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করছেন ৫৭ শতাংশ মার্কিন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের তথ্যমতে, বর্তমানে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্সির জন্য রাজনীতির মাঠে নামার পর থেকে এখন পর্যন্ত যতটা জনপ্রিয়তা পেয়েছেন, তার চেয়ে অনেক বেশি জনপ্রিয় বাইডেন। ২০১৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্সির জন্য রাজনীতির মাঠে নামেন। পাঁচ বছর কেটে গেছে। এই সময়ে ট্রাম্পের গ্রহণযোগ্য রেটিংয়ে অবস্থান অধিকাংশ সময়ই ৩০ ও ৪০-এর ঘরে ছিল। এ ক্ষেত্রে তিনি ২০১৬ সালে নির্বাচনে জয়ের পরপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ রেটিং পেয়েছিলেন। এর চেয়ে বেশি রেটিং তিনি কখনোই পাননি। বাইডেন অবশ্য এই সীমা বহুবার অতিক্রম করেছেন।
সিএনএন/এসএসআরএস, ফক্স নিউজ, নিউইয়র্ক টাইমস/সিনা কলেজসহ বিভিন্ন জনমত জরিপেই বাইডেন গ্রহণযোগ্যতার বিচারে ৫০ শতাংশের বেশি মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। সর্বশেষ গত অক্টোবরেই উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালিত জরিপে তিনি এই রেটিং পান। এ ক্ষেত্রে তিনি ট্রাম্পের থেকে আলাদা। তাঁকে যতসংখ্যক মানুষ অগ্রহণযোগ্য মনে করে, তার চেয়ে বেশি মানুষ গ্রহণযোগ্য বলে মনে করে। ট্রাম্পের ক্ষেত্রে বিষয়টি ছিল অধিকাংশ সময়ই উল্টো।
সিএনএন জানায়, ২০১৩ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার অ্যাপ্রুভাল রেটিং যেমন ছিল, এখন বাইডেনের রেটিং তেমনই। এটি খুব স্বাভাবিকও। একজন নতুন নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে তাঁর দেশের অধিকাংশ মানুষ গ্রহণযোগ্য বলে মনে করবে—এটা স্বাভাবিক। অস্বাভাবিক যা ছিল, তা মূলত ট্রাম্পের ক্ষেত্রে। নির্বাচিত হওয়ার সময় এমনকি তাঁর সর্বোচ্চ রেটিং ছিল ৫০ শতাংশ। ফলে স্বাভাবিক প্রশ্ন ওঠে, তিনি নির্বাচিত হলেন কী করে। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির ইতিহাসেই এটি ধাঁধা হয়ে থাকবে।
বাইডেনের জনপ্রিয়তা এমনকি তাঁর দল ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকেও এখন বেশি। গত অক্টোবরে পরিচালিত যে গ্যালাপ জরিপে বাইডেনের অ্যাপ্রুভাল রেটিং ৫৫ শতাংশ এল, সেই একই জরিপে ডেমোক্রেটিক পার্টির রেটিং ছিল ৪৫ শতাংশ। এটা সাধারণত দেখা যায় না। এ বিবেচনায় বাইডেন শুধু ডোনাল্ড ট্রাম্প থেকেই নন, জনপ্রিয়তায় নিজ দলকেও ছাড়িয়ে গেছেন।